শিরোনাম

বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ঐকমত্য জরুরি: আকবর আলি খান

27855_akbarবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও ২০১৪-১৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা একান্ত প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন তত্ত্বাবধায়ক সাবেক সরকারের উপদেষ্টা ড. আকবর আলি খান। তিনি বলেন, রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গড়ে তুলতে না পারলে বাজেট বাস্তবায়ন করা অসম্ভব। বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আর তার আলোকেই রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গড়ে তুলবেন বলে আশা করছি। শনিবার রাজধানীর লেকশোর হেটেলে সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘জাতীয় বাজেট ২০১৪-১৫ পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এ সব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সিপিডি’র ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. রেহমান সোবহানের সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন- পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এমএ মান্নান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দীন আহমেদ, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. মোস্তাফিজুর রহমান, সিপিডির ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, সুজন সভাপতি এম হাফিজ উদ্দীন খান, এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ  উপস্থাপন সিপিডি‘র গবেষণা পরিচালক ফাহমিদা খাতুন।
আকবর আলি বলেন, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, সুশাসনের অভাব এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কমছে। আমরা যদি এ দেশের বেসরকারি বিনিয়োগ উৎসাহিত না করতে পারি, তবে দেশকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত করার যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। একই সঙ্গে বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, তা অর্জন করা সম্ভব হবে না। আর করতে হলে বেসরকারিভাবে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে মন্দা চলছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল বলেন, বাজেটে কাউকে উপেক্ষিত করা হয়নি। বাজেটে সবার জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। পদ্মা সেতুতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে বেসরকারি খাত আরও উন্নতি করবে। এতে করে বেসরকারি খাত প্রবৃদ্ধিতে ১ শতাংশ অবদান রাখতে পারবে বলে আশা করেন তিনি।
এফবিসিসিআই’র সভাপতি কাজী আকরাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, বাজেট অনেক বড়, কিন্তু উচ্চাভিলাষী নয়। তিনি বলেন, যদি আইনের শাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করা যায়, তবে বাজেট বাস্তবায়ন করা সম্ভব।
ফাহমিদা খাতুন তার প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বলেন, এবারের বাজেটে কিছু ইতিবাচক ও কিছু নেতিবাচক দিক আছে। ইতিবাচক দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে, সরকারি বিনিয়োগ ঊর্ধ্বমুখী, মূল্যস্ফীতি স্থিতিশীল আছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে নেতিবাচক দিকগুলো সবচেয়ে বেশি। যার মধ্যে রয়েছে- জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে ধীরগতি, ব্যক্তি বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগের অভাব, রাজস্ব আদায় করা হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা কমছে, ২০১৫ সালে ষষ্ঠ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, অর্থমন্ত্রী বাজেটে এ বিষয়ে কিছু বলেননি ইত্যাদি। তিনি বলেন, জিডিপি প্রবৃদ্ধির যে লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে, তা কোন অর্থবছরকে ভিত্তি করে ধরা হয়েছে, তা অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেননি। তিনি এবার জিডিপির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছেন ৭.৩ শতাংশ। কিন্তু সিপিডি মনে করি, এটা অর্জন করতে হলে ব্যক্তিখাতে বিনিয়োগ ৪ থেকে ৫ শতাংশ বাড়াতে হবে; যা টাকার হিসাবে আরও ৭৫ হাজার কোটি টাকা। এটি অসম্ভব বলে আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।