২১ দিন ধরে ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল বন্ধ

thakurgaong-01জুয়েল ইসলাম শান্ত,ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ১০ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ২১দিন ধরে বিক্ষোভ, অবরোধ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ফলে ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম ভেঙ্গে পড়েছে। এতে চরম দূভোর্গে পড়েছে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় জেলার প্রায় ২০ হাজার চক্ষু ও ডায়াবেটিক রোগী।

বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ৩১ মে থেকে ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল ও রানীশৈংকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের ১২৬ জন চিকিৎ্সক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী আন্দোলন শুরু করে । তাদের আন্দোলনের কারনে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছেনা। এতে দুই জেলার চক্ষু ও ডায়াবেটিক রোগীরা প্রতিদিন হাসপাতালে এসে বিনা চিকিৎসায় ঘুরে যাচ্ছেন।

সদর উপজেলার ঘনিমহেশপুর গ্রামের মজিবর রহমান নামে এক চক্ষু রোগী জানান, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাসপাতালটিতে কোন প্রকার চিকিৎসা সেবা দেওয়া হচ্ছে না। এতে আমার মত আরো অন্যান্য চক্ষু ও ডায়েবেটিস রোগীরাও চরম বিপাকে পড়েছেন। তারাও কোন চিকিৎসা নেবা পাচ্ছেন না।

তিনি আরো জানান, আমাদের মতো দরিদ্র রোগিরা জেলার বাইরে গিয়ে চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য নেই। কিন্তু এখানে গত প্রায় ১ মাস যাবৎ চিকিৎসা সেবা বন্ধ আছে। এখন আমরা কি করবা?

জেলার হরিপুর উপজেলার সিদ্দিকুল ইসলাম নামে অপর এক ডায়াবেটিক রোগী জানান, জেলায় একটি মাত্র ডায়াবেটিক হাসপাতাল। ৭০ কি:মি দূর থেকে চিকিৎসা নেওয়ার জন্য এখানে এসেছি। কিন্তু হাসপাতাল বন্ধ রেখে কর্মচারিরা বকেয়া বেতনের আন্দোলন করায় চরম দূভোর্গে পড়েছি আমরা।

এদিকে হাসপাতালে কোন কাজ না থাকায় আর ১০ মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত ২১দিন ধরে বিক্ষোভ, অবরোধ, অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছেন এ হাসপাতালের জন চিকিৎ্সক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য সেবা হাসপাতালে গিয়ে এ হাসপাতালের চিকিৎ্সক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বারান্দা ও চায়ের দোকানে বসে অসল সময় কাটাতে দেখা গেছে। আবার অনেকে হাসপাতালেই আসেন না।

স্বাস্থ্য হাসপাতালের চিকিৎসক ডা.মোঃ শামসুল আলম জানান, গত ২১ দিন ধরে বকেয়া বেতনের দাবিতে আমরা আন্দোলন করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নজরে নিচ্ছে না। এতে করে ঠাকুরগাঁওয়ের ১২৬ কর্মকর্তা- কর্মচারির পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। পরিবার পরিজন নিয়ে আমরা অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি ও স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত এই হাসপাতালের ১২৬ জন চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী গত ১০ মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। ঠাকুরগাঁওয়ে ২০০৬ সালে স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রকল্পের অধীনে ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতাল ও রানীশৈংকল স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে ১২৬ জন চিকিৎ্সক, নার্স, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কাজ করছেন। কিন্তু ১০ মাস ধরে তারা বেতন পাচ্ছেন না। এরই প্রতিবাদে এবং বেতনের দাবিতে ৩১ মে থেকে কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা।

ঠাকুরগাঁও স্বাস্থ্যসেবা হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক এ কে এম একরামুল হোসেন জানান, হাসপাতালের যাবতীয় আয় নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাব নম্বরে পাঠিয়ে দিতে হয়। মাসিক চাহিদার ভিত্তিতে হাসপাতাল থেকে পরিচালনার খরচ ফেরত আসে। কিন্তু বছর খানেক ধরে মাসিক চাহিদা অনুযায়ী টাকা না পাওয়ায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাকি পড়েছে। তিনি আরো জানান, কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিজেদের আয় থেকেই হাসপাতালের ব্যয় চালাতে হবে। হাসপাতাল পরিচালনায় মাসে বেতন-ভাতাসহ গড়ে খরচ হয় ২২-২৩ লাখ টাকা । কিন্তু আয় হয় ১৫-১৬ লাখ টাকা। তাই ভর্তুকি না পেলে হাসপাতালটি পরিচালনা করা অসম্ভব বলেও জানান এ কর্মকর্তা।