‘চীন সফর একটি বিরাট সাফল্য’ : প্রধানমন্ত্রী

pmবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  বলেছেন, চীনে তাঁর সফরে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদার এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার এক নতুন পথ উন্মোচিত হবে। তিনি বলেন, ‘আমার চীন সফর একটি বিরাট সাফল্য।’ এখন থেকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও সাংস্কৃতিক বিনিময় অতীতের চেয়ে আরও বেশি গুরুত্ব পাবে।
আজ বেইজিংয়ে ‘সাম্প্রতিক বছরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক সাফল্য এবং চীনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব’ শীর্ষক সেমিনারে চীনের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ কথা বলেন। চায়না ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ (সিআইআইএস) বেইজিংয়ে তার নিজস্ব কার্যালয়ে এ সেমিনারের আয়োজন করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ-ভারত-চীন-মায়ানমার (বিআইসিএম) অর্থনৈতিক করিডোর প্রতিষ্ঠায় চীনের পস্তাবের প্রতি বাংলাদেশ সমর্থন জানিয়েছে। এক সময়ের জনপ্রিয় ‘সিল্ক রুট’ হিসাবে পরিচিত এই করিডোরের ফলে নেপাল ও ভুটানসহ এ অঞ্চলের সব দেশের জনগণ লাভবান হবে। স্বল্প সময়ে চীনের দ্রুত অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নতির প্রশংসা করে শেখ হাসিনা বলেন, চীনের সাম্প্রতিক উন্নয়নে তিনি অভিভূত। চীন থেকে বাংলাদেশে অনেক কিছু শেখার রয়েছে।
এসময় সিআইআইএস-এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও সাবেক কুটনীতিক রুয়ান জংঝে তার স্বাগত বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেন এবং তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে সাফল্যের বর্ণনা দেন।
রুয়ান জংঝে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসাবে গড়ে তুলতে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকারের জন্য তার প্রশংসা করেন। এ প্রশ্নোত্তর পর্বে পিপলস ডেইলি ও শেন জেন টেলিভিশনের সাংবাদিক এবং চায়না কমিউনিকেশন ইউনিভার্সিটির (সিসিইউ) ফ্যাকাল্টির সদস্যসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ এবং জনগণের সাথে জনগণের যোগাযোগসহ চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কোন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
এসময় সিআইআইএস সদস্য, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটে বাংলা ভাষার বিপুল সংখ্যক সাবেক ছাত্র-ছাত্রী এবং উভয় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলা ও চীনা ভাষায় অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনকে সহযোগিতার অংশীদার হিসেবে উল্লে¬খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোনো আদর্শিক ও আঞ্চলিক পক্ষপাত ছাড়াই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীন উন্নয়নশীল ও স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থে কার্যকর যে কোনো ইস্যুকে পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আসছে।
শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ন্যায়বিচারের ভিত্তিতে একটি সম্প্রীতির সমাজ গড়ার চীনের নীতির প্রতি পুরোপুরি সমর্থন দিয়ে আসছে। জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে গভীরভাবে আগ্রহী।