মনপুরা কলা তলী মধ্যবতি বাধঁ মির্মিত হলে জেগে উঠবে ৩০ সহস্রাধিক একর জমি

Volaমোঃ ছালাহউদ্দিন, মনপুরা প্রতিনিধি :
মনপুরার মূল ভূ-খন্ডের উত্তর প্রান্ত থেকে বিচ্ছিন্ন কলাতলী চর পর্যন্ত মধ্যবর্তী মেঘনা নদীর মধ্য দিয়ে বাঁধ নির্মিত হলে উত্তর পার্শ্ব থেকে ধেয়ে আসা মেঘনার করাল স্রোত মনপুরার মূল ভূ-খন্ডে আঘাত করবে না। পানির প্রবাহ থেমে গেলে স্থায়ী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা পাবে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রুপালী দ্বীপ মনপুরা। এতে করে জেলা শহরের সাথে মনপুরার যোগাযোগ সহজতর থেকে সহজতর হবে। এছাড়া বাঁেধর উভয়দিকে বহু দুর পর্যন্ত ৩০ সহ¯্রাধিক একর জমি জেগে উঠবে। ফলে নদী ভাঙ্গনের কবলে ভিটে মাটি হারা ২০ হাজার অসহায় ভুমিহীন পরিবারের পূর্নবাসনের ব্যাবস্থা হবে। মনপুরা নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধ কমিটি বাঁধ নির্মানের দাবীতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছে।

প্রায় লক্ষাধিক লোকের জনবসতিপূর্ন মনপুরার ভূ-খন্ড বিগত আশির দশকে ৩ টি অংশে বিভক্ত ছিল। যার একটি মনপুরা,একটি চরফৈজুদ্দিন অপরটি সাকুচিয়া নামে পরিচিত ছিল। ৩টি খন্ডকে মেঘনা বিভক্ত করে রাখায় প্রতিদিন জোয়ার ভাটা প্রবাহিত হতো। এখানে নদীর গভীরতা ছিল প্রায় ৭০/৮০ ফুট। তখন খেয়া নৌকা দিয়ে এপারের মানুষ ওপারে যোগাযোগ করত। এভাবে মানুষের যাওয়া আসায় কষ্টের সীমা ছিল না। পাশাপাশি সময়েরও প্রচুর অপচয় হতো। হঠাৎ করে ১৯৮১ সালে মনপুরার মূল ভূ-খন্ডের সাথে চরফৈজুদ্দিনের সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রায় সাড়ে ৩ হাজার ফুট দৈর্ঘ্যরে নদীর উপর দিয়ে একটি বাঁধ (ক্রস ড্যাম) নির্মানের পরিকল্পনা তৈরী করে সরকার। কাজ শুরু হওয়ার ২ মাসের মাথায় নির্মিত হলো একটি সফল বাঁধ। ফলে পানির প্রবাহ অন্যদিকে ঘুরে যাওয়ায় বাঁেধর উভয় দিকে হাজার হাজার একর জমি জেগে উঠেছে। যেখানে বর্তমানে মনপুরা ডিগ্রী কলেজ, মনোয়ারা বেগম মহিলা কলেজ, মনপুরা বালিকা বিদ্যালয়, দ্বিতল ডাক বাংলো, খাদ্যগুদাম, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ আরও অনেক গুরুত্বপূর্ন স্থাপনা গড়ে উঠেছে। এছাড়া অনেক ভূমিহীন জমি বন্দোবস্ত পেয়ে স্বাবলম্বি হয়েছে। এই বাঁধ নির্মানের সাফল্য দেখে ১৯৮৮ সালের দিকে সাকুচিয়া ইউনিয়নের সাথে সংযোগ স্থাপনের জন্য প্রায় আড়াই হাজার ফুট নদীর উপর বাঁধ নির্মানের পরিকল্পনাও সফল হয়। সেখানেও হাজার হাজার জমি জেগে উঠেছে। দুটি বাঁধ নির্মানের পর মনপুরাকে আর পেছনে তাকাতে হয়নি। মনপুরা আজ অনেক উন্নত। সেই ধারাবাহিকতায় মনপুরার মূল ভূ-খন্ডের উত্তর প্রান্ত থেকে কলাতলী পর্যন্ত মধ্যবর্তী প্রায় ৪ হাজার ফুট মেঘনা নদীর মধ্য দিয়ে একটি বাঁধ নির্মানের দাবী জোরালো হয়ে উঠেছে। বাঁধ নির্মিত হলে মনপুরার ভূ-খন্ড থেকে মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে পুনরায় জেগে উঠা বিশাল আকৃতির কলাতলীর চরের সাথে যোগাযোগ সহজ হয়ে যাবে। চরে বসবাসকারী ১৫ সহস্রাধিক মানুষের জীবন যাত্রার মান উন্নত হবে। বাধঁ নির্মিত হলে বাঁেধর উভয় পাশে প্রায় ৩০ হাজার একর জমি জেগে উঠবে। এসব জেগে উঠা জমি পরবর্তীতে ভূমিহীনদের মাঝে বন্দোবস্ত দিলে বাস্তুহারাদের সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে। এছাড়া মনপুরার সাথে তজুমদ্দিনের বর্তমান ২ ঘন্টার যোগাযোগ আধা ঘন্টায় নেমে আসবে। শুধু একটি পরিকল্পিত বাঁধই পারে একই সাথে বহু সমস্যার সমাধান করতে। এ ধারণা স্থানীয় সকল সচেতন মহলের।

উপজেলা চেয়ারম্যান মিসেস সেলিনা আক্তার চৌধুরী বলেন, মূল ভুকন্ডের সাথে কলাতলীর চরের বাঁধ নির্মানের জন্য আমি উপমন্ত্রী আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের সাথে কথা হয়েছে