সাগর পথে আহত যাত্রীদের বাড়ি ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু

coxএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার : সাগর পথে অবৈধ ভাবে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে আহত ৩০৬ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শুকনো খাবারের ব্যব¯’া করে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে কক্সবাজার পুলিশ। জেলা সদর হাসপাতালে চলছে নিহত ৫ জনের ময়না তদন্ত। সেই সাথে আহতদের মধ্যে ৩৪ জনকে ভর্তি করা হয়েছে একই হাসপাতালে। আটক অব¯’ায় চিকিৎসাধীন রয়েছে ২ জন থাইল্যান্ড ও ১ জন মিয়ানমার নাগরিক।

নিহত ও আহত মালয়েশিয়াগামী যাত্রীদের উদ্ধার ও আটককৃত ৩ জনকে বুধবার রাতে নিয়ে আসা হয় সেন্টমার্টিনে। সেখান থেকে রাতেই ৫ জনের মৃত দেহ, তিন ভিন্ন দেশী নাগরীক সহ ৭০ জনকে টেকনাফ থানায় সোর্পদ করে কোষ্টগার্ড। আহতদের মধ্যে ৩১ উদ্ধারকৃত মালয়েশিয়াগামীকে টেকনাফ স্বা¯’্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়ার পর টেকনাফ থানায় রাখা হয়েছে।

টেকনাফ কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার লে. কর্ণেল কাজী হারুনুর রশীদ জানান, উদ্ধারকৃত ও আটককৃত ৬৫ জন এবং ৫ জনের মৃত দেহ সহ ৭০ জনকে টেকনাফ থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। অন্যাদেরও পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

তিনি বলেন, নিহত ৫জনের পরিচয় সনাক্ত করতে পেরেছে উদ্ধারকারীরা। তারা হচ্ছে, যশোরের এনায়েতপুর উপজেলার হরিরামপুর গ্রামের মো. রশিদের ছেলে মো. সেলিম (৩১) ও মো. মোকামের ছেলে মো. রুবেল (৩৫), বগুড়ার কাহালু উপজেলার সাইফুল ইসলাম (৪০) ও সিরাজগঞ্জের মো. মনির (৩০) ও মোঃ ইসলাম ।

কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুুপার তোফায়েল আহম্মদ জানান, আমার এ পর্যন্ত ৫৬ জনকে বুঝিয়ে পেয়েছি। তৎমধ্যে ৩১ জন রয়েছে টেকনাফ থানা হাজতে। ৩৪ কে ভর্তি করা হয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৩৪ জনের মধ্যে ( ৩জন আসামী) ২ জন থাইল্যান্ড ও ১ জন মিয়ানমার  নাগরিকও রয়েছে।

তিনি জানান, ৬৫ জনকে বুধবার রাতে টেকনাফ থানায় সোর্পদ করে কোষ্টগার্ড। নিহত ৫ জনের মৃত দেহ ময়না তদন্তের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তোফায়েল আহম্মদ আরো জানিয়েছেন, আহতদের মধ্য থেকে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে। প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, মিয়ানমার ও বাংলাদেশের সংঘবদ্ধ একটি দালাল চক্র এই ঘটনার সাথে জড়িত। আর বাংলাদেশের অন্তত ১৫ থেকে ২০টি জেলা থেকে তারা মালয়েশিয়া যাওয়ার জন্য লোক সংগ্রহ করেছে। এতে ধারণা করা হয় এসব জেলাতেও দালালদের সদস্য রয়েছে।

আটক থাইল্যান্ডের ২ ও মিয়ানমারের ১ নাগরিকসহ এই ঘটনার সাথে জড়িত দালালদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলার প্র¯’তি নিচ্ছে পুলিশ।

অপরদিকে, চোরাইপথে সাগর দিয়ে মালয়েশিয়া যাত্রাকালে আহত ৩১১ যাত্রীকে প্রাথমিক চিকিৎসা ও শুকনো খাবারের ব্যব¯’া করে নিজ নিজ বাড়িতে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করতে যাচ্ছে পুলিশ। ট্রলারের ৩১১ জন আরোহীর মধ্যে বেশির ভাগই টেকনাফ, মেহেরপুর, মাদারীপুর, সাতক্ষীরা, খুলনা, যশোর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নারায়ণগঞ্জ, ফরিদপুর, ঝিনাইদহ, নাটোর ও রবিশালের বাসিন্দা রয়েছে।

মালয়েশিয়াগামী আহতরা জানান, তাদের সাথে সাথে ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পরিমাণ টাকার চুক্তিতে মালয়েশিয়া নিয়ে যাওয়ার চুক্তি করে দালালরা। কথা ছিল একদিনের মধ্যে জাহাজ ছেড়ে যাবে মালয়েশিয়ার উদ্দেশ্যে। কিš’ বোটে উঠার পর দিনের পর দিন সাগরের বিভিন্ন পয়েন্টে নোঙর করে চলছিল যাত্রী উঠানোর কাজ। এতে খাবার ও পানির সংকটে পড়ে অনেকটা ধর্য্য হারিয়ে ফেলছিল যাত্রীরা।

এক পর্যায়ে যাত্রীরা এর প্রতিবাদ জানালে সেন্টমার্টিনের অদূরে যাত্রীদের উপর চড়াও হয়ে নির্যাতন শুরু করে দালালরা। এতে যাত্রীরাও ক্ষিপ্ত হলে বেধে যায় সংঘর্ষ। এক পর্যায়ে দালালরা বিভিন্ন বোট থেকে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে যাত্রীদের উপর। গুলিতে ৫জন যাত্রী নিহত হয়। গুলিবিদ্ধ হয় অন্তত ৩০জন। আর আহত হয়েছে অর্ধ শতাধিক।

কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার সুলতান আহমদ সিরাজী জানিয়েছেন, ভর্তি হওয়াদের মধ্যে একজনের অব¯’া আশংকাজনক। অন্যদের বেশীরভাগই হাতে, পায়ে, মুখে ও শরীরের বিভিন্ন ¯’ানে গুলির আঘাত রয়েছে।

শিবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মিজানুর রহমান জানান, অবৈধভাবে নদীপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে বুধবার বিকেলে বঙ্গোপসাগরে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমাš– থেকে উদ্ধার যাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। ওই ট্রলারের যাত্রী শিবপুরের জয়নগর গ্রামের নাঈমের বাবা আসাদ মিয়ার অভিযোগের ভিত্তিতে কামালকে আটক করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত থাকলে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।