হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি

রাজশাহীতে বাংলাদেশের একমাত্র হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি

 

বাগমারা বীরৎসার এই জমিদার বাড়িটি দেশের একমাএ হাজার দুয়ারী জমিদার বাড়ি। যথাযথ সংরক্ষনের অভাবে আজ ঐতিহ্য হারাতে বসেছে এটি। আগাছায় ঘেরা চারপাশ। খসে পড়ছে রং চটা পলেস্টার। ইটের ফাঁক দিয়ে দেখা মিলছে মরিচা ধরা লোহার রড। কক্ষের দরজা জানালা সবই ভাঙ্গা। তার পরও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই। ভবনটি এখন পরিবেশ দূষনের নীরব সাক্ষী। বেদখল হয়ে যাচ্ছে এর সম্পদ। জমিদার প্রথানুযায়ী তৎকালীন বীরকুৎসা ছিল একটি পরগনা । আর এই পরগনার জমিদার হলেন সুদূর কাশী থেকে আসা বিরেশ্বর বন্দ্যোপাধায় ওরফে বিরু বাবু। কথিত আছে পাশ্ববর্তী আত্রাইয়ের আমরুল ডিহি বিশার রাজা ছিলেন গোপাল ধাম। প্রভাতী বালা নামে তার এক রুপবতী কন্যা ছিল। রাজ জামাতা হওয়ার সুবাদে, রাজা গোপাল ধাম বিরেশ্বর বন্দোপাধ্যায় ও কন্যা প্রভাতী বালার নামে বীরকুৎসা পরগনা লিখেছেন। প্রভাতী বালা হলেন, একজন সৌখিন মানুষ। তার পছন্দ অনুযায়ী বিরু বাবু বীরকুৎসায় গড়ে তুলেন একাট সুরম্য অট্রালিকা। এর মাঝে ছিল শ্বেত পাথরের আবৃত এক হাজারটা দুয়ার ,সেগুলো সেগুন কাঠের কারুকাজ করা । দরজা গুলো তিনটি স্তরে সাজানো ছিল। প্রথমে কাঠ তার পর লোহার গ্রিল, ও দামি কাঁচে মোড়ানো ছিল। রানী প্রভাতী বালা প্রসাদের সমস্ত দরজা, মেঝে, আসবারপত্র, চাকর, বাকরদের দিয়ে ধুয়ে, মুছে ঝকঝকে করে রাখতেন। বিরু বাŸু আরও দুই ভাই দূর্গা বাবু ও রোমা বাবু এই প্রাসাদেই থাকতেন। প্রসাদের সামনে ছিল বাহারি ফুলের বাগান । স্থানীয়রা আজ তা দখল করে, সেখানে মাকের্ট নিমান করেছে। প্রাসাদের পশ্চিম দিকে খিরকি দরজা পার হয়ে সান বাঁধানো একটি বিরাট পুকুর ছিল। সেই পুকুরে শুধু জমিদার পরিবারই গোসল করতো। এই পুকুরও আজ বেদখল হয়ে গেছে। প্রাসাদের ভেতরে এক পাশে ছিল জলসা ঘর। সেখানে বসতো গানের আসর। কলকাতা থেকে ভোলানাথ অপেরা এসে গান, বাজনা করতো। পূর্ব দিকের দেউরির পাশে ছয় জন করে, বার জন বরকান্দাজ থাকতো। তার পাশে ছিল মালখানা। এর কিছুু দূরে ছিল মাহাফেজখানা। বকুল তোলার পাশে, ছিল খাজনা আদায়ের ঘর, যা এখন তফসিল অফিস হিসাবে ব্যবহার হচ্ছে। এর পাশে ছিল পূজা মন্ডপ, যেখানে স্থাপিত হয়েছে, পোষ্ট অফিস। ভবনের ভেতরে অনেক কক্ষ আজ ফাঁকা হয়ে পরে আছে। দামি শ্বেত পাথর, উন্নত কাঠের দরজা, গ্রিল এবং কাঁচ প্রায় সবই চুরি হয়ে গেছে। প্রাসাদের পূর্বের দেউরি পার হয়ে সামনে আরেকটা বড় পুকুর ছিল। এখানে গোসল করতো আমলা ,পেয়াদা ও বরকন্দাজরা। সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকাশে প্রসাদের ভেতরে বসেছে জুয়ার আসর। আর রাতে চলে নেশার আড্ডা। প্রাসাদের কাছে ১৯১৭ সালে জমিদার বিরু বাবুর দাদা অবিনাশের নাম অনুসারে বীরকুৎসা অবিনাশ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্টিত হয়। হাজার দুয়ারীর চারপাশে সহ বিভিন্ন জায়গায় জমিদারের ফেলে যাওয়া ৫০০ বিঘা জামি স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিভিন্ন ভাবে দখল করে রেখেছে। বাকি জমি যে যেভাবে পেয়েছে দখল করে নিয়েছে। দেশ ভাগের পর ১৯৫০ সালে রেন্ট রোল অ্যাক্টের বলে, জমিদারি প্রথা উঠে যায়। এই বিশাল অট্রালিকা বিপুল সম্পদ ও জমিজমা ফেলে বিরু বাবু স্বপরিবারে ভারতে চলে যান। বিরু বাবু চলে যাওয়ার পর স্থানীয় কয়েক জন মিলে জমিদার বাড়ির অনেক জিনিস, পত্র বিক্রি করে দেয়। সূএে জানা যায়, প্রাসাদের মূল অংশ এখনো ভাল রয়েছে। এছারা এখানকার সবকিছু মিলে প্রায় ১০ কোটি টাকার সম্পদ বেদখল হয়ে গেছে।প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে এই হাজার দুয়ারীর ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার জন্য সরকারের সুনজর দরকার বলে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা।