কোনো গডফাদার পরিবার নারায়ণগঞ্জে থাকতে পারবে না

aca22f67da2234b838c5d7df8e7a7bc9-narayan3_78729বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : নারায়ণগঞ্জের ওসমান পরিবারকে চ্যালেঞ্জ জুড়ে দিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী।তিনি বলেছেন, অপহরণ, গুম-খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত ও দায়ী কোনো গডফাদার পরিবার এই শহরে থাকতে পারবে না। তিনি বলেন, একের পর এক অপহরণ, খুনের ঘটনা ঘটছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের সাজা হচ্ছে না। তবে এভাবে আর চলবে না। যত বড় গডফাদারই হোক না কেন, আর কোনো অন্যায় মেনে নেওয়া হবে না।

আজ দুপুরে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবে ‘অপহরণ গুম খুন, কোথায় চলছে নারায়ণগঞ্জ’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় জেলার শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী, আইনজীবী, সাংবাদিক, নারীনেত্রী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরাও অংশ নেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সেলিনা হায়াৎ বলেন, কেউ না থাকলেও তিনি নারায়ণগঞ্জে থেকেই গডফাদারদের বিরুদ্ধে লড়াই করে যাবেন। সাম্প্রতিক সময়ে ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীরা গুম-খুনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় ও সোচ্চার হওয়ায় এই লড়াইয়ে জয়ের ব্যাপারে তাঁর দৃঢ় আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন তিনি। সাংসদ শামীম ওসমানের নাম উল্লেখ না করে আইভী বলেন, ২০০৮-এর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের বিজয়ের পর পালানো অবস্থা থেকে দেশে ফিরে ওই ব্যক্তি একই কাজে লিপ্ত হন। তিনি বলেন, পুলিশ প্রশাসন কিছুই করতে পারছে না। কেননা নারায়ণগঞ্জে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও থানায় ওসি হিসেবে আসতে হলে তাঁদের মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হয়। প্রতি মাসে মাসোহারাও দিতে হয়। ফলে তাঁরা কীভাবে সঠিক কাজ করবে।

ওসমান পরিবারের পাশে থাকা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে মেয়র বলেন, ‘একটি-দুটি পরিবারের পাশে থাকলে হবে না। জনগণের পাশে থাকতে হবে। এক পরিবারের পাশে থাকবেন আর বাকি পরিবার ওই পরিবারের কারণে আতঙ্কে থাকবে, তা তো হতে পারে না।’ তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ বা বিএনপি মনে করে ৬৪ জেলায় ৬৪ জন গডফাদার থাকলেই তাদের কাজ হয়ে যাবে। সাধারণ মানুষ বা কর্মীদের তাদের দরকার নেই। তিনি বলেন, এই ভাবনা ঠিক না। সাধারণ মানুষ জেগেছে। যেকোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটবে।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, ক্রীড়া, সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নারায়ণগঞ্জের যে সম্ভাবনা ছিল, তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। এর পেছনে মূল কারণ হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি। আর এই অবনতির জন্য তাঁরা রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন, পুলিশ ও প্রশাসনের ব্যর্থতা, গডফাদার পরিবারের পেছনে সরকারের উচ্চপর্যায়ের সমর্থনকে দায়ী করেন। নারায়ণগঞ্জকে আতঙ্ক, ভয় ও সন্ত্রাসের জনপদের অবস্থান থেকে বের করে আনতে নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ করতে এবং প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।

সাত খুনের ঘটনায় নিহত আইনজীবী চন্দন সরকারের মেয়ে সুস্মিতা সরকার আলোচনায় অংশ নিয়ে বলেন, তাঁদের আর কিছু চাওয়ার নেই। তাঁরা কেবল বিচার চান। তাঁরা চান এ ধরনের আর একটি ঘটনাও যেন জেলায় আর না ঘটে।

এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক প্রবীর কুমার সাহা বলেন, রাজনীতিবিদদের কাছে চাওয়া তাঁরা আমাদের নিরাপত্তা দেবেন। তিনি বলেন, ত্বকীর মতো একজন নিরীহ শিশুকে হত্যা করা হলো। অথচ বিচার হবে না, তা হতে পারে না। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জের মানুষ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতে বিব্রত হই।