গোপালগঞ্জের করপাড়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ইউপি সদস্যদের অনাস্থা

GopLশরিফুল রোমান, গোপালগঞ্জ ঃ নানা অনিয়ম, দূর্নীতি, বিভিন্ন প্রকল্পের ১০ লাখ ৮৭ হাজার টাকা আত্মসাৎ ও তথ্য সেবার যাবতীয় মালামাল আত্মসাতের দায়ে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমাস হাসানের বিরুদ্ধে অনাস্থা জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের ১০ ইউপি সদস্য।

অভিযোগকারী ইউপি সদস্যরা হলেন, আলমগীর হোসেন, আয়ুব আলী সিকদার, শহর আলী মৃধা, ব্রজেন্দ্রনাথ বিশ্বাস, রেনু বেগম, গফ্ফার খান, হাফিজুর রহমান, গোবিন্দ বিশ্বাস, আমেনা বেগম ও হাসিয়ারা বেগম।

অভিযোগকারীরা তাদের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেছেন, চেয়ারম্যান আলমাস হাসান ২০১২-১৩ অর্থ-বছরের এলজিএসপি-২ এর ২ লাখ টাকা, মূল্যায়নের ২ লাখ ৮১ হাজার টাকা, একই অর্থ-বছরে ১% উৎস হতে প্রাপ্ত ৩ লাখ ৪৪ হাজার টাকা, ২০১৩-১৪ অর্থ-বছরে ১% উৎস হতে প্রাপ্ত ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ইউনিয়ন পরিষদের ১ লাখ ১৩ হাজার টাকা, একউ অর্থ-বছরে টিআর প্রকল্পের ১৭.৬ টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া চেয়ারম্যান ইউনিয়নের তথ্যসেবা কেন্দ্রের মারামাল তার বাড়িতে জোরপূর্বক রেখে ২ টি কম্পিউটার, ১ টি ল্যাপটপ, ১টি ফটোকপি মেশিন, ১ টি প্রিন্টার, ১ টি লেসিনেটিং মেশিন ও একটি ডিজিটাল ক্যামেরা আত্মসাৎ করেছেন। এসব কারন উল্লেখ করে ইউপি সদস্যরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দাবী করেছেন। ১৭ জুন অনাস্থা অভিযোগ পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত অভিযোগ তদন্তের জন্য সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেনকে দ্বায়িত্ব দিয়েছেন।

জানাগেছে, গত ১৫ ডিসেম্বর’১৩ করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলমাস হাসান আমেরিকা যাওয়ার জন্য সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তিন মাসের ছুটির আবেদন করেন। কিন্তু ছুটি অনুমোদন না করিয়েই চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদে একটি পদত্যাগপত্র স্বাক্ষর করে ১৯ ডিসেম্বর’১৩ তারিখে আমেরিকা চলে যান। ছুটি অনুমোদন না হওয়ায় চেয়ারম্যান তার কোন প্রতিনিধির মাধমে ৩ ফেব্রুয়ারী’১৪ তারিখে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করেন। পদত্যাগপত্রে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর যাচাই-বাছাই শেষে ৪ ফেব্রুয়ারী’১৪ তারিখে করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ শূন্য ঘোষনা করে গেজেট প্রকাশের জন্য ঢাকায় প্রেরন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার। গেজেট প্রকাশের পর গত ২৭ এপ্রিল’১৪ করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনের তপশীল ঘোষনা করেন গোপালগঞ্জ জেলা নির্বাচন অফিসার।

গত ২৭মে ইউনিয়নটিতে উপ-নির্বাচন হবার কথা ছিল। ৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দিতা করেছিল চেয়ারম্যান পদে। নিার্বচনের সরঞ্জাম নিয়ে যখন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারগন কেন্দ্রে রওনা করবেন ঠিক সেই মুহুর্তে মাননীয় সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে দায়েরকৃত রিট পিটিশন নং ৪৯০৫/২০১৪ এর ২৫ মে ২০১৪ তালিখের আদেশের প্রেক্ষিতে এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশে পরবর্তী তিন মাসের জন্য করপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন স্থগিত ঘোষনা করেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসার মোঃ রফিকুল ইসলাম। আর এ সংবাদ ইউনিয়নে ছড়িয়ে পড়ার পর করপাড়া ইউনিয়নের প্রার্থী ও ভোটারদের মাথায় যেন হঠাৎ বাজ পড়ে, থমকে যায় গোটা ইউনিয়নবাসী।

পরদিন ২৭ মে সকালে লোকমুখে শোনা যায়, সাবেক চেয়ারম্যানের বসত-বাড়িতে থাকা ইউনিয়ন পরিষদের যাবতীয় মালামাল চুরি হয়েগেছে। পরে পুলিশে খবর নিয়ে জানাযায়, সাবেক চেয়ারম্যান আলমাস হাসান পুলিশে ফোন করে চুরির সংবাদ দিয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে বৌলতলী তদন্তকেন্দ্র পুলিশ চুরির কোন আলামত না পেলেও রাতের আধারে গায়েব হওয়া মালামাল উদ্ধারে তেমন কোন পদক্ষেপ নেননি। পরবর্তীতে গত ১৬ জুন আলমাস হাসান চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদানের পর ইউপি সদস্যরা এই অনাস্থা প্রস্তাব করেন।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বললে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জালালুদ্দিন বলেছেন, ওই ইউনিয়নের ১০ জন মেম্বারের স্বাক্ষরিত অভিযোগ ও অনাস্থা প্রস্তার পেয়েছি। তদন্তের জন্য কৃষি কর্মকর্তাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন বলেছেন, ইউনিয়ন পরিষদ নীতিমালা অনুযায়ী অভিযোগকারীদের ডেকে সুষ্ঠ তদন্ত সাপেক্ষে প্রতিবেদন প্রেরন করা হবে।

#