রাফিউর রাব্বির ওপর হামলা

28810_rrবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : নারায়ণগঞ্জে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে লিফলেট বিতরণ করার সময় সন্ত্রাস নির্মূল ত্বকী মঞ্চের আহবায়ক রাফিউর রাব্বিসহ মঞ্চের লোকজনদের উপর শুক্রবার সন্ধ্যায় হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসময় রাব্বিসহ ৭/৮ জন মারধরের শিকার হয়েছেন। রাব্বি অভিযোগ করেন, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের উপ নির্বাচনে সন্ত্রাস ও ওসমান পরিবারের বিরুদ্ধে লিফলেট বিতরণের সময়ে পুলিশ ও মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীনের উপস্থিতিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে পুলিশ ও জাপা নেতা এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগামী ২৬শে জুন অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে রাফিউর রাব্বি প্রার্থী হলেও ঋণ খেলাপীর অভিযোগে তার প্রার্থীতা বাতিল হয়ে যায়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ কোন প্রার্থী দেয়নি। জাতীয় পার্টি এ আসনে এমপি শামীম ওসমানের বড় ভাই সেলিম ওসমানকে মনোনীত করেছে।
গত বুধবার শহরের চাষাঢ়া শহীদ মিনারে ত্বকী মঞ্চের এক সমাবেশের পর থেকেই নির্বাচন উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ শুরু করে ত্বকী মঞ্চ। লিফলেটে লেখা ছিল, ‘তানভীর মুহামদ ত্বকীর সকল হত্যাকারীদের ফাঁসি চাই, ভোট আপনার পবিত্র আমানত আপনার সন্তান ও শিশুদের কথা ভেবে অন্তত খুনী ও সন্ত্রাসী পরিবারের কাউকে ভোট দেবেন না’। নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি এডভোকেট প্রদীপ ঘোষ বাবু জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় শহরের কালীরবাজার চারারগোপ এলাকাতে লিফলেট বিতরণ শুরু করে ত্বকী মঞ্চের লোকজন। এতে রাফিউর রাব্বি, কবি আরিফ বুলবুলসহ ২০-২৫জন ছিলেন। কালীরবাজার মাজার সংলগ্ন বাস কাউন্টারের সামনে আসলে সদর থানার দারোগা (এস আই) মিজানসহ তিন পুলিশ সদস্য আমাদের সংগঠনের কয়েকজনকে গতি রোধ করে বলেন, এসব লিফলেট বিতরন করা নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্ঘনের সামিল। এসময় রফিউর রাব্বি এগিয়ে এসে তার সঙ্গে কথা বলে রাস্তার অপরপাশে চলে যান। কিন্তু হঠাৎ করেই জাতীয় পার্টির ১৫/২০জন লোক পেছন থেকে আমাদের উপর পুলিশের সামনেই হামলা করে। এতে রাফিউর রাব্বি, আরিফ বুলবুলসহ ৭/৮ জন আহত হন।  এ ঘটনায় রাতে শহরের কালিরবাজার শায়েস্তা খান সড়কে নিজ বাসায় রফিউর রাব্বি তাৎক্ষনিক সংবাদ সম্মেলন করে বলেন, ‘হামলার সময়ে জাতীয় পার্টির নেতা আকরাম আলী শাহীন (মহানগর জাপার সদস্য সচিব) ও সদর মডেল থানার এস আই মিজানুর রহমান মিজান ছিলেন।’ রাব্বি বলেন, ‘ওসমান পরিবারের লোকজনই এ হামলার সঙ্গে জড়িত। ওদের কাছে নারায়ণগঞ্জ নিরাপদ না।’ নারায়ণগঞ্জ মহানগর জাতীয় পার্টির সদস্য সচিব আকরাম আলী শাহীন জানান, হামলার সময়ে আমি ছিলাম না। ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারকে খুনী আখ্যা দিয়ে লিফলেট বিতরণের সময়ে লোকজন চড়াও হয়। তখন লোকজন তাদের ধাওয়া দিলে আমি পুলিশকে খবর দেই। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি।  ঘটনাস্থলে যাওয়া সদর মডেল থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মিজানুর রহমান জানান, ত্বকী মঞ্চের সদস্যরা লিফলেট বিতরণকালে ওই এলাকায় বাহিরের কিছু লোকজনের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। পরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদেরকে সরিয়ে দেই।