চকরিয়া থানার এএসআই জাফরের হাত লম্বা !

cox-01এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন,কক্সবাজার :
কক্সবাজারের চকরিয়া থানায় কর্মরত সহকারী দারোগা ( এএসআই) আবু জাফরের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, ইয়াবা আটকের পর আত্মসাৎ ও নারী কেলেংকারীসহ রকমারী অভিযোগের শেষ নেই। গত কয়েক মাস পূবে বদলী হয়ে আসা এই এএসআইয়ের অপকর্ম করে আসলেও বহাল তবিয়তে রয়েছে সে। স্থানীয় ভুক্তভোগীদের মতে, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি নওশের আলী তার নিকটাত্মীয় পরিচয় দেওয়ায় তার হাত অনেক লম্বা। তার দম্ভোক্তিতে সংবাদকর্মীরাও অনেকটা কোনটাসায় রয়েছে। তিনি সরকারী প্রজাতন্ত্রের আমলা হয়ে রাষ্ট্রদ্রোহী কাজ করলেও তিনি পার পেয়ে যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয় যখন ইয়াবার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলায়েন্স ঘোষণা করেছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে এই সহকারী দারোগা ইয়াবা কানেকশনে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ।

অভিযোগে জানা গেছে, গত কয়েক মাস পূবের্ জেলায় ইয়াবা আগ্রাসন বন্ধ করার অংশ হিসেবে একযোগে বেশ কিছু কনষ্টেবল, এসআই, এএসআই ও ৫ জন ওসিকে বদলী করা হয়। এর পরই চকরিয়া থানায় বদলী হয়ে আসেন কনষ্টেবলথেকে পদোন্নতি পাওয়া সহকারী উপ-পরিদশক (এএসআই) আবু জাফর।  থানায় যোগদানের পরপরই শুরু করেন ধান্ধাবাজি ব্যবসা। থানায় ডিউটি অফিসারের দায়িত্বপেলে নিজেই সাধারণ ডাইরী কিংবা অভিযোগ এন্ট্রি করে নিজের নামে হাওলা করেন। এর পর তদন্তের নামে, শালিস বিচার বসান থানা চত্বরে। এসব অভিযোগ ও জিডি গুলোর বিবাদীদের ম্যানেজ করার জন্য রেখেছেন কয়েকজন প্রাইভেট সেক্রেটারী (মুন্সি)। এসব মুন্সিরা দালালের ভুমিকাও পালন করেন।

অভিযোগে জানা যায়, এই সহকারী দারোগা জাফর প্রতিদিনই থানার গোল ঘর কিংবা তার চেম্বারে বসান শালিস বিচার। জায়গা জমি সংক্রান্ত বিষয়েই বেশীর ভাগ শালিস করেন তিনি। টাকার উপর নির্ভর করেই চলে শালিসী রায়ের কাজ। যে পক্ষ টাকা বেশী দিবে রায় চলে যাবে তার পক্ষে। এ ছাড়া বিনা কারণে রাতের বেলায় নিরীহ লোকজনকে আটক করে রাস্তা কিংবা থানায় হাজত থেকে বিক্রির ঘটনা সংগঠিত করেছেন তিনি। এ ধরনের ঘটনা ইতোমধ্যে অন্তত ১৫টি করেছে। মোটা অংকের টাকা নিয়েই বিচারপ্রার্থীদের হয়রানীর ব্যাপারে এক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পুলিশ হেড কোয়াটার্স ও সিকিউরিটি সেলে তার বিরুদ্ধে  ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।

একটি সুত্র জানিয়েছেন, এএসআই আবু জাফর প্রায় সময়ই বিচারপ্রার্থী বা কোন কোন সময় থানার অন্যান্য পুলিশকে দাপট দেখান চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিাইজি তার নিকটাত্মীয়। এই ডিআইজির নাম ভাঙ্গিয়েই পুরো চকরিয়া এলাকায় দাফিয়ে বেড়াচ্ছে এএসআই জাফর।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, গত কিছুদিন পূর্বে, শালিসের নামে বাদী ও বিবাদীগণের কাছ থেকে টাকা জমা নিয়ে তা ফেরত না দিয়েই এক ব্যক্তির ২৫ হাজার টাকাও আত্মসাৎ করেছে আবু জাফর। বার বার টাকার জন্য ধর্না দিলে উল্টো তাকে দেওয়া হচ্ছে জেলের ভাত খাওয়ানোর হুমকি।

পুলিশের নি¤œপদস্থ কর্মচারী হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করেই চলেছে তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এএসআই আবু জাফর এখন ছুঁটছে ইয়াবার পিছনে। পুরো চকরিয়া উপজেলার চিহ্নিত ইয়াবা ব্যবসায়ীদের একটি তালিকা রয়েছে তার হাতে। তার নিয়োজিত দালাল চক্রের মাধ্যমে তৈরী করা এই তালিকায় রয়েছে নিরীহ লোকজনও। ভুঁয়া তালিকা নিয়ে ইতোমধ্যে কয়েকজন তার হাতে শিকার হয়েছে। বিনা দোষে আটক করে  ওইসর দোহায় দিয়ে মোটা অংকের টাকা ছাড়াও সাদা কাগজে স্বাক্ষর আদায় করে ছেড়ে দিয়েছে এমন কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছে। নাম পরিচয় গোপন করা হলো এখানে। তবে সংশ্লিষ্ট অফিসে রয়েছে এর তথ্য প্রমাণ। তার আয় ব্যয় এবং বিকাশের মাধ্যমে পাঠানো টাকার বিষয় খতিয়ে দেখলে তার আসল রূপ বেরিয়ে আসবে বলে জানান অনেকে।  ইয়াবাসহ ব্যবসায়ী আটক ও ইয়াবা আত্মসাতের মতো ঘটনায় পার পেয়ে যাওয়ায় এখন আরো বেপরোয়া হয়ে গেছে সহকারী উপ-পরির্দশক আবু জাফর। এএসআই জাফর মোটা অংকের টাকা নিয়েই বিচারপ্রার্থীদের হয়রানীর ব্যাপারে এক ব্যক্তি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়, পুলিশ হেড কোয়াটার্স ও সিকিউরিটি সেলে তার বিরুদ্ধে  ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

এব্যাপারে এএসআই আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, কাগজে যা পারেন লিখেন। কলমের কালি শেষ হয়ে যাবে কিন্তু আমার কোন কিছু হবে না। কারণ হিসেবে তিনি দাবী করেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি তার নিকাত্মীয়।

এব্যাপারে চট্টগ্রাম রেজ্ঞের ডিআইজি নওশের আলী সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, কেউ তার নাম ভাঙ্গিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করলে তার বিরুদ্ধে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।