সাগর পথেই এবার যাচ্ছে ইয়াবা চালান

indexএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :

আইনশৃংঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদক ট্রলায়েন্সের জন্য যত সব কৌশল অবলম্বন করছে ঠিক ইযাবা পাচারকারীরা বেচে নিচ্ছে উল্টো পথ।

পুলিশ,বিজিবি,র‌্যাবের পাশাপাশি বিভিন্ন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে সক্রিয় হয়ে স্থলপথ ও আকাশ পথে অভিযান, ধড়পাকড় অব্যাহত রাখায় চোরাচালানীরা এবারনেী-পথকেই নিরাপদ হিসেবে বেচে নিয়েছে।

সুত্রে জানা যায়, কক্সবাজাররের উখিয়া, টেকনাফ, মহেশখালী, আনোয়ারা, বাশঁখালী ও কক্সবাজার সদর সহ বিভিন্ন এলাকার সংঘবদ্ধ চোরাকারবারী সিন্ডিকেট এবার বাণিজ্যিক ও মাছ ধরার ট্রলারের মাধ্যমে সমুদ্রপথে ইয়াবা চালান নিয়ে যাচ্ছে সারাদেশে। মাঝে-মধ্যে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে ছোট-খোটো দু’একটি চালান আটক করলেও বৃহত্তর ইয়াবার চালান অনায়াসে পাচার হয়ে যাচ্ছে গন্তব্যে ।

সুত্র মতে, গত ২৭ এপ্রিল টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের জাদিমুরা এলাকায় বিজিবি-র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা ব্যবসায়ী জাহেদ হোসেন জাকু (৪৩) ও ফরিদুল আলম (৪৫) মারা যায়। এর আগে ২৩ এপ্রিল রাতে একই ইউনিয়নের লেদা গ্রামের ইয়াবা ব্যবসায়ী ছৈয়দ নুর (২৮) পুলিশের সাথে বন্দুক যুদ্ধে গুলিবৃদ্ধ হয়। এর আগে র‌্যাবের সাথে বন্দুক যুদ্ধে নুর মোহাম্মদ নামের আরেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা পাচারকারীর মৃত্যু হয়। সর্বশেষ গত ১৮মে পর্যন্ত পরবর্তী ২মাসে ১০টি বন্দুক যুদ্ধের ঘটনায় ৮ জন ইয়াবা পাচারকারীর মৃত্যু ও অন্তত ১৮/২০জন পাচারকারী আহত হয়।

আরও জানা গেছে, উখিয়া-টেকনাফের ১৫ সদস্যের একটি পাচারকারী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মহেশখালী-কুতুবদিয়া ভিত্তিক ৭ জনের একদল ইয়াবা পাচারকারী বিভিন্ন মাছ ধরার ট্রলার ও মালামাল পরিবহনে নিয়োজিত ট্রলারের মাধ্যমে ইয়াবার চালান মহেশখালী ঘাটে ও কক্সবাজার পৌরসভার নাজিরারটেক ঘাটে মজুদ করে। পরে সেখান থেকে ইঞ্জিল চালিত বিলাশ বহুল যাত্রীবাহি  ট্রলারের মাধ্যমে ইয়াবা চালান দেশের বিভিন্ন স্থানে পৌছে যাচ্ছে। সমুদ্রপথে তেমন কোন কড়াকড়ি আরোপ না থাকায় সংঘবদ্ধ কালোবাজারি চক্র প্রতিনিয়ত সাগরপথে কোটি কোটি টাকার ইয়াবা ও মাদক চালান পাচার করে যাচ্ছে বলে বিভিন্ন সুত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে।

পুলিশ ও কোস্ট গার্ড সুত্রে জানা যায়, গত ২৫ এপ্রিল গভীর রাতে টেকনাফ সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় কোস্ট গার্ড সদস্যদের সাথে চোরাকারবারীদের বন্দুক যুদ্ধে ইয়াবা সিন্ডিকেটের ৩সদস্য নিহত হয়। তারা হলেন, টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপের মোহাম্মদ আমিন ওরপে আমিন মাঝি, কক্সবাজার সদর উপজেলার ইসলামাবাদ গ্রামের জহিরুল আলম ও মহেশখালী গুরুবঘাটার মোহাম্মদ কালু। নিহত ওই ৩জনই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকাভূক্ত ইয়াবা পাচারকারী বলে জানা গেছে। মহেশখালী গুরুবঘাটা গ্রামের জনৈক বাবরের মালিকানাধীন ওই ট্রলারটি দীর্ঘদিন যাবত চোরাইপণ্য পাচারকাজে ব্যবহৃত হয়ে  আসছিল বলে মহেশখালী পুলিশ সুত্রে জানা গেছে।

বর্ডার গাড বাংলাদেশ (বিজিবি) কক্সবাজার ১৭ বিজিবি’র সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল খোন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, মিয়ানমারের বিভিন্ন সীমান্তে ইয়াবা তৈরীর একাধিক কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় উৎপাদিত ইয়াবা টেকনাফ, উখিয়া, নাইক্ষ্যংছড়ি ও বান্দবারের প্রায় ১৮টি সীমান্ত পথ দিয়ে এদেশে ঢুকছে। এসব ইয়াবার চালান আগে সড়কপথে পাচার হয়ে আসলেও বিজিবি ও আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তৎপর হওয়ায় চোরাচালানীরা রুট পরিবর্তন করে এখন সিংহভাগ ইয়াবা সাগরপথে পাচার করছে।

বিজিবি সুত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থ বছরের বিগত সময়ে বিজিবি সদস্যরা প্রায় সাড়ে ২৪ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ৪ লক্ষাধিক ইয়াবা সহ অর্ধশতাধিক পাচারকারীকে আটক করেন।

টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোক্তার হোসেন বলেন, ইতিপুর্বে টেকনাফ থেকে বিভিন্ন পণ্য বোঝাই ট্রাক, যাত্রীবাহি বাস, ব্যক্তিগত বিলাশ বহুল গাড়ীতে করে ইয়াবা পাচার হয়ে আসছিল। সড়কপথে আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তৎপর হওয়ার এবার সমুদ্রপথে ইয়াবার চালান পাচার হচ্ছে। এসব পাচারকারীদের একটি তালিকা করে তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।

উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ ( ওসি) অংসা থোয়াই জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের তালিকা ইয়াবা পাচারকারী ছাড়াও স্থানীয় ভাবে যেসব ব্যক্তি ইয়াবা পাচারের সাথে জড়িত রয়েছে তাদের তালিকা করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

টেকনাফ ৪২ বিজিবি’র ভারপ্রাপ্ত নাজমূল সাহাদাৎ সৌম্য বলেন, ইয়াবা পাচার প্রতিরোধে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত এলাকায় সবসময় সতর্ক রাখা হয়েছে। ইয়াবা পাচারকারীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।