শেরপুরের গারো পাহাড়ে বন্যহাতির হামলায় নিহতের সংখ্যা বাড়ছে

sherpurশাকিল মুরাদ, শেরপুর প্রতিনিধি :  বন্যহাতির হামলায় ক্রমাগত বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। আহতের খবরও শোনা যাচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ পর্যন্ত অন্তত ৩৫জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে অনেক। রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছে গ্রামবাসীরা। তবুও রক্ষা করতে পারছে না নিজেদের জানমাল। বন্যহাতির সাথে যুদ্ধ করে চলেছে শেরপুরের শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ির গারো পাহাড়ের লক্ষাধিক মানুষ। ওদের কান্না যেন থামছেনা।
শেরপুর শহর থেকে ৩০/৩৫ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী, ঝিনাইগাতী ও নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্ত এলাকা জুড়ে গারো পাহাড়। এলাকাটি ভারতের মেঘালয় রাজ্য ঘেষাঁ। এর মধ্যে ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর লোকের সংখ্যাই বেশি। এখানে গারো, কোচ, হাজং, বানাইসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন রয়েছে
গ্রামবাসীরা জানায়, বন্যহাতির কয়েকটি দল গারো পাহাড়ে প্রায় ১৫ বছর যাবত বিচরণ করে আসছে। প্রত্যেক দলে কমপক্ষে একশ করে হাতি রয়েছে। এসব বন্য হাতি দিনে থাকে পাহাড়ের ঝোঁপ জঙ্গলে। রাতে হামলা চালায় লোকালয় আর ফসলের ক্ষেতে। দেড় দু’বছর যাবত দিনের বেলাতেও হামলা চালাচ্ছে। গ্রামবাসীরা প্রতি রাতে দলবদ্ধভাবে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। এতে ব্যবহার করছে টর্চ লাইট, হারিকেন, মশাল, থালা বাসন, ঢোল, পটকাসহ নানা কিছু ।
বন্যহাতির কবলে পড়ে এ পর্যন্ত সোমনাথপাড়া গ্রামের কৃষক ফিলিপ সাংমা, হারিয়াকোনা গ্রামের গৃহবধূ নেপালিয়ান মারাক, কৃষক স্টারসন মারাক, বড় গজনী এলাকার মন্দিরা মারাক, চান্দাপাড়া গ্রামের উমেদা বেওয়াসহ অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছে। পঙ্গু হয়েছে প্রায় অর্ধশতাধিক। পাঁচ শতাধিক লোকের ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। হাতির ভয়ে অন্যত্র চলে গেছে অনেকে। সাত আটশ গরু ছাগলকে হত্যা করেছে। প্রতি বছর দু’সহাস্রাধিক একর জমির ধান ক্ষেতসহ ফলজ ও বন বৃক্ষের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আহত কৃষক মৃতিলা মারাকের কিশোরি মেয়ে রোজিনা মারাক জানায়, বিকেল হলেই হাতির দল পাহাড় থেকে নেমে  আসে ফসল ও বসতবাড়িতে। কৃষক চিনেশ্বর মারাক বলেন, শুধু ক্ষেতের ধান নষ্ট করেনা। বাড়ি ঘরেও হামলা করে। এখন আমাদের সব সময় হাতির ভয়ে আতংকে থাকতে হয়। মিসেস ভূপেন্দ্র মারাক জানান, তারা বন্যহাতিকে মামা বলে সম্ভোধন করে। তার কাছে প্রাণ ভিক্ষা চায়। এ ছাড়া যেন আর কোনো উপায় নেই। ইউপি সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূপেন্দ্র মান্দা বলেন, হাতির তান্ডব থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যুতের দাবি করা হচ্ছে। কিন্তু কিছুই হচ্ছেনা। তিনি আরো বলেন, এখানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপার এসেছেন। হাতির আক্রমনের স্পর্শকাতর স্থানগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। কিন্তু আজো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাবিবা শারমিন বলেন, বর্তমান সরকার বন্যহাতির আক্রমনে আহতকে ৫০ হাজার আর নিহত হলে এক লাখ টাকা সহযোগিতা দিচ্ছে। এ ছাড়াও বন্যহাতি থেকে রক্ষা পেতে স্থায়ী সমাধানের জন্য উর্দ্ভতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, গারো পাহাড়ে বন্যহাতির আক্রমণ এলাকায় ৫০ কিলোমিটার বিদ্যুৎতায়নের কর্মসূচি রয়েছে। বরাদ্দ পেলেই বাস্তবায়ন হবে। বন্যহাতির কবল থেকে রক্ষা পেতে বিদ্যুৎসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জরুরি। এমনটাই প্রত্যাশা করছেন গারো পাহাড়ের বাসিন্দারা।