দক্ষিণাঞ্চলের জেলেরা জলদস্যু আতঙ্কে

khulna-001খুলনা থেকে ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল ঃ বর্তমানে দক্ষিণের উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা জলদস্যু আতঙ্কে ভুগছে। তারা বঙ্গোপসাগরে জানমালের ঝুঁকি নিয়ে শিকার করছে মাছ । আবার অনেকেই প্রতিনিয়ত জলদস্যুদের হামলা, অপহরণ, জেলেদের মেরে ফেলার কারণে মাছ ধরতে যেতে সাহস পাচ্ছেন না। গত ২ মাসে প্রায় পাঁচ শতাধিক জেলে ও ট্রলার জলদস্যুরা অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় করেছে। মুক্তিপণ না পেয়ে জেলেদের মারধর করা সহ মেরে ফেলা হচ্ছে। ইলিশ মওসুম শুরুতেই প্রতিনিয়ত অপহরণ মুক্তিপণ দাবি জলদস্যুদের নির্যাতন দিন দিন বাড়ছে।মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টোকেন সংগ্রহ ছাড়া সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না জেলেরা। টোকেন ছাড়া জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে গেলে জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হতে হয়। কোস্টগার্ড-র‌্যাবের টহল থাকা সত্ত্বেও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য বেড়েই চলছে। সমুদ্রের উপকূল ভাগে নৌ-বাহিনীর টহল জোরদার করার দাবি জেলেদের।সমুদ্র উপকূলীয় এলাকার মৎস্যবন্দর আলীপুর, মহিপুর, গলাচিপা, বরগুনা, ভোলা সহ পটুয়াখালী ও কুয়াকাটা এলাকায় লক্ষাধিক জেলে ট্রলার বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরে দেশের মৎস্য চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে। এসব জেলে পরিবারের লাখ লাখ মানুষ মাছের উপর নির্ভরশীল।শুধু জেলে পরিবারই নয়, কয়েক হাজার মৎস্য আড়ত, মৎস্য আমদানি রপ্তানি ও বাজারজাত প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। জলদস্যুদের সাগরে জেলেদের উপর হামলা, অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি এবং জেলেদের হত্যা সহ নানা নিপীড়ন করায় সাগরে মাছধরা পেশা থেকে সরে আসছে জেলেরা।কুয়াকাটার এফবি নুরবানু ট্রলার মাঝি মন্নান জানান, তিন মাস আগে তার ট্রলারসহ ৮ জেলেকে অপহরণ করে নিয়ে যায় জলদস্যুরা। জনপ্রতি ১লাখ থেকে ২লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তারা ফিরে এসেছেন। যারা মুক্তিপণ দিতে পাছেন না তাদেরকে অমানুষিক নির্যাতন করছে দস্যুরা। পাথরঘাটার ইউনুছ মাঝি জানান, জলদস্যুদের ভয়ে তারা এক মাস ধরে সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছে না। ঘাটে বসে অলস সময় কাটাচ্ছেন। জীবন বাঁচাতে অনেক জেলেই ঝুঁকি নিয়ে সাগরে মাছ ধরতে গিয়ে বিপদে পড়ছেন।ভোলা চরফ্যাশনের জেলে মাঝি মো. ফারুক হোসেন জানান, বিকাশের মাধ্যমে ১-২ লাখ টাকা পাঠিয়ে দিয়ে সাগরে মাছ ধরার টোকেন সংগ্রহ করতে হয় তাদের। অন্যথায় জলদস্যুদের হামলার শিকার হতে হয় জেলেদের। কারা টাকা নিচ্ছে এ তথ্য সাংবাদিকদের তারা দিতে রাজি হচ্ছে না নিরাপত্তার কারণে।ফারুক হোসেন জানান, প্রতিটি মৎস্য বন্দরে ছদ্ম বেশে জলদস্যুদের লোক রয়েছে। তারা কোন ট্রলার টোকেন না নিয়ে সাগরে যাচ্ছে তা জানিয়ে দিচ্ছে দস্যুদের। কুয়াকাটা-আলীপুর মৎস্য আড়তদার সমিতির সভাপতি আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, গত আট দশ দিন আগে নুর আলম মাঝিসহ আরও একজন এখনও ডাকু রসিদ দারোগার কাছে বন্দি রয়েছে। আমাকে মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে বলে তোরতো ট্রলার আছে ওই মাঝিমাল্লাদের সাবধানে রাখবি যদি ধরা পড়ে সুদে আসলে উসুল করবো।তিনি জানান, একদিকে জলদস্যু অপরদিকে মাছ গাড়িতে গেলে দলীয় লোকজন ও প্রশাসনের চাঁদাবাজিতে জেলেরা ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা এখন শঙ্কিত হয়ে পড়ছে। আবার মৎস্য আড়তদার সমিতি কোস্টগার্ড সহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন করেও কোনো সুফল পাচ্ছে না।এ বিষয় মহিপুর জোন কোস্টগার্ড কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, এ ধরনের কাহিনী শোনা যায়, তবে আমি এখানে আসার পর এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি।