রাবি’র সেই অস্ত্রধারীরা ক্যাম্পাসে ঘুরছে,শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক

রাবি প্রতিনিধি : আধিপত্য বিস্তার নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) পুলিশের সামনে প্রকাশ্যে গোলাগুলির পরও ছাত্রলীগের সেই নেতারা ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর এতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
সংঘর্ষের সময় যাদের সবেচেয়ে বেশি গুলি ছুঁড়তে দেখা গেছে তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের বহিস্কৃত সহ-সভাপতি আখেরুজ্জামান তাকিম, বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদ আল হাসান তুহিন, উপ-দপ্তর সম্পাদক আতিকুর রহমান, উপ-গণশিক্ষা সম্পাদক নাসিম আহমেদ সেতু, ছাত্রলীগ নেতা রাজিব ও মোবাশ্বের আহমেদ তানিম অন্যতম।
এদের মধ্যে তাকিম ও তুহিন বৃহস্পতিবার প্রেমিকা নিয়ে ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়িয়েছেন বলে জানায় প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে গুলিবর্ষণকারীদের পুলিশ খুঁজে পাচ্ছে না বলে দাবি করেছেন মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার এসএম মনির উজ জামান। তাদের ছাড় দেয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
এদিকে, মঙ্গলবার ক্যাম্পাসে গোলাগুলির ঘটনায় মতিহার থানায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি মামলা দায়ের করা হলেও এতে কোনো আসামির নাম উল্লেখ করা হয়নি। পুলিশের কনস্টেবল বাবর আলী হয়ে মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলায় পুলিশের কাজে বাধাদান ও হামলা এবং বিস্ফোরণের অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানান মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান।
তিনি বলেন, অস্ত্রধারীদের কাউকে পুলিশ চিনতে পারেনি। তাদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পরই গ্রেপ্তার করা হবে।

প্রসঙ্গত, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পদ্মা সেতুর জন্য টাকা সংগ্রহ নিয়ে গত ১৫ জুলাই ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন ছাত্রলীগকর্মী ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ৪র্থ বর্ষের ছাত্র আব্দুল্লা-হিল সোহেল। এ ঘটনার নেতৃত্বেও ছিলেন এই তাকিম।

ওই ঘটনার দায়ে তাকিম ও তুহিনকে দল থেকে বহিস্কার করা হলেও থেমে নেই তাদের অস্ত্রবাজি। সেতু ও আতিক নিজ দলের কর্মী সোহেল হত্যা মামলার আসামি। তুহিন একাধিক চাঁদাবাজি ছাড়াও ডাকাতির অভিযোগেও তার নামে মামলা রয়েছে।

ক্যাম্পাসে অস্ত্রধারীদের ব্যাপারে ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক গোলাম সাব্বির সাত্তার তাপু বলেন, ‘এরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের প্রকৃত পরিচয় দুষ্কৃতকারী। শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের সন্ত্রাস চলতে পারে না।’

এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা। পুলিশের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে, ভর্তিচ্ছুরা ক্যাম্পাসে এসে ছাত্রলীগের কাছে চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সকালে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের ক্যান্টিনে নাস্তা খেয়ে বের হওয়ার সময় এক ভর্তিচ্ছুর কাছ থেকে ২০ টাকা চাঁদা নিয়েছে ছাত্রলীগকর্মী ডেভিট। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়।

অন্যদিকে, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের কয়েশ’ নেতা-কর্মী ক্যাম্পাসে শোডাউন দেয়। তবে, ছাত্রশিবির মঙ্গলবারের ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসে ঢুকতে পারেনি।