একটি গোষ্ঠী বাংলাদেশ নিয়ে মিথ্যাচার করছে : আইনমন্ত্রী

SAMSUNG DIGITAL CAMERAটাঙ্গাইল প্রতিনিধি :
আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, একটি প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী আজ বাংলাদেশ নিয়ে বিভিন্ন কথা বলে মিথ্যাচার করে জনগনকে বিভ্রান্ত করছে। যারা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি তারা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিভিন্ন কথা বলছে-আমরা তাদের ধিক্কার জানাই। দেশের ওই প্রতিক্রিয়াশীল গোষ্ঠী সরকারের সফলতা ও রাষ্ট্রের উন্নয়নকে বাঁধা গ্রস্থ করতে বিভিন্ন ভাবে ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। ২০০৯ সালের বিডিআর বিদ্রোহ ছিল এ ষড়যন্ত্রের এক উল্লেখযোগ্য অধ্যায়। মন্ত্রী বলেন, এই বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুর সৃষ্টি। বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দেশের প্রভুত উন্নয়ন করছে। দেশে এখন আর দুর্ভিক্ষ নেই। বর্তমান সরকারের সময় দেশের মানুষ শান্তিতে রয়েছে। মন্ত্রী আরো বলেন, দেশের কোন মানুষ আইনের উর্ধ্বে নয়। তাই সরকারের প্রথম কাজ হচ্ছে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা। তাই আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি জেলায় আইন সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতার সুফল ও বিচার প্রার্থীদের সুবিদার্থে ৬৪ জেলায় বহুতল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৩৪টি জেলায় নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। এর ফলে দীর্ঘ দিন আটকে থাকা মামলার জট কমবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নব নির্মিত টাঙ্গাইল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

টাঙ্গাইল চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ১২ তলা ভীত বিশিষ্ট ৫ তলা নব নির্মিত ভবনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘গেষ্ট অব অনার’ হিসেবে খাদ্য মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. কামরুল ইসলাম বলেন, আওয়ামীলীগের উদ্যোগে ২০০৯ সালে বিচার বিভাগ পৃথক হয়। স্বাধীনভাবে এ বিভাগ পরিচালনার জন্য ৬’শ বিচারক ও কয়েক’শ সহকারি জজ নিয়োগ দিয়েছে এ সরকার। এরফলে বিচার বিভাগ স্বাধীন ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। স্বাধীন এ বিচার ব্যবস্থার ফলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান হত্যার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। বিএনপি’র শাসন আমলে বিচার বিভাগ স্বাধীন না থাকায় জিয়া হত্যার বিচার এখনও সম্পন্ন হয় নাই। তিনি বলেন, ৩০ মে জিয়া হত্যা মামলা হয়েছিল। ১৯৯১ সনের ১ জুন মামলাটি বন্ধ হয়ে যায়। ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠন করার পর বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার কার্য শুরু করার পাশাপাশি জিয়া হত্যা মামলা পুনরায় চালু করেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালের শেষে আমরা ৭১’র মতো ভয়াবহ রূপ দেখেছি। অনেক নিরীহ মানুষকে জ্বালিয়ে-পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। আজ মালয়েশিয়ায় বসে ষড়যন্ত্রকারীরা তথ্য সন্ত্রাস চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু বর্তমানে দেশের মানুষ নির্বিঘেœ চলাচল করছে। আজ নতুন প্রজন্ম সবকিছু জানতে পারছে।

টাঙ্গাইলের জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ মাহবুব-উল-হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাবেক খাদ্য মন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি, টাঙ্গাইল-৬ আসনের সংসদ সদস্য খন্দকার আব্দুল বাতেন, টাঙ্গাইল-৩ আসনের সাংসদ আমানুর রহমান খান রানা, টাঙ্গাইল-৮ আসনের সাংসদ অনুপম শাহজাহান জয়, সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ মনোয়ারা বেগম, নারী হাজেরা সুলতানা এমপি, আইন মন্ত্রনালয়ের সচিব সালেহ মোহাম্মদ শেখ জহিরুল হক। বক্তব্য রাখেন, টাঙ্গাইল জেলা অ্যাডভোকেট বার সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আলহাজ শফিকুল ইসলাম রিপন, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আইয়ুব আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সুশীল সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর পূর্বে খাদ্যমন্ত্রী সার্কিট হাউজে খাদ্য বিভাগের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিময় করেন।