আবাও খুলনাসহ ২১জেলায় লোডশেডিং চরমে,জনজীবন অতিষ্ঠ

khulna-001ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল : আবাও শুরু হয়েছে খুলনাসহ দক্ষিঞ্চালের ২১ জেলার থেমে থেমে লোডশেডিং। বর্তমানে গরমের সাথে পাল্লা দিয়ে চলছে লোডশেডিং। এতে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ অস্বস্তিকর অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছে। কাজ-কর্মে কেমন যেন স্থবিরতা নেমে এসেছে। জাতীয় গ্রীডে প্রতিদিন ছয় হাজারেরও বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও পদ্মার এপারেরএকুশ জেলার জন্য বরাদ্দ রাখা হয় মাত্র ৭শ’ মেগাওয়াট বা তার একটু বেশি। ওয়েষ্ট জোন পাওয়ার ডিষ্ট্রিবিউশন কোম্পানীর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সূত্র মতে, গতকাল মঙ্গলবার পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ৯৭৬.৮ মেগাওয়াট। পক্ষান্তরে সরবরাহ হয় ৭৭৮.৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ গতকাল সন্ধ্যায় একুশ জেলার লোডশেডিং ছিল ১৯৮ মেগাওয়াট।সূত্রটি আরও জানায়, মঙ্গলবার অফ পিক ও পিক আওয়ারে খুলনা কুইক রেন্টাল, নওয়াপাড়া-১, ভেড়ামারা-১ এবং ভেড়ামারা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট বন্ধ ছিল। আর খুলনার সরকারী প্রতিষ্ঠান ১১০ ও ৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র দু’টিতো বন্ধ আছে অনেক দিন ধরেই। এছাড়া মঙ্গলবার অফ পিক আওয়ারে বন্ধ ছিল ফরিদপুর রেন্টাল পাওয়ার প্লান্ট, বরিশাল গ্যাস টারবাইন বিদ্যুৎ কেন্দ্র-১ ও ২ নম্বর ইউনিট এবং ভেড়ামারা-৩ কেন্দ্রটি। ভেড়ামারা-২ কেন্দ্রটি অফ পিক আওয়ারে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করলেও পিক আওয়ারে বন্ধ ছিল।সূত্রটি আরও জানায়, মঙ্গলবার পিক আওয়ারে কেপিসিএল-১এ ১১০, কেপিসিএল-২এ ৯৯, ফরিদপুর রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে ৩২, নর্থ ওয়েষ্ট পাওয়ার প্লান্টে ১০০, বরিশাল গ্যাস টারবাইন-১এ ১৩.৫, বরিশাল গ্যাস টারবাইন-২এ ১৩.৫, ভোলা রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টে ৩০, নওয়াপাড়া-২এ ৪০, গোপালগঞ্জ পিকিং পাওয়ার প্লান্টে ৭১ ও ভেড়ামারা-৩এ ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করে।এসময় ভারত-বাংলাদেশের ৩২৪ মেগাওয়াট মিলিয়ে এ অঞ্চলের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন হয় ৮৪৯ মেগাওয়াট। আর আন্ত:সংযোগের মাধ্যমে জাতীয় গ্রীড থেকে সরবরাহ হয় মাত্র ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অবশ্য মঙ্গলবার পিক আওয়ারে ৮৩৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হলেও সরবরাহ হয় মাত্র ৭৭৮.৩ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ৬০.৭ মেগাওয়াট বিদ্যুতের কোন হিসাব নেই বিদ্যুৎ বিভাগের কাছে।অপরদিকে গত ৬ দিনের হিসাবে দেখা যায়, ওজোপাডিকোর একুশ জেলায় প্রতিদিন পিক আওয়ারে ১২৬ থেকে ১৯০ মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং হয়। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৬ জুন সন্ধ্যায় কোন লোডশেডিং ছিল না বলেও সূত্রটি জানায়। বাকী ৫ দিনের লোডশেডিং চিত্র অনুযায়ী ৫ জুন ১৭৩.৭ মেগাওয়াট, ৭ জুন ১২৬.৪ মেগাওয়াট, ৮ জুন ১৬৪.৮ মেগাওয়াট, ৯ জুন ১৯০.৪ মেগাওয়াট এবং মঙ্গলবার ১৯৮ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।এভাবে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের ফলে জনজীবনে দুর্বিষহ অবস্থা চলছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ নির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রায় অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে।