কুষ্টিয়া খোকসায় সরকারি অফিস, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ২০ টি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ

Kushtia photoআবু সাইম, খোকসা (কুষ্টিয়া ) প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা পরিষদের ৯টি আবাসিক কোয়ার্টার, ডরমেটরি, বিআরডিবি অফিস, ভূমি অফিস ও একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ ২০ টি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ঝুঁকিপূর্ণ। আশংকাজনক হলেও সংস্কারের কোন উদ্যোগ নেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের। জীবনের তাগিদে থেমে নেই কর্মচাঞ্চল্যতা।
উপজেলার মুকশিদপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান ভবনটির ছাদ থেকে সিমেন্ট-বালি খসে পড়েছে। দেয়ালে অসংখ্য ফাটল। তবুও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাড়া বছর প্রায় ১৭০ জন ছাত্র-ছাত্রী ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করছে। চার কক্ষ বিশিষ্ট বিদ্যালয়টির প্রধান ভবনটি স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ইতোমধ্যেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করেছে।
একই চিত্র উপজেলা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বসবাসের ৯টি আবাসিক কোয়ার্টার, ডরমেটরি ও বিআরডিবি অফিসসহ ভূমি অফিসের। আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও সংস্কারের অভাবে বসবাসে অনুপযোগী হয়ে পরেছে এসব ভবন। বিআরডিবি অফিসসহ সরকারী ডরমেটরির ছাদ থেকে সিমেন্ট বালি খসে পড়ছে, দেয়ালে দেখা দিয়েছে অসংখ্য ফাটল। অধিকাংশ জানালার পাল্লার কাঁচ ভেঙ্গে গেছে, পানির ট্যাপগুলোর বেশির ভাগই বিকল, বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও নাজুক। উপজেলা পরিষদের মূল ভবনের একমাত্র শৌচাগারটিও ভেঙ্গে ফেলে সেখানে ত্রাণ ও পূর্ণবাসন দপ্তরের ষ্টোর রুম তৈরী করা হয়েছে। ফলে একদিকে ভবনটির ডিজাইন পরিবর্তন হয়ে গেছে, অন্যদিকে জনসাধারণের পয়ঃনিস্কাশন ব্যবস্থা ভেস্তে গেছে।
মুকশিদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক গোলাম ছরওয়ার বলেন, ভবনটি যতই পুরাতন হচ্ছে ঝুঁকি ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। একাধিক বার বিষয়টি শিক্ষা কমিটিতে আলোচনা হয়েছে কিন্তু লাভ হয়নি। ঝুকিপূর্ণ ভবনটি অপসারণ করে নতুন ভবন নির্মাণ না করলে ছাত্র ছাত্রীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা প্রশাসনের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি কাজের প্রয়োজনে তাদের পরিষদ ক্যাম্পাসে থাকা খুবই জরুরী। কিন্তু সরকারী আবাসিক কোয়ার্টারগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় তারা বাইরে থাকতে বাধ্য হচ্ছে। ফলে অনেক সময় সরকারি কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা রতন লাল মৈত্র বলেন, এডিবির অর্থ বরাদ্দ কম হওয়ায় উন্নয়ন ব্যাহত হচ্ছে। তবে আমার দপ্তরের ছাদ ও দেয়াল খসে পড়ার ব্যাপারে আমি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার লিখলেও কোন বরাদ্দ পায়নি।
পরিষদের মূল ভবনের একমাত্র শৌচাগারটি ভাঙ্গার তীব্র সমালোচনা করেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাসুদ আহসান শিবলী, জাহাঙ্গীর আলম। তারা শৌচাগারটি পূণঃপ্রতিষ্ঠার দাবি জানান।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাহেলা আক্তার বলেন, সবচেয়ে বেশী গুরুত্ব দিয়ে ক্ষুদ্র মেরামতের জন্য বরাদ্দের টাকা থেকে আপাতত বিদ্যালয় সংস্কার করা হবে, পরবর্তীতে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। উপজেলা পরিষদের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর বিষয়ে তিনি বলেন, বরাদ্দ কমিটির সভাপতির সাথে কথা বলেছি, যথাসময়ে ব্যবস্থা নিব।