প্রশাসনের অবহেলায় অস্তীত্ব সংকটে রাবির সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার

rajsahi uniমারুফুল ইসলাম লিমন, রাবি প্রতিনিধিঃ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় বিলিন হওয়ার পথে ঐতিহ্যবাহী বিশ্ববিদ্যালয় সুবর্ন জয়ন্তী টাওয়ার। টাওয়ারটি দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় এ সংকটপূর্ণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। একাধিকবার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যক্তি অভিযোগ করলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঐতিহ্যবাহী এ ভাস্কর্যটির উদ্ধধন করার কারণেই আওয়ামীলীগ সমর্থিত বর্তমান প্রশাসন এবং এর আগের প্রশাসন টাওয়ারটির সংস্কার করছে না বলে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ উঠেছে।

ভাস্কর্যটি মেরামতের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার প্রফেসর মু. এন্তাজুল হক বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে এ ভাস্কর্যটির মেরামত করা হচ্ছে না। তবে সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনের আগেই এর সংস্কার করা হবে বলে তিনি মন্তব্য করেণ।

ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পঞ্চাশ বছর পূর্তিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য ২০০৩ সালে নির্মাণ করা হয় এই সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার। ওই বছরের ২১ নভেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া টাওয়ারটির শুভ উদ্বোধন করেন। আর রাজশাহীর সন্তান মৃণাল হক ছিলেন এই নান্দনিক স্থাপনার ভাস্কর। পৃথিবীর অন্যতম অত্যাধুনিক এই ভাস্কর্যটি নির্মাণ করতে ব্যয় হয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা।

সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয় সিনেট ভবনের সামনে এবং অগ্রনী ব্যাংকের ডান পাশে অবস্থিত সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার। বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্তিত্বের প্রতীক এ টাওয়ারের সাথে লাগানো আছে ইস্পাতের একটি ম্যুরাল। এতে তুলে ধরা হয়েছে সভ্যতার ক্রমবিকাশ। এই ম্যূরালটি এখন বিলিনের পথে। সোনালী রংয়ের এই টাওয়ারটির এখন আর সোনালী রং নেই। সাদা এবং কালো রংয়ে পরিণত হয়েছে। অযতœ এবং অবহেলার কারণে জং ধরে খসে খসে পড়ছে ম্যুরালের বিভিন্ন অংশ। ম্যুরালের বেদীতে ময়লা-আবজোনার স্তুপ জমে আছে।

মূল টাওয়ারের পূর্ব পাশে রয়েছে একটি দেওয়াল। দেয়ালের নাম রয়েছে ‘স্পাতের কান্না’। শিকল দ্বারা এই দেওয়ালে তৈরী করা হয়েছে মালবাহী ভ্যান, ঘোড়ার গাড়ি, মানুষ, সাইকেল, সূর্যমুখী ফুল এবং শহীদ মিনার। কিন্তু এখন আর স্পষ্ট বোঝা যায় না এসব নিখুত হাতের কারুকার্য। লোহার তৈরী এসব কারুকার্যের সব জায়গাতে মরিচা লেগে গেছে। বিভিন্ন অংশ থেকে খসে পড়ছে এসব নকশা। অযতœ, অবহেলায় আর সংস্কারের কোনো উদ্যোগ না থাকায় নষ্ট হতে বসেছে এটি। এর বেহাল দশা দেখে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষর্থীরা জানায়, সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ার নির্মাণের পর থেকেই প্রতিদিন দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সেখানে শত শত লোকের ঢল নামত। কিন্তু আগের মতো ভাস্কর্যটির চাকচিক্য রং নেই। তার কোন সৌন্দর্যও নেই। ফলে আর দর্শনার্থীরাও সেখানে আগের মতো ভিড় জমায় না। অনেকে সেটি দেখতে এসে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে চলে যান। এমন একজন দর্শনার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, শুধুমাত্র প্রশাসনের অবহেলা ও সংরক্ষণের ব্যাপারে কোন উদ্যোগ না থাকার কারণে সুন্দর এই টাওয়ারটি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

টাওয়ারটির বেহাল অবস্থা দেখে এর ভাস্কর মৃণাল হকও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটির সংস্কারের জন্য আমি একাধিকবার চিঠি দিয়েছি। তারপরেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আসলে কি জন্য এর সংস্কার কাজ হচ্ছে না তা সঠিক ভাবে বলতে পারবো না বলে জানান তিনি’।

এ বিষয়ে রাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি ড. কে বি এম মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘টাওয়াটি সংস্কারের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় সাদাদল এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের পক্ষ থেকে একাধিকবার প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহন করেনি।

তিনি বলেন, আমরা মনে করি তৎকালনী প্রধান মন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এই টাওয়ারটির উদ্বধন করা কারণেই বর্তমান আওয়ামী অবৈধ সরকারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর সংস্কার কাজ করছে না’।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. শফিকুল হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আদেশ ছাড়া আমরা কোন কাজ করতে পারি না। প্রশাসান হতে নির্দেশ আসলে আমাদের কাজ করতে কোন সমস্যা নেই।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর মু. এন্তাজুল হক বলেন, সুবর্ণ জয়ন্তী টাওয়ারটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য এবং সম্পদ। খুব দ্রুতই এটির সংস্কার করা হবে বলে জানান তিনি।