মোদি সরকার সম্পর্কে মুসলিমদের ভীতি কতটা সত্যি?

modi_42946_82428বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি স্বীকার করলেন যে, মোদির বিজেপি সরকার সম্পর্কে ভারতীয় মুসলিম সমাজে একটা ভীতির মানসিকতা কাজ করছে৷ সে কারণেই গত ২৬ জুন সর্বভারতীয় ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের দিল্লি শাখার সভাপতি সিরাজুদ্দিন কোরেশির সঙ্গে বৈঠকে মোদি তাদের ‘ভয়ের রাজনীতি’ থেকে বেরিয়ে আসার কথা বলেন৷ বৈঠকের পর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এমনটিই উঠে এসেছে৷

বৈঠকের পরে কোরেশি সংবাদমাধ্যমের কাছে এর বিশদ ব্যাখ্যা দেন, যার সারমর্ম হলো কোনো সন্ত্রাস মামলায় মুসলিম যুবকদেরই কেন জড়ানো হয়? তারা এবং তাদের পরিবারকে হয়রানির শিকার হতে হয় কেন? এই অভিযোগ প্রধানমন্ত্রী খতিয়ে দেখার জন্য বিশিষ্ট ব্যক্তিদের নিয়ে একটি কমিটি গঠনের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে৷এর অন্তর্নিহিত অর্থ এই যে, সব সন্ত্রাসে ভারতীয় মুসলিমদের যেমন সন্দেহ করা হয়, তেমনি এ কথাও সত্য যে তারা সবসময় সন্দেহের বাইরেও থাকেন না৷

তবে একথা সত্যি এবারের ১৬তম লোকসভায় ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের ভোট পেয়েছে  বিজেপি। এজন্য মোদি কোরেশির প্রশংসা করেছেন৷

১৯৫০ সালে গুজরাটের নিম্নবিত্ত এক ঘাঞ্চি পরিবারে জন্ম নেয়া নরেন্দ্র মোদি কৈশোরে বাবাকে সাহায্য করতে রেল ক্যান্টিনে চা বিক্রি করেছেন৷ ছাত্র হিসেবে সাদামাঠা হলেও মোদি বিতর্কে ছিলেন ওস্তাদ৷ ১৯৭১ সালে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ বা আরএসএস-এর প্রচারক হিসাবে রাজনীতির দরজায় পা রাখেন মোদি৷

সাচার কমিটির রিপোর্টে সংখ্যালঘু ভারতীয় মুসলিমদের বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দেবার সুপারিশ করা হয়৷ মোদি মনে করেন, ভারতীয় মুসলিমদের শিক্ষা শুধু মাদ্রাসা-কেন্দ্রিক না হয়ে আধুনিক শিক্ষাকেও গ্রহণ করা উচিত৷

তাহলে প্রশ্ন উঠে ভারতের মুসলিম সমাজের মানসিকতায় বিজেপি বা হিন্দুত্ববাদী সংঘ পরিবারের মতাদর্শ সম্পর্কে ভীতি জন্মানোর জন্য দায়ী কে বা কারা? এক্ষেত্রে প্রথমেই আঙুল উঠে বিজেপি বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির প্রতি৷ প্রথমত, তারা ভোটব্যাংকের জন্য বিজেপি সম্পর্কে মুসলিমদের মন বিষিয়ে তোলে৷ দ্বিতীয়ত, মোদির কথাবার্তা বা হাবভাব সর্বদাই মুসলিম-বিরোধী৷ এই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে চান বিরোধীরা। সাম্প্রদায়িক হিংসা ও দাঙ্গা ছড়ানোর অভিযোগে বহু কমিশন বসে সংঘ পরিবারের বিরুদ্ধে৷

স্বাধীনতা পরবর্তীকালে ১৯৬১ সালে মধ্যপ্রদেশের জব্বলপুরে প্রথম বড় ধরনের সা¤প্রদায়িক দাঙ্গা বাধে৷ সাম্প্রতিককালে ৯০-এর দশকে বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানির রথযাত্রা, অযোধ্যার বাবরি মসজিদ ভাঙা এবং ২০০২ সালে গুজরাট দাঙ্গা উল্লেখ করার মতো। এরপর দীর্ঘদিন তেমন কোন উল্লেখযোগ্য ভয়াবহ ঘটনার জন্ম দেয়নি দলটি।

তবে মোদি সরকারের ৩০ দিনের শাসনে সংখ্যালঘু মুসলিমদের মন থেকে কি শঙ্কা দূর হয়েছে? ফিরে এসেছে কি তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ? না আসেনি৷

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজেপি ক্ষমতা আসায় তাদের মনে আরো বেশি ভয় ঢুকেছে৷ তবে এ কথা সত্য যে, এই ৩০ দিনে বড় কোনো সাম্প্রদায়িক ঘটনা ঘটেনি৷

ভারতের হরিয়ানা এবং মহারাষ্ট্রে ২০১৪ সালেই বিধানসভা ভোট৷ বিজেপি ২০১৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের বিভেদকামী লাইনেই দলীয় কর্মকৌশল স্থির করবে বলে অনুমান করা হচ্ছে৷সাধারণ নির্বাচনের সময় মুজাফ্ফরনগরে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার পর মোদির সেখানে যাওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি সেখানে যাননি৷ বরং যাদের বিরুদ্ধে দাঙ্গা ঘটানোর অভিযোগ ছিল তাদের সম্বর্ধনা সভাতে উপস্থিত ছিলেন নরেন্দ্র ৷ তাই এ নিয়েও মোদির বিরুদ্ধে সমালোচনা কম হয়নি।

এখন দেখার বিষয় মোদি সরকারের বাকি সময় কি ঘটে মুসলিমদের ভাগ্যে? বিজেপি কি পারবে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দূর করতে? না পূর্বের মত বা তার চেয়েও ভয়াবহ রূপ প্রকাশ করবে। তাহলেই বোঝা যাবে এই ভীতির বাস্তব ভিত্তি কতটা সত্য? আর কী ধরনের ভীতি এটা? সূত্র: ডি ডব্লিউ