মনপুরার মেঘনায় মৌসুমের শুরুতে ইলিশের দেখা মিলছেনা

monpura pic-1মোঃ ছালাহউদ্দিন,মনপুরা প্রতিনিধি :
মৎস্য সম্পদের অভয়ারন্য হিসেবে খ্যাত মনপুরার মেঘনায় মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে না রুপালী ইলিশ। মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে ইলিশ পড়ার কথা থাকলেও ইলিশের দেখা মিলছে না। মাছ না পড়ায় জেলেদের সংসারের অভাব অনটনের বোঝা ক্রমেই বাড়ছে। জেলে পরিবারগুলোতে চলছে দুর্দিন।

মনপুরায় প্রায় ১২ সহস্রাধিক জেলের বসবাস হলেও লক্ষাধিক লোকের এই আবাসভূমিতে শতকরা প্রায় ৭০ জন লোক প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল। মেঘনায় মাছ ধরা পড়লে জেলেরা ভাল থাকেন। আর মাছ না পড়লে জেলেসহ নিন্ম আয়ের লোকের দুঃখের সীমা থাকেনা। এবারের মৎস্য মৌসুমের শুরুতে জেলেদের জালে ইলিশের দেখা মিলছেনা। লক্ষ লক্ষ টাকা আড়তদারদের দাদন ও বিভিন্ন এন.জিও থেকে লোন নিয়ে জাল নৌকা তৈরি করে ইলিশ মাছের আশায় মেঘনায় বিনিয়োগ করেন। মেঘনায় মাছ না পড়ায়  জেলেরা তাদের সংসার চালাতে হিমসিম খাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ টাকা মেঘনায় বিনিয়োগ করে মেঘনায় মাছ না পড়ায় আড়ৎদারদেরও মরি মরি অবস্থা। মতস্য পেশায় জড়িত জেলে পরিবারগুলো অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। কারণ মেঘনায় মাছ থাক কিংবা না থাক প্রতি হাটবারে জেলেদের সংসার চালানো বাবদ বিলের টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। প্রতিদিন ২/১টা বড় ইলিশের দেখা মিলছে।  মাছ বিক্রি করে ৭/৮ জনের সংসার চালানো খুব কষ্ট হচ্ছে জেলে পরিবারগুলোর। জসিম মাঝি, জাহাঙ্গীর মাঝি,কালাম মাঝির সাথে আলাপ করলে তারা বলেন “ভাই মনে করছি মৌসুমের শুরুতে প্রচুর ইলিশ মাছ পড়বে। আমরা তো আড়ৎদারদের থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা দাদন নিয়ে জাল নৌকা ট্রলার তৈরি করে নদীতে নামাইছি। দু একটা মাছ যা আটকে তা বিক্রি করে তেলের খরচও হয়না । সংসার চালানো খুব কষ্ট হচ্ছে। নদীতে মাছ না পড়ায় জেলে পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে দুর্দিন। উপজেলার বিভিন্ন ঘাটগুলো ঘুরে দেখা যায়,মাছ না পড়ায় অনেক জেলে রাস্তার উপর জাল বুনতে আবার অনেক জেলে জাল নৌকা প্রস্তুত করেও মেঘনায় নামছেন না। জেলেরা আশা করছেন সামনে রমজান মাস। আল্লাহর রহমতে রমজান মাসে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়বে। আর সেই দিনের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা গেছে অনেক জেলেদের। আড়তদার নিজামউদ্দিন হাওলাদার,কামাল,মিজান,আলমগীর,সাহেআলম বেপারী বলেন,নদীতে মাছ না পড়ায় আমরাও খুব কষ্টে আছি। আমরা জেলেদের সাপ্তাহিক বিল চালাতে হিমচিম খাচ্ছি। মাছ না পড়ায় জেলে ও আড়তদার কারও মুখে হাসি নেই।