সুরমার ভাঙ্গনে ভাংছে মসজিদ, ঘরবাড়ি লোকালয়

sunamganjঅরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
অদৃশ্য কোন জলদানব সুরমা নদীগর্ভে বিলীন করে দিচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। এই বিশ্বাসে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার মাঝেরগাও গ্রামের মানুষজন নদীগর্ভে ভেঙ্গে পড়া মসজিদের কাছে দাড়িয়ে লাইন ধরে সুরমা নদীতে বুধবার বিকেলে তাবিজ নিক্ষেপ করে সড়ক রক্ষায় আকুতি জানিয়েছেন! রাস্তা সংস্কারে বারবার জোড়ালো দাবি জানানোর পরও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় জলদানব থেকে রাস্তা রক্ষার জন্য আল্লার নাম নিয়ে নদীতে তাবিজ ছিটিয়ে দেন তারা। এদিকে দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা গতকাল বুধবারও ভেঙ্গে নদীতে পড়েছে। মুসি সম্প্রদায়ের দুটি পরিবারের বাড়ি ও একটি মসজিদ ভেঙ্গে পড়েছে নদীতে। সড়ক ভেঙ্গে নদীতে পড়ায় ও গ্যাস লাইনের পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপজেলা সদরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। প্রতিদিন ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারণ করলেও সংশ্লিষ্টরা ভাঙ্গন রোধে কোন উদ্যোগ নিচ্ছেনা বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।

জানা যায়, বর্ষা শুরু হওয়ার পর দোয়ারাবাজার-ছাতক সড়কের উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সামনের পাকা সড়কের বেশ কিছু অংশ গত তিনদিন আগে সুরমা নদীতে ভেঙ্গে পড়ে। এখন হুমকিতে আছে উপজেলা পরিষদের কয়েকটি স্থাপনা, আশপাশের বাড়িঘর ও দোকানপাট। উপজেলা পরিষদের নিকটবর্তী মাঝের গাঁও গ্রামের জামে মসজিদসহ কয়েকটি বসত ঘর বুধবার সকালে ভেঙ্গে নদীতে মিশে গেছে। এ সড়কের গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি ভেঙ্গে যাওয়ায় গত তিনদিন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও এ সড়কের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নিকটবর্তী কলেজ ঘাটেও ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। হাজী মিয়াধন আলী দাখিল মাদ্রাসা, মুরাদপুর, পূর্ব মাছিমপুর, পশ্চিম মাছিম পুর সহ কয়েকটি গ্রামের শতাধিক ঘরবাড়ি হুমকির মুখে রয়েছে। বুধবার মাঝেরগাও গ্রামের মসজিদটি নদীতে ভেঙ্গে পড়ায় এলাকার মানুষজন সড়ক রক্ষায় আল্লাহর নাম নিয়ে নদীতে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে তাবিজ ছিটিয়েছেন। পরে এলাকার মানুষজনও ভাঙ্গনরোধে তাদের সঙ্গে মৌন প্রতিবাদে অংশ নেন। মাঝেরগাও গ্রামের রজব আলী বলেন, বারবার আবেদন নিবেদন জানানোর পরও কেউ সড়কটি সংস্কারে এগিয়ে আসেনি। তাই আমরা এক আল্লার কাছে নদীতে তাবিজ ছিটিয়ে সড়ক রক্ষার আকুতি জানিয়েছি। এই গ্রামের মুরুব্বি জহিরুল ইসলাম বলেন, সুরমা নদী আমার ভিটে মাটি নিয়ে গেছে। তিনি বলেন স্থানীয় প্রশাসন ও  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরে এই দূরাবস্থা দেখেও কোন উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকার লোকজন তাবিজ ছিটিয়ে সড়ক রক্ষার আকুতি জানিয়েছেন। এমন প্রার্থনা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলে তিনি জানা। এদিকে মঙ্গলার গাঁও গ্রামের রবি দাস ও রসম দাসের দুটি বসত ঘর বুধবার সকালে নদীতে ভেঙ্গে পড়েছে। ওই গ্রামের ১৫ থেকে ২০টি বসত ঘর এখন হুমকির মুখে রয়েছে। দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কামরুজ্জামান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের সড়কের সামনের ভাঙ্গনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছে। আশা করছি ২/১ দিনের মধ্যেই এই সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হবে।##