শিরোনাম

‘উন্নত বিশ্ব আমাদের আর খাদ্য দিয়ে সাহায্য করবে না’

mc_80532বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, দেশে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর বিকল্প নেই। উন্নত বিশ্ব আমাদের আর খাদ্য দিয়ে সাহায্য করবে না। তারা তাদের অতিরিক্ত খাদ্য দিয়ে জ্বালানি তৈরি করছে।

আজ রোববার সকালে রেডিসন ব্লু হোটেলের বলরুম অনুষ্ঠিত ‘ভিশন ২০৩০: ফ্রেমওয়ার্ক ফর ইকোনোমিক পলিসি মেকিং অ্যান্ড স্ট্রাটেজি ফরমুলেশন ইন এ প্লুরালিস্টিক ডেমোক্রেসি’ শীর্ষক সম্মেলনের ২য় দিন ‘কৃষির উন্নতি’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি খাতকে কৃষি খাতে বিনিয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে মতিয়া বলেন, আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যক্তি হয়ে বিলগেটসকে বলেছিলাম আপনি যে আইসিটি করছেন, সেটা মানুষই তো ব্যবহার করবে। সে যদি মানুষের মতো বেঁচে থাকে, লেখাপড়া শিখতে পারে তাহলে তো ব্যবহার করবে। আপনারা যদি খাবার উৎপাদন ও উন্নয়নে টাকা না দেন তাহলে আইসিটি ব্যবহার করার লোক থাকবে না।

তিনি বলেন, কিছু লোক আইসিটি ব্যবহার করবে না। পেটে ভাত, এক খানা মোবাইল ফোন আর এক খানা প্যাড। তাই যারা ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশনে আছেন তাদের কৃষি ও উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ করার আহবান জানাই।

কৃষি খাতে অতিরিক্ত সার ব্যবহার সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারে সাবসিডি দিয়েছে এবং দিয়ে যাবে। এতে কোন হীনমণ্যতা নেই। সারের দাম কমানোর ফলে ফার্টিলাইজার ব্যবহার কমে গেছে।

সারের দাম ৩ দফায় কমানোর ফলে চাল আমদানি করতে হচ্ছে না উল্লেখ করে মতিয়া বলেন, নন ইউরিয়া সারের দাম ৩ দফায় কমানোর ফলে আজ চাল আমদানি করতে হচ্ছে না। কিছু বীজধান ও সুগন্ধি চাল রপ্তানি করা হচ্ছে। সাবসিডি দেওয়া যদি ভুল হতো তাহলে চাল আমদানি করতে হতো।

কৃষি যন্ত্রাংশে ২৫ শতাংশ সাবসিডি দেওয়া যুক্তি সঙ্গত হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন,‘কৃষিকাজে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ কৃষি ছাড়াও অন্যান্য কাজে ব্যবহার করে কৃষক নানাভাবে উপকৃত হয়।

এ সাবসিডি অর্থনীতিতে কি প্রভাব পড়েছে তা অর্থনীতিবিদরা বুঝে উঠতে পারেননি উল্লেখ করে এ প্রভাব হিসেব করতে অর্থনীতিবিদদের আহবান জানান তিনি।

কৃষির জন্য ছোট যন্ত্রাংশ তৈরির জন্য আহবান জানিয়ে তিনি বলেন, মেগা যন্ত্রাংশ দিয়ে কৃষক কাজ করতে পারবে না। দাম বেশির কারণে কিনতে পারবে না। এজন্য বড় যন্ত্রাংশ তৈরি না করে ছোট যন্ত্রাংশ তৈরি করুন।

আমরা ফসল নয়, বিজ্ঞান খাচ্ছি উল্লেখ করে মতিয়া বলেন, বিজ্ঞান ব্যবহার করে আমাদের দেশের বিজ্ঞানীরা যদি ফসলের উন্নত জাত আবিষ্কার না করতেন তাহলে এদেশের দুর্ভিক্ষ কেউ ঠেকাতে পারতো না।

‘সরকার পরিবর্তনে বিজ্ঞানীরা অসহায় বোধ করেন’ বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের বাস্তবতা হলো, খাদ্য সংকটে পড়লে টাকা দেবে, খাবার নয়। খাবার উৎপাদন করে নিতে হবে। সেক্ষেত্রে যে সরকারই থাকুক না কেন কৃষি ও কৃষি গবেষণার ক্ষেত্রে বরাদ্দ বাড়ানোর আহবান জানাই।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক যে ফসল উৎপাদন করতে পারে সেজন্য এ সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেজন্য ১০ টাকা দিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলে কৃষিঋণ নিতে পারে। এ অ্যাকাউন্ট খোলার মাধ্যমে আমরা চেয়েছি কত মানুষ কৃষিঋণ নেয়, কিভাবে ব্যবহার করছেন।

গত চারবছরে মহাজনী ঋণ উঠে গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, মহাজনী ঋণ উঠে গেছে। তবে কৃষক কোনোদিন ঋণ থেকে মুক্তি পাবে না।

শিল্পায়ন ও বিদ্যুতের ফলে উত্তরবঙ্গে গম উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তবে বিজ্ঞানীরা তাপমাত্রা সহিষ্ণু গমের জাত উৎপাদনের চেষ্টা করছে। মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও বরগুনায় গম উৎপাদনে যাচ্ছে সরকার।

সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আতিউর রহমানসহ অন্য অর্থনীতিবিদরা উপস্থিত রয়েছেন।  –