পরষ্পরকে বোঝার সফরে সুষমা ঢাকায়

image_87857_0_81147বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজের ঢাকা সফরে কোনও চুক্তি বা উল্লেখযোগ্য ঘোষণার কোনও সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রকের অফিসাররা। তারা জানিয়েছেন, এই সফর আসলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সৌজন্য সফর। তবে এ সফর ভারত ও বাংলাদেশ পরষ্পরকে বোঝার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে। ভারতে বিপুল জনমত নিয়ে ক্ষমতায় আসার পরই প্রধানমন্ত্রী প্রতিবেশিদের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন অধ্যায় রচনার যে নীতি গ্রহণ করেছেন তারই অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ভারত বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই সুষমা স্বরাজ তার প্রথম একক সফর হিসেবে ৪০ ঘন্টার জন্য ঢাকায় পদার্পণ করছেন। এই সফরে এসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের নানা দিক নিয়ে আলোচনা করবেন। আলোচনা হবে বকেয়া সমস্যাগুলি নিয়েও। তবে ভারতের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত ইউপিএ সরকারের আমলে গৃহীত সিদ্ধান্তগুলিকে এই সরকারও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলে জানাবেন বলে মনে করা হচ্ছে। ইউপিএর আমলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক উচ্চ মাত্রায় পৌঁছেছিল। বাংলাদেশও ভারতের নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় সদর্থক ভুমিকা পালন করেছিল। ভারত সেকথা বারে বারে স্বীকারও করেছেন। নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে শেখ হাসিনা যখন ফোন করেছিলেন তখন নরেন্দ্র মোদী এ ব্যাপারে বাংলাদেশের নীতি অপরিবর্তিত রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু বাংলাদেশকে দেয়া প্রতিশ্রুতি ভারতের গত সরকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে পূরন করতে ব্যর্থ হয়েছে। সেইসব প্রতিশ্রুতি পূরণে ভারত কতটা আন্তরিক তা বাংলাদেশ সরকারের বুঝে নেবার একটা সুযোগ তৈরি করেছে এই সফর। আর সেক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর দুই উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভি ও মশিউর রহমানের সঙ্গে আলাদাভাবে সুষমা স্বরাজের বৈঠক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। অনুপ্রবেশ নিয়ে ভারতের সঠিক মনোভাব কি তাও সম্ভবত বাংলাদেশকে জানানো হবে। কেননা, নির্বাচনী প্রচারে আসাম ও পশ্চিমবঙ্গে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশিদের বিতাড়নের কথা বলেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে কিনা তাও স্পষ্ট হবে এই সফরে। তবে বাংলাদেশের মানুষের যাতায়াতে ভিসা নীতি সরল করার পরিবর্তে ভারত যেভাবে কঠোর মনোভাব গ্রহণ করেছে তা নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে সূষমা স্বরাজ বিরোধী দলীয় নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকে কি ধরণের মনোভাব ব্যক্ত করেন সেদিকেও সকলের নজর থাকবে। ইতিমধ্যেই বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে বৈঠকের সময় নির্ধারণ হয়েছে বলে জানা গেছে।