সৌদি রাজার গোপন বিয়ে নিয়ে তুলকালাম

1402409010._78498বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : ১৯৬৮ সালে সৌদির রাজা প্রয়াত ফাহাদ গোপনে বিয়ে করেন খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী জানান হার্বকে। সেই সময়ে হার্বের বয়স মাত্র ১৯ বছর। পরবর্তীতে ফাহাদ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো সারা জীবন তার ভরণপোষণের দায়িত্ব বহন করবেন।  এরপরে ফাহাদের মৃত্যুর পরে তার ছেলে আবদুল আজিজ এই প্রতিশ্রুতি রক্ষার দায়িত্ব নেন।

প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, আবদুল আজিজ তাকে লন্ডনে দুটি বিলাসবহুল বাড়ি এবং এক কোটি ২০ লাখ পাউন্ড নগদ অর্থ দেয়ার কথা বলেন।

বর্তমানে হার্বের বয়স ৬৫ বছর। এই এতোগুলো বছর ধরে তিনি শুধু আশ্বাসের পর আশ্বাস পেয়ে আসছেন, কিন্তু এর কোনো বাস্তবায়ন নেই।

অবশেষে গতকাল সোমবার হার্বের অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি আদালতে উঠে। যদিও এর আগেই ব্রিটিশ সরকারের কাছে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমা’-র আবেদন করেছেন আবদুল আজিজ। কিন্তু গতকাল সোমবার বিচারক রায় দিয়েছেন, এ পরিস্থিতিতেও মামলাটি নিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়া যেতে পারে।

মামলার বিচার শুরুর প্রেক্ষিতে হার্ব বলেন, ‘১২ বছর পরে আজ আমি অনেক আনন্দিত। যদি সৌদির যুবরাজ এটি নিয়ে আপিল করে তাহলে তো আমি আরও আনন্দিত। কারণ যে কাহিনী আমি শুরু করেছি সেটিই শেষ করতে চাই।’

ব্রিটিশ নাগরিক হার্ব অভিযোগে জানান, ‘১৯৮২ সালে সৌদির প্রয়াত রাজা তাকে জোর করে তার সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন। রাজা ফাহাদ মারা যাওয়ার দুবছর পরে ২০০৩ সালে সৌদি যুবরাজ আবদুল আজিজ তাকে নগদ অর্থ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।’

কিন্তু মামলার বিচার কাজ শুরু হলে, আবদুল আজিজ কোনো শুনানিতে অংশগ্রহণ করেনি বলে অভিযোগ করেছেন মামলার বিচারক। শুনানিতে হাজির না হয়ে আবদুল আজিজ লন্ডন দূতাবাসের মাধ্যমে ‘রাষ্ট্রীয় ক্ষমা’র আবেদন জানিয়েছেন।

দ্রারিদ্রপীড়িত ফিলিস্তিনের এক খ্রিষ্টীয় পরিবারে হার্বের জন্ম। বৈরুতে এক পার্টিতে সৌদি রাজা ফাহাদের সঙ্গে হার্বের প্রথম দেখা। ফাহাদ বিয়ের পরে হার্বকে কখনোই প্রাসাদের চার দেয়ালের বাইরে যেতে দেননি। এমনকী সন্তান ধারণের তার নিষেধাজ্ঞা ছিলো।

হার্ব আরও বলেন, সৌদির রাজ পরিবার কখনোই এই বিয়েতে সম্মতি দিতো না। কিন্তু রাজা সবসময়ই টেলিফোনের মাধ্যমে তার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন।

হার্ব মনে করেন, তার সঙ্গে সৌদি রাজার বিয়ের কাহিনী আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এমনকি এরইমধ্যে অনেক চলচ্চিত্র নির্মাতা এটি নিয়ে সিনেমা নির্মাণের কথাও চিন্তা করে ফেলেছন।