তিস্তার ভাঙন ঠেকাতে ৫ পশু কোরবানী : ১ লাখ ৬০ হাজার ময়দার গুটি ফেলে ফরিয়াদ

48717_000বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি এক ব্যতিক্রমি ঘটনা ঘটেছে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলে। স্থানীয় অধিবাসীরা ও ভারতীয় হলদিবাড়ী পীর সাহেবের নাতী দাবিদার সৈয়দ শামসুল হক (৫৭) নামের এক হুজুর তিস্তার ডান তীরে প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার মধ্যে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পাঁচটি স্থানে পাঁচটি ছাগল কোরবানী করেন। ওই পাঁচ স্থানে পাঁচজন কোরআনের হাফেজ কোরআন তেলওয়াত করা শুরু করেন। এরই মধ্যে দহগ্রামের মহিমপাড়া এলাকায় তিস্তার পশ্চিম-উত্তর পাশ থেকে নৌকায় উঠে আড়াই মণ ময়দার তৈরি এক লাখ ৬০ হাজার মার্বেলের মতো আল্লাহু লেখা সম্বলিত বড়ি, দোয়া পড়তে পড়তে তিস্তা নদীর পানিতে দেয়া শুরু করে একই গ্রামের পশ্চিমবাড়ির ভাটি পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় দুই দফায় মোট চারবার করে বড়ি পানিতে ফেলা হয়। দহগ্রামে নদী ভাঙন ঠেকাতে সকাল সাড়ে ৮টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তিস্তায় চলে আল্লাহু লেখা বড়ি ফেলার কাজ। এরপরই দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা মহিমপাড়া পশ্চিমবাড়ী মুর্শিদাবাদী হলদিবাড়ী একরামুল হক (রহ.) খানকা শরিফ ও মক্তবের সামনে কবর জিয়ারত শেষে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন হলদিবাড়ী পীর সাহেবের নাতী দাবিদার বুজুর্গ সৈয়দ শামসুল হক। এ সময় তিস্তার ভাঙন থেকে দহগ্রামবাসীকে রার জন্য মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান।
এছাড়াও বাংলাদেশে বসবাসকারী সবার জন্য মঙ্গল কামনা করেও মোনাজাত করা হয়। তবে সেখানে জনপ্রতিনিধিদের কাউকে দেখা না গেলেও দহগ্রামের প্রবীন সাবেক ইউপি সদস্য কফিল উদ্দিনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
উপস্থিত মহিমপাড়া এলাকার মতিউল ইসলাম(২৭) নামের এক যুবক বলেন, ‘সরকার ২শ মিটার নদীর বাঁধ দিয়ে আর কোনো খবর নিচ্ছে না। তিস্তার ভাঙনে দহগ্রাম ছোট হয়ে আসছে। তাই স্থানীয় লোকজনের উদ্যোগে ও হুজুরের মাধ্যমে নদী ভাঙন ঠেকাতে কোরআন তেলাওয়াত, কোরবানী, দোয়া মাহফিল ও আল্লাহু লেখা এক লাখ ৬০ হাজার ময়দার গুটি তিস্তায় ফেলে ভাঙন থেকে রার জন্য আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানানো হয়েছে। আল্লাহ চাইলেই সবকিছু করতে পারেন, এজন্যই এই ব্যতিক্রমী আয়োজন করা হয়েছে।’
এই ধরনের পদ্ধতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বুজুর্গ সৈয়দ শামসুল হক বলেন, ‘আমরা আল্লাহ তা’য়ালার কেতাব অনুসরন করে কোরবানী, আল্লাহু লেখা ময়দার গুটি তিস্তায় ফেলে সৃষ্টিকর্তা মহান আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানিয়েছি। আল্লাহ যদি কবুল করেন, তাহলে অবশ্যই নদী ভাঙন বন্ধ বা নদী সরে যেতে পারে। যেহেতু সব কিছুরই সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা’য়ালা সেহেতু রক্ষারও মালিক তিনি। অতএব, আল্লাহ ইচ্ছা করলেই দহগ্রামের ভাঙন রোধ করতে পারেন।’