লালমনিরহাটে অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন

lalmonihatএস,এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ লালমনিরহাটে গণপূর্ত ও পৌরসভার অনুমোদন ছাড়াই গড়ে উঠছে বহুতল ভবন। এসব ভবন নির্মাণে মানা হচ্ছে না ‘ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড’। এছাড়া নিম্নমানের উপকরণ দিয়ে ভবন নির্মাণ করায় জনজীবনে নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে।

জানা গেছে, বহুতল ভবন নির্মাণে ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড বিধিমালা ও আইন রয়েছে। এছাড়া ভবন নির্মাণের জন্য গণপূর্ত বিভাগ ও স্থানীয় পৌরসভার কাছ থেকে অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু সরকারকে রাজস্ব ফাঁকি দিতে এখানকার জমির মালিকরা তা মানছেন না। তারা নিজেদের ইচ্ছামতো নকশা তৈরি করে বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। সূত্র জানায়, পৌর এলাকার ৯৮ শতাংশ ভবন মালিক বিল্ডিং কোড না মেনে ভবন নির্মাণ করেছেন। রানা প্লাজা ভবন ধসের পর বিল্ডিং কোড মেনে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে কিনা তা তদারকিতে সরকারের নজরদারি বাড়লেও লালমনিরহাটে এর কোনো প্রভাব দেখা যায়নি। ফলে এলাকার বহু ভবনে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে ভূমিকম্পসহ জননিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।

লালমনিরহাট গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ইমারত নির্মাণ আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী লালমনিরহাট সদর ও পাটগ্রাম পৌরসভার নগর পরিকল্পনা কর্মকর্তারা নকশা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বহুতল বা পাকা ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। এছাড়া উপজেলা বা ইউনিয়ন পর্যায়ে জেলা গণপূর্ত বিভাগের সুপারিশে জেলার ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড কমিটি বহুতল ভবন নির্মাণের অনুমোদন দেয়। কিন্তু লালমনিরহাটের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী, কালীগঞ্জ, হাতীবান্ধা, ও পাটগ্রাম উপজেলার বহুতল ভবন বা পাকা ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে কোনো অনুমোদন নেয়া হয়নি। এছাড়া বিভিন্ন করপোরেট কোম্পানির কারখানা পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র ছাড়াই গড়ে উঠছে। এসব কোম্পানির কল-কারখানা স্থাপনে কৃষিজমি ব্যবহার নীতিমালাও মানা হচ্ছে না।

লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক সাফায়েত হোসেন বলেন, ফসলি জমিতে কল-কারখানা স্থাপনে বাধা দিলেও ওপর মহলকে ম্যানেজ করে ক্ষমতাশালীরা তাদের কাজ ঠিকই করে নিচ্ছে। এতে আমাদের করার কিছুই থাকে না।

লালমনিরহাট সদর পৌরসভার নগর পরিকল্পনাবিদ এএসএম আশরাফুজ্জামান তালুকদার বলেন, আগে কি হয়েছে জানি না। তবে এখন ভবন নির্মাণ করতে পৌরসভার অনুমতি নিতে হবে। নতুবা জমির মালিকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। লালমনিরহাট পৌরসভার মেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ‘পৌর এলাকায় অনেক বহুতল ভবন আমার দায়িত্বের আগে নির্মিত হয়েছে। এখন আগের মতো নিয়ম লঙ্ঘন করে ভবন হচ্ছে না।

লালমনিরহাট গণপূর্ত অধিদফতরের নির্বাহী প্রকৌশলী এবিএম হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘লালমনিরহাট ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড অনুমোদন কমিটির সভাপতি জেলা প্রশাসক। আমি সদস্য সচিব। আমার জানামতে, সরকারি ভবন ছাড়া ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত বহুতল ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে গত ৪৩ বছরেও কোনো আবেদন জমা পড়েনি। এছাড়া লালমনিরহাট ও পাটগ্রাম পৌরসভা ব্যতীত জেলার পাঁচ উপজেলায় কতগুলো বহুতল ভবন রয়েছে, এরও কোনো পরিসংখ্যান বা তথ্য আমাদের কাছে নেই।’

লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ‘লালমনিরহাটে বহুতল ভবন নির্মাণের জন্য এখন পর্যন্ত আমরা কোনো আবেদনপত্র পাইনি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন তিনি।’