ভয়ঙ্করতম ‘গ্ল্যামারাস’ মাফিয়া রানী

27851_worldবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : মেক্সিকোর ২৭ বছরের তরুণী ক্লডিয়া ওচোয়া ফেলিক্স তার যৌন আবেদনময় শরীর, আকর্ষণীয় ঠোঁট এবং চেহারা নিয়ে মার্কিন রিয়্যালিটি স্টার কিম কারদাশিয়ানের চেয়ে কোন অংশে কম যান না। বরং, সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটগুলোতে তার পোস্ট করা ছবি দেখতে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ। বিএমডব্লিউ সিরিজ ৩’র বিলাসবহুল গাড়ির লাল চামড়ায় মোড়ানো সিটে গোলাপি রঙের একে-৪৭ রাইফেল হাতে তোলা ছবিটি অনেকেরই চেনা। টুইটারে ক্লডিয়ার অনুসারীর সংখ্যা ১ লাখের বেশি। ৩ সন্তানের মা ও দুর্ধর্ষ তরুণী ক্লডিয়াকে সবাই ‘মেক্সিকান কিম কারদাশিয়ান’ বলেই চেনেন। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত গ্ল্যামারাস ক্লডিয়ার চারপাশে থাকেন তার দেহরক্ষীরা। মার্কিন সেলিব্রিটিদের সঙ্গে ক্লডিয়ার পার্থক্য কেবল এক জায়গায়। সেলিব্রিটিরা যেখানে নিজেদের অতি উৎসাহী ভক্তদের কাছ থেকে রেহাই পেতে তাদের দেহরক্ষীদের সঙ্গে নিয়ে ঘোরেন, সেখানে সশস্ত্র দেহরক্ষীরা গুপ্তঘাতকদের হাত থেকে সর্বক্ষণ ক্লডিয়াকে সুরক্ষিত রাখতে তার চারপাশে ঘোরাফেরা করেন। কারণ, ক্লডিয়া সম্প্রতি বিশ্বের সবচেয়ে দুর্ধর্ষ ও নৃশংস হিট স্কোয়াড লস অ্যানট্রাক্সের ডন বা মাফিয়া রানী নির্বাচিত হয়েছেন। এ খবর দিয়েছে অনলাইন মিরর। মেক্সিকোর এ গ্যাং শ’ শ’ লোমহর্ষক খুনের জন্য দায়ী। এ গ্যাংটি সিনালোয়া ড্রাগ কার্টেলের সবচেয়ে কুখ্যাত চুক্তিভিত্তিক খুনি স্কোয়াড। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর নজরে সিনালোয়া ড্রাগ কার্টেল বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী মাদক চোরাকারবারি প্রতিষ্ঠান। লস অ্যানট্রাক্স স্কোয়াডের সদস্যদের বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও দুর্ধর্ষ বলে গণ্য করা হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোয় এরকম কিছু লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এ গ্যাংটির সদস্যরা জড়িত। সাম্প্রতিক নানা অপরাধ কর্মকাণ্ডের মধ্যে একটি সেতুর ওপর ৩টি হিমায়িত মৃতদেহ ঝুলতে থাকা, ভলিবল খেলার সময় ৮ জনকে গুলি এবং প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারাবারি গ্যাংয়ের মধ্যে বন্দুকযুদ্ধে ৩০ জন নিহত হবার ঘটনাগুলো নৃশংসতম। যাই হোক। টুইটার আর ফেইসবুকের সঙ্গে ভীষণ সখ্যতা রয়েছে মাফিয়া রানীর। ফেইসবুকেও তার অনুসারীর সংখ্যা লাখের কাছাকাছি। প্রতিদিন হাজার হাজার অনুসারী তার ফেইসবুক ও টুইটারের পেইজগুলোতে ভিজিট করেন। সিনালোয়ার এক মাদক চোরাকারবারি এল চাভো ফেলিক্সের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল ক্লডিয়ার। ৩টি সন্তানের জন্ম হলেও, তাদের সম্পর্ক বেশিদূর গড়ায়নি। নতুন করে প্রেমের সম্পর্ক হয় লস অ্যানট্রাক্সের ডন জোস রডরিগো গ্যাম্বোয়ার সঙ্গে। কিন্তু, ক্লডিয়ার প্রেমিক গ্যাম্বোয়া গত জানুয়ারিতে গ্রেপ্তার হয়। এটা সুযোগ করে দিলো ক্লডিয়াকে মাফিয়ার রানীর আসনে বসার। ক্লডিয়া তখনও স্পটলাইটে আসেননি। এক তরুণীর খুনের ঘটনায় মোড় গেলো পাল্টে। প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাংয়ের সদস্যদের হাতে নির্যাতিত ও খুন হয়েছিলেন ২৩ বছরের ইউরিনা