নানা সমস্যার আবর্তে ঘুরপাক খাচ্ছে পার্বতীপুর রেল জংশন

PIC-01(1)মো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
সমস্যায় জর্জরিত উত্তরাঞ্চলের ৪ লাইন বিশিষ্ট বৃহৎ রেল জংশনটি নানা সমস্যায় জর্জরিত। স্টেশনে জনগণের বা যাত্রীদের সেবার কোন চিহ্ন থাকলেও রাজস্ব আদায়ের সব রকম ব্যবস্থা রয়েছে। রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে ২ থেকে ৩ গুন। গত অক্টোবর থেকে রেলের ভাড়া ৩ থেকে ৪ গুন বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ যাত্রী সেবার মান এক বিন্দু মাত্র বৃদ্ধি পায়নি। স্টেশনে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় ছিনতাইকারীরা ছিনতাই করে অনায়াসে চলে যেতে পারে। স্টেশনে সৌর বিদ্যুত না থাকায় টিকিট ক্রয়ের সময় বিদ্যুত চলে গেলে অনেক ট্রেন যাত্রীরা বিনা টিকিটে ট্রেনে ওঠে পড়ে। আর টিকিট কালেক্টারের হাতে ধরা পড়ে যাত্রীদের গুনতে হয় জরিমানাসহ গন্তব্যস্থানের টিকিট ভাড়া। বাংলাদেশ রেলওয়ের পশ্চিমজোনের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেলজংশন স্টেশন পার্বতীপুরে আগের চেয়ে আয় বাড়লেও যাত্রীসেবার মান, যাত্রীদের জন্য সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধি হয়নি। এ রেল স্টেশনের প্লাটফরমের চেয়ে রেল লাইন উঁচু ! বয়স্ক পুরুষ, মহিলা ও ছোট শিশুদের ট্রেনে উঠতে কষ্টকর হয়ে পড়ে। তাছাড়া ২, ৩, ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফরমে পানির সমস্যা দীর্ঘ ২ বছর ধরে বিদ্যমান। পার্বতীপুর উপজেলা উন্নয়ন পরিষদ, স্টেশন উপদেষ্টা কমিটি, রাজনৈতিক, সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কোন জোড়ালো ভূমিকা না থাকায় পার্বতীপুর রেল স্টেশনের উন্নয়ন কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে বলে সচেতন মহলের ধারনা।

এদিকে, বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় লেখালেখির পরে ২০১৩ সালের ১৫ আগষ্ট ১ নম্বর প্লাটফরমের রেল স্টেশন কয়েকটি অফিস রুমসহ টিকিট কাউন্টারের সংস্কারের কাজ শুরু হয়। পার্বতীপুর রেলওয়ের এসএসএই (ওয়ার্কস) তহিদুল ইসলাম জানান, এ কাজে ৯৪ লাখ ৯৬ হাজার ৯শ’ ৮০ টাকা ৯০ পয়সা ব্যয় ধরা হয়েছে। কাজের মেয়াদকাল শুরুর দিন থেকে ২১০ দিন। ইতিমধ্যে ৩শ’ দিন অতিবাহিত হলেও এখনও কাজ শেষ হয়নি। এ কাজ শেষ হতে আরও ৩ মাস সময় লাগবে বলে স্টেশন সূত্রে জানা যায়। এ রিপিয়ারিং বা ছাদ ঢালাইয়ের কাজটি পেয়েছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম,এস, হোসেন এন্টারপ্রাইজ। মূল ঠিকাদার তিনি সাব ঠিকাদারের নিকট কাজটি চুক্তি দিয়েছেন এবং কাজের মান নিয়ে নানা অভিযোগ উঠেছে। শুধুমাত্র সড়ক পথে যাতায়াত ঝুঁকিপূর্ণ ও বাস ভাড়া অস্বাভাবিক বৃদ্ধির কারনে বর্তমানে রেলওয়েতে আয় বৃদ্ধি পেয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। সেবার মান বৃদ্ধি ও সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে পারলে আয় আরও কিছুটা বৃদ্ধি পাবে বলে খোদ রেল কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা মনে করছেন। এছাড়াও এ স্টেশনের  সব প্লাটফরমগুলো উঁচু করার বিষয়ে পার্বতীপুরে কর্মরত সিনিয়র সাব এ্যাসিষ্টেন্ট ইঞ্জিনিয়র/ওয়ার্কস তৌহিদুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে ৪ ও ৫ নম্বর প্লাটফরমের আংশিক ৪৮০ ফুট প্লাটফরম উঁচু করা হয়েছে। বাকী প্লাটফরমের কাজের ইষ্টিমেট পাঠিয়েছেন বলে তিনি জানান।

এ ব্যাপারে পার্বতীপুর রেল স্টেশন মাষ্টার শেখ আবদুল জব্বার জানিয়েছেন, চলতি ২০১৩-১৪ অর্থ বছরে পার্বতীপুর জংশন খ্যাত রেল স্টেশন থেকে গত ১১ মাসে ২ লাখ ৯৪ হাজার ৩১৬ জন যাত্রীর বিপরীতে শুধু মাত্র যাত্রী খাতে ৫ কোটি ৭৩ লাখ ১ হাজার ৮৫৫ টাকা আয় হয়েছে। এছাড়াও পার্সেল, গুডস ও অন্যান্য খাতেও এ সময় আয় হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ৯০ হাজার ৫৫৩ টাকা। গত ১১ মাসে যাত্রী ভাড়া, পার্সেল, গুডস ও অন্যান্য খাতে মোট আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭২ লাখ ১৯ হাজার ৯৯২ টাকা। গত মে/১৪ মাসে এ স্টেশন থেকে মোট আয় হয়েছে ৭০ লাখ ১ হাজার ৫৬৬ টাকা। উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১ অক্টোবর থেকে ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়। গত ২০১২-১৩ অর্থ বছরে পার্বতীপুর রেল স্টেশন থেকে যাত্রী ভাড়া, পার্সেল, গুডস ও অন্যান্য খাতে মোট ৭ কোটি ২৬ লাখ ৮৪ হাজার ৮৪৮ টাকা আয় হয়েছে।

অপরদিকে, পার্বতীপুর রেল স্টেশনের ১ নম্বর প্লাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকা আন্তঃনগর দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনের জনৈক যাত্রী  জানান, ঘন ঘন হরতাল, বাস ধর্মঘটের কারনে এ স্টেশনে ৪টি রুটের ট্রেনের যাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঠিক তেমনি আয়ও দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।##