মানিকগঞ্জে যমুনার ভাঙনে নদীগর্ভে স্কুল-বাজার,ভাঙ্গন রোধে নেই কোন উদ্যোগ

Copy of nodi vangonমানিকগঞ্জ সংবাদদাতা :
যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়ে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার জাফরগঞ্জ ও এর আশপাশের এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় এবং স্থানীয় হাট-বাজার ও ধুবলিয়া গ্রাম ভাঙনের কবলে পড়েছে। সর্বনাশা যমুনার কড়াল গ্রাসে জেলার মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাচ্ছে একের পর এক গ্রাম। ঘর-বাড়ী হারিয়ে অসহায় দিন কাটাচ্ছে শত শত পরিবার । একটু আশ্রয় এর জন্য ঘুরে বেড়াতে হচ্ছে যত্রতত্র। এমনি ভাবে দীর্ঘদিন যাবত ভাঙ্গনের শিকার হয়ে আসছে শিবালয় উপজেলার বেশ কিছু অঞ্চলের মানুষ।
যমুনার ভাঙ্গনে হুমকির মধ্যে রয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, মসজিদ-মাদ্রাসা, আবাদী জমিসহ অন্তত ১০টি গ্রাম। ভাঙনরোধে এ বছর পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ সংশ্লিষ্টরা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ভাঙনরোধে দ্রুত জিও ব্যাগ ফেলাসহ কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
গত দেড় যুগে যমুনা নদীর অব্যাহত ভাঙনে এ উপজেলার সাতুরিয়া, গোপালপুর, গোয়ারিয়া, জাফরগঞ্জ ঘোষপাড়া, বেপারীপাড়া, হাজীপাড়া ও পার্শ্ববর্তী দৌলতপুর উপজেলার রাহাতপুর, জোতকাশি, কুটিপাড়া, পাচুরিয়া, মুনসিকান্দিসহ বিভিন্ন গ্রাম বিলীন হয়েছে গেছে। ভাঙনের কবলে পড়ে স্থানান্তর করা হয়েছে বেশক’টি শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজার।
বিগত দিনে নদী ভাঙনরোধে সরকারিভাবে কোনো উদ্যোগ নেয়া না হলেও ক’বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড শুধুমাত্র জাফরগঞ্জ হাট-বাজার ও উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলে। এতে ভাঙন কিছুটা রোধ করা গেলেও স্থায়ী ব্যবস্থা না নেওয়ায় এ বছর আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে।
ক’বছর ধরে এ হাট-বাজারটি ভাঙনের কবলে পড়েছে। এ বছরও ভাঙনের কবলে পড়ে জাফরগঞ্জ হাট-বাজারের জামে মসজিদ ও মন্দিরসহ অন্তত ১৫টি দোকানঘর সরিয়ে নিতে হয়েছে। হাট-বাজারটির পশ্চিম পাশে ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে বাঁশ ও বনের বাঁধ দেয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়।
এতে ওই দিকে ভাঙন না থাকলেও হাট-বাজারটির উত্তর দিক থেকে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। জাফরগঞ্জ থেকে কাটাখালী ও শ্যামগঞ্জ যাওয়ার রাস্তা ভেঙে গেছে। এ রাস্তায় একটি ব্রিজ ছিল। সেটিও ভেঙে পড়ে ক’দিন আগে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
জাফরগঞ্জ হাট-বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ জানান, জাফরগঞ্জ বন্দরে সপ্তাহে দুদিন হাট বসতো। প্রায় ১০ বছর আগে বন্দরটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেলে জাফরগঞ্জ বাজারে হাট বসছে। ব্যবসায়ীরাও এ হাট-বাজারে স্থায়ীভাবে দোকানঘর তুলেছে।
জাফরগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আবদুর রহমান জানান, বিদ্যালয়ের পশ্চিম-উত্তর দিকের দ্বিতল ভবন থেকে নদী দুই হাত দূরেই। ভবনটি ভেঙে পড়ার উপক্রম হওয়ায় রমজানের ছুটির মধ্যেই মঙ্গলবার দুপুর থেকে ওই ভবনের নিচ তলার ষষ্ঠ, সপ্তম এবং দ্বিতীয় তলায় দশম ও নবম শ্রেণির থেকে আসবাবপত্র সরিয়ে নেয়া হচ্ছে।
আর বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বাঁশের বাঁধ দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল। নদীর স্রোত ও গভীরতার কারণে তা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
এদিকে, জাফরগঞ্জ হাট-বাজারের একশ’ গজ দক্ষিণে গোয়ারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও কমিউিনিটি ক্লিনিকের পাকা ভবন হুমকির মুখে পড়েছে। যে কোনো সময় নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন প্রতিষ্ঠান দুটির কর্মরতরা।
এ ব্যাপারে সদ্য যোগদানকারী মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক রাশিদা ফেরদৌসী জানান, গত শনিবার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে তিনি ওই ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ভাঙনের বিষয়টি তিনি পরিদর্শনকালেই ফোনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। জরুরি ভিত্তিতে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।