লালমনিরহাটে ২৩টি সেতু অরক্ষিত, ১৪টি সেতু নির্মাণ হয়নি ৪৩ বছরেও

lalmonirhat-10এস,এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ সীমান্ত জেলা লালমনিরহাট স্বাধীনতার পর থেকেই অবহেলিত জনপদ।  এ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ৪৩ বছরেও ১৪টি সেতু নির্মিত হয়নি। এতে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হাজারো মানুষকে। তেমনি অরক্ষিত ২৩টি সেতু দিয়ে চলাচলকারী মানুষ প্রায়ই পড়ছেন দুর্ঘটনার কবলে। অত্র জেলার অন্যতম প্রধান সড়ক লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক। চার উপজেলার প্রায় ১২ লাখ মানুষের যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম এই মহাসড়কটি এখন মৃত্যু ফাঁদ। মহাসড়কের আদিতমারীর স্বর্ণামতি সেতুটি আট বছর আগে সড়ক বিভাগ ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করলেও হয়নি পুনর্র্নিমাণ। ঝুঁকিপূর্ণ এ সেতু দিয়ে প্রতিদিন পারাপার হচ্ছে হাজার হাজার গাড়ি। যে কোনো সময় সেতুটি ধসে ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি। সেতুটি প্রসঙ্গে সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, ‘আমি নিরুপায়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বার বার চিঠি লিখেও কাজ হচ্ছে না।’হাতীবান্ধা-বড়খাতা সড়কে চিলাখালের ওপর নির্মিত সেতুটিরও একাংশ ডাবিয়ে গেছে। অথচ কাজ সম্পন্নের নির্ধারিত সময় শেষ হয়েছে প্রায় দেড় বছর আগে। ২০০৭ সালের বন্যায় মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাতীবান্ধা হাটসংলগ্ন চিলাখাল সেতুটি। ডাবিয়ে যায় এর একাংশ। তখন কর্তৃপক্ষ এ সেতু দিয়ে ভারী যান চলাচল নিষিদ্ধ করে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা দেন। ২০১০ সালে ব্রিজটি নির্মাণে দরপত্র আহ্বান করা হয়। ২০১১ সালের জুলাইয়ের মধ্যে এর নির্মাণ সম্পন্ন করার শর্ত কার্যাদেশে উল্লেখ থাকলেও তা মানছে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত সময়ের প্রায় দেড় বছর অতিবাহিত হলেও অসমাপ্ত রয়েছে বেশিরভাগ কাজ। হাতীবান্ধা উপজেলা প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, সেতুটি নির্মাণে প্রয়োজনী অর্থ বরাদ্দ না থাকায় অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। শুধু এ তিনটি সেতুই নয়, এ জেলার অন্যান্য ২০টি সেতুরও একই অবস্থা।

লালমনিরহাট এলজিইডি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান বলেন,অর্থ স্বল্পতা আর স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অলসতার অভাবেই এর মূল অন্তরায়।