ক্যাসটিলো টরেস। চেহারায় বেশ মিল থাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্যাং ক্লডিয়ার পরিবর্তে ভুল করে গ্যাম্বোয়ার সাবেক প্রেমিকা ইউরিনাকে খুন করে। মিডিয়ায় বেশ গুরুত্বের সঙ্গে খবরটি প্রচার হলো। ওই হামলার পরও বেপরোয়া ক্লডিয়া তার লাইফস্টাইলে তেমন কোন পরিবর্তন আনেননি। এখনও তাকে বিভিন্ন নাইট ক্লাবে নিয়মিত যেতে দেখা যায়। পার্থক্য শুধু একটাই। এখন তার সঙ্গে ভারি অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত দেহরক্ষীদের থাকতে হয়। ২০০৬ সাল থেকে ক্লডিয়ার নাম মুছে ফেলতে বদ্ধপরিকর প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারবারি গ্যাংসমূহ। আর অবিশ্বাস্যভাবে এ পর্যন্ত তাতে প্রাণ হারাতে হয়েছে ১ লাখ মানুষকে। অবশ্য, তার সঙ্গে কোন অপরাধ সংগঠনের যোগসূত্র রয়েছে বলে স্বীকার করেননি ক্লডিয়া। বরং, তার বিরুদ্ধে যা রটানো হচ্ছে, তাকে কাপুরুষোচিত মিথ্যা ও অপবাদ বলেই দাবি করছেন তিনি। ক্লডিয়া যে শুধু ৩ সন্তানের এক মমতাময়ী মা, সেটা বারবার বোঝাতে গিয়েও ব্যর্থ হলেন। শেষ পর্যন্ত ইউরিনার ওপর হামলার পর কোন সময় অপচয় না করে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটে নিজের কুখ্যাত কর্মকাণ্ডের প্রচারণা শুরু করলেন ক্লডিয়া। তার সংঘটিত অপরাধ সংশ্লিষ্ট বহু ছবি আপলোড করলেন। কিন্তু, যখনই জানলেন, তিনি কিলিং স্কোয়াডের প্রধানের দায়িত্ব পালন করবেন, লস অ্যানট্রাক্সের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে সব অপরাধ কর্মকাণ্ডের অধিকাংশ প্রমাণ ইন্টারনেট থেকে একে একে সরিয়ে ফেললেন। বরং, ফেইসবুকে নতুন একটি পেইজ চালু করলেন তিনি। অপরাধ কর্মকাণ্ডে সংশ্লিষ্টতার সব ছবির পরিবর্তে সেখানে স্থান পেলো এক মমতাময়ী মায়ের ছবি, যিনি তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে সন্তানের কাছে সবকিছু। কিন্তু, অতীতের সব প্রমাণ সরাতে পারেননি ক্লডিয়া। বিএমডব্লিউ সিরিজ ৩’র বিলাসবহুল গাড়ির লাল চামড়ায় মোড়ানো সিটে গোলাপি রঙের একে-৪৭ রাইফেল হাতে তোলা ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। লস অ্যানট্রাক্স গ্যাংয়ের মাথার খুলির প্রতীকটাও একে-৪৭’র অ্যামুউনিশন ক্লিপে সুস্পষ্ট। একটি ছবিতে একটি গ্রেনেড লঞ্চার হাতেও তাকে দেখা গেছে যেখানে লেখা আছে, দেখে পা বাড়াও, বন্ধু! এদিকে গ্যাম্বোয়া গ্রেপ্তার হবার পর থেকে লস অ্যানট্রাক্সের প্রধান হন ক্লডিয়া। তখন থেকে সামাজিক যোগাযোগ ওয়েবসাইটগুলোতে তার প্রতিটি পদক্ষেপ আপডেট করা হচ্ছে। লস অ্যানট্রাক্সের সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই বলে বারবার দাবি করলেও, প্রতিদ্বন্দ্বী মাদক চোরাকারবারি সংগঠনগুলোর প্রধান টার্গেট এখন মাফিয়া রানী ক্লডিয়া। গত মাসে যখন ইউরিনা জিম থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন তাকে অপহরণ করে বিপক্ষ গ্যাংয়ের সদস্যরা। তাকে নির্যাতন করে, ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ একটি স্কুলের পেছনে ফেলে রাখা হয়। ইউরিনাকে তারা ক্লডিয়া ভেবে ভুল করেছিল। জীবনের এতো ঝুঁকি সত্ত্বেও, তা যেন থোড়াই কেয়ার করেন তিনি। বিভিন্ন নাইটক্লাবে নিয়মিত তাকে যেতে দেখা যায়। মদের নেশায় ডুবে থাকেন তিনি। অবশ্য, মাতাল হলেও, ক্লডিয়ার দেহরক্ষীরা বরাবরই মাফিয়া রানীর সুরক্ষায় নিজেদের ষোল আনা প্রস্তুত রাখেন।