গাইবান্ধায় বিভিন্ন পয়েন্টে নদীভাঙ্গন

gaibandhaগাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডলঃ গত চারদিনের অবিরাম বর্ষনে কিছুটা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার জনজীবন। সেইসাথে জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনার ২৪টি পয়েন্টে নদীভাঙ্গনে তীব্রতাও বেড়েছে। গত এক সপ্তাহের নদীভাঙ্গনে জেলার ৩টি উপজেলার ২ হাজার পরিবার বসতভিটা হারিয়ে বিভিন্নস্থানে আশ্রয় নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে চরম কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। চলতি সপ্তাহে অবিরাম বৃষ্টিপাতের ফলে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানিও বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। এতে করে পানি স্রোতে জেলার সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া, গুয়াবাড়ি, দক্ষিণ দিঘলকান্দি, পাতিলবাড়ি, ছিপিগাড়ামারা, কুমারপাড়া ফুলছড়ি উপজেলার জামিরা, দেলুয়াবাড়ি, গাবগাছি, টেংরাকান্দি, খোলাবাড়ি, নিশ্চিন্তপুর, ফজলুপুর, এরেন্ডাবাড়ি সদর উপজেলার মোল¬ারচর, খারজানি, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কাপাসিয়া, চন্ডিপুর গ্রামে নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা না থাকায় ঝুঁকির মধ্যে থাকা লোকজনও রয়েছেন আতংকের মধ্যে। আবার বন্যাকালীন আরো ঝুঁকির মধ্যে থাকার চেয়ে অবস্থা সম্পন্ন পরিবারগুলো অন্যত্র বাড়ি-ঘর স্থানান্তর করলেও দরিদ্র পরিবারের লোকজন অর্থের অভাবে হতাশায় ভুগছেন। সাঘাটার কুমারপাড়া গ্রামের আব্দুল জলিল প্রামানিক জানান, এই বছরেই দু’বার ভাঙ্গনের শিকার হয়েছি। থাকার ঘর দুটি অন্যের জমিতে নিয়ে কোনমতে আশ্রয় নিয়েছি। কিন্তু পানি বাড়লে কী হবে, কোথায় যাবেন এ নিয়ে তিনি হতাশায় রয়েছেন। সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, নদীতে পানি আসার আগেই যেভাবে ভাঙ্গন চলছে। ভরা বন্যায় নদীভ্ঙ্গান আরো ভয়াবহ হবে বলে তিনি উলে¬খ করেন। এসময় তিনি আরো জানান, এই ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজারের বেশি পরিবার নদীভাঙ্গনের শিকার হয়েছেন। এসব পরিবারের জন্য সহায়তা চেয়ে উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

ফুলছড়ি উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবু সাঈদ সরকার জানান, চরাঞ্চলে ভাঙ্গন প্রতিরোধে সরকারের কোন উদ্যোগ বা দৃষ্টি নেই। যার কারণেই কোন চরই স্থায়ী হয়না। এজন্য তিনি চরাঞ্চলের ভাঙ্গন প্রতিরোধ ব্যবস্থা গ্রহণসহ ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনের জন্য সরকারের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে দাবী জানান।