উখিয়া উপকুলে দু’শতাধিক জেলে পরিবারে উচ্ছেদ আতংক

coxs Ukhiya Pic 7.6.14এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
কক্সবাজারের উখিয়ার সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় বসবাসরত প্রায় দুই শতাধিক ভূমিহীন ছিন্নমূল জেলে পরিবার উচ্ছেদ আতংকে উৎকন্ঠায় দিনাতিপাত করছে। অসহায় এই জেলে পরিবারের দাবী তাদেরকে উচ্ছেদ করা হলে আসন্ন বর্ষা মৌসুমে কোথাও আশ্রয় নেওয়া যাবেনা। খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন-যাপন করা ছাড়া উপায়ান্তর থাকবে না তাদের। বর্ষা মৌসুমে অন্তত মানবিক দিক বিবেচনা করে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ ও জেলা প্রশাসকের নিকট আকুল আবেদন জানিয়ে জেলে পরিবার গুলো এলাকায় মানববন্ধনসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

এলাকাবাসি সুত্রে জানা যায়, উখিয়া উপজেলার উপকূলীয় ইউনিয়ন জালিয়া পালংয়ের উত্তর সোনাপাড়া গ্রাম। প্রায় ২শতাধিক পরিবারে প্রায় ১২’শ মানুষের বসবাস এখানে। ভূমিহীন দরিদ্র ব্যক্তিদের নিয়ে গড়া এ গ্রামটির মানুষের একমাত্র পেশা সমুদ্রে মাছ শিকার করা। অসহায় ছিন্নমূল, ভূমিহীনদের নিয়ে গড়ে উঠা উত্তর সোনাপাড়া গ্রামটি রেজু ব্রিজ সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কের উত্তরাংশে। প্রায় একশ বছরের প্রাচীন এ গ্রামটিতে মানুষ বসবাস করে আসছে।

বর্তমানে জেলা প্রশাসক ও বনবিভাগের নির্দেশে মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পার্শ¦ ও পূর্ব পার্শ্বের গড়ে উঠা অবৈধ বসতি উচ্ছেদের মাইকিং সহ উচ্ছেদ কার্যক্রম শুরু করে। যার ফলে ওই গ্রামের বসবাসরত হাজার হাজার নারী-পুরুষ রয়েছে উচ্ছেদ আতংকে রয়েছে। তাদের দিন কাটছে উৎকন্ঠায়।

বয়োবৃদ্ধ ছিদ্দিক আহমদ(৭২) ও নুরুল হক (৭৭) সাংবাদিকদের জানান,আমাদের আদিপুরুষ পরস্পর বংশাক্রমে এ গ্রামে বসবাস করে আসছে। আমাদেরকে উচ্ছেদ করলে এ গ্রামের লোকজন কোথায় গিয়ে আশ্রয় পাবে ? একই গ্রামের রশিদা বেগম (৫৫) ও সোনা মেহের (৫০) কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, কয়েক যুগ ধরে এ গ্রামে আমরা পরিবার পরিজন নিয়ে জীবন-যাপন করে আসছি। এ মুহুর্তে উত্তর সোনারপাড়া গ্রামে উচ্ছেদ অভিযান করা হলে আমাদের মাথা গোজার জায়গা টুকুও হারিয়ে যাবে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া আওয়ামীলীগের সদস্য ও বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী লিয়াকত আলী বাবুল বলেন, উক্ত গ্রামে বসবাসরত সকলেই ভূমিহীন ছিন্নমূল ও অসহায় গরিব। তারা সকলেই বাংলাদেশী নাগরিক ও স্থানীয় বাসিন্দা। তাদের জীবন-জীবিকা চলে জেলে ও দিন মজুরের কাজ করে। এমতাবস্থায় রোহিঙ্গা বসতি মনে করে উচ্ছেদ করা হলে বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক আচরণ হবে। জালিয়াপালং ৩ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আবু তাহের জানান, খালের ভাঙ্গণ ও জলোচ্ছাসে বসত ভিটা বিলীন হয়ে সব কিছু হারিয়ে তারা এ এলাকায় বসতি গড়ে তুলে দীর্ঘ কয়েকযুগ ধরে। তিনি বর্ষার মৌসুমে উচ্ছেদ কার্যক্রম আপাতত না করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট সবিনয়ে অনুরোধ জানান।

উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ সাইফুল ইসলাম জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশে জেলা প্রশাসক মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বে গড়ে উঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের আওতাভুক্ত না হওয়ায় তিনি বেশি কিছু বলতে চায়নি। সচেতন এলাকাবাসী বলেছেন, উত্তর সোনারপাড়া গ্রামটি মেরিন ড্রাইভ সড়কের পশ্চিম পার্শ্বের আওতাধীন নয়। সুতরাং উচ্ছেদ কার্যক্রমে এ গ্রামটি অর্ন্তভূক্ত না করা উচিত।