বিএনপি-জামায়াতকে নিয়ে আর কোনও নির্বাচন নয়

28249_leadরিপোর্ট 24 ডটকম : তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন সিদ্ধ গণতন্ত্র চাইলে বিএনপি জামায়াতকে নিয়ে এদেশে আর কোনও নির্বাচন নয়। বিএনপি, জামায়াত, হেফাজত কোন গণতান্ত্রিক শক্তি নয়। কীটনাশক দিয়ে পোকা-মাকড়কে যেমন মেরে ফেলতে হয় তেমনি অগণতান্ত্রিক শক্তি জঙ্গিবাদকে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। তিনি আরও বলেন, আরেকটি নির্বাচনের আগে জাতীয় সংলাপ দরকার। তবে সেই সংলাপ হবে দেশে মৌলবাদী জঙ্গিবাদী থাকবে কি থাকবে না। এটার ফায়সালা হওয়া ছাড়া কোন সংলাপ হবেনা। সোমবার সংসদে ২০১৪-২০১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বিএনপি ৫ই জানুয়ারির নির্বাচনকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা ও গণতন্ত্র রক্ষার নির্বাচন দাবি করে বলেন, তৎকালীন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া আসলে নির্বাচন চাননি। তিনি দেশকে অসাংবিধানিক ধারায় নিতে চেয়েছিলেন। তিনি অগণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান চেয়েছিলেন। তিনি আসলে কোন সংলাপেরও প্রস্তাব দেননি। তিনি বলেন, তাদের আমরা জোর করে নির্বাচন থেকে বাইরে রাখিনি। তাদের আসলে নির্বাচনে কোন আগ্রহই ছিল না। আমরা স্বৈরাচারে বিশ্বাস করি না, আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপির সময় সিন্ডিকেটেড দুর্নীতি ছিল। এখন যারা  সন্ত্রাস বা দুর্নীতি করছে তারা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়। সবাইকে আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসছি। তিনি বলেন, দেশে যদি সুশাসন না থাকে তাহলে আমরা এতো বড় বাজেট বাস্তবায়ন করলাম কিভাবে? হাসানুল হক ইনু বলেন, বিএনপি, জামায়াত আর হেফাজতকে ‘ফরমালিন ও কার্বাইডযুক্ত ফল’-এর সঙ্গে তুলনা করে বলেন, এরা গণতন্ত্র ও শান্তির জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। কীটনাশক দিয়ে যেমন পোকা-মাকড় দমন করতে হয়, এদের তেমনি দমন করতে হবে। তিনি বলেন, খালেদা জিয়া ইচ্ছা করে নির্বাচনের বাইরে থেকে ষড়যন্ত্র করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের রক্ষার চেষ্টা করেছেন। তথ্যমন্ত্রী দেশে দুর্নীতির কথা স্বীকার করে বলেন, তবে দুর্নীতি দমনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দুর্নীতিবাজদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এভাবে দুর্নীতির জঞ্জাল দূর করা হবে। কিন্তু খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দুর্নীতিবাজদের রক্ষা করা হয়েছে। হাওয়া ভবনের মাধ্যমে সিন্ডিকেট দুর্নীতি হয়েছে। শেখ হাসিনার সরকারের সময় খুনিদের বিচার করা হচ্ছে। কিন্তু খালেদা জিয়া খুনিদের রক্ষা করেছেন। অস্ত্র পাচারকারীদের আড়াল করেছেন। ইনু বলেন, খালেদা জিয়ার তুলনায় শেখ হাসিনার সরকার বাজেট ও বার্ষিক উন্নয়ন কমসূচির আকার, রাজস্ব আদায়, জিডিপি, মাথাপিছু আয় এবং বাজেট বাস্তবায়নের সক্ষমতা অনেক গুণ বেড়েছে। আব্দুল মান্নান প্রস্তাবিত বাজেটকে বাস্তবায়নযোগ্য মন্তব্য করে বলেন, এ বাজেট দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত করতে ভূমিকা রাখবে। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার পরিবারের সমালোচনা করে বলেন, তার ছেলেরা পিয়নের চাকরি করার মতো শিক্ষাগত যোগ্যতাও অর্জন করতে পারেনি। তারা হাওয়া ভবন তৈরি করে দেশের সকাল অর্থনীতি বন্দি করেছিলেন। তারেক বছরের পর লন্ডনে রাজার হালে বসবাস করছেন। টাকা কোত্থেকে আসে? তাকে বলবো, মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুর-সৌদি আরব না ঘুরে দেশে আসুন। আপনার বিরুদ্ধে যে মামলা আছে তা মোকাবিলা করুন। তিনি জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সমালোচনা করে বলেন, নির্বাচনের পর সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে, সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদও নিয়েছেন। তারপরও তিনি নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। এটা তার স্ববিরোধিতা।
মৃণাল কান্তি দাস বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তার দুই ছেলের বিরুদ্ধে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করে বলেন, তাদের শাস্তি পেতেই হবে। তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল, সংবিধান ক্ষতবিক্ষত করা, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ লালন-পালনেরও অভিযোগ করেন। এদিন বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় আরও অংশ নেনÑ আবুল কালাম আজাদ, উম্মে কুলসুম স্মৃতি, জাতীয় পার্টির অধ্যাপক নুরুল ইসলাম মিলন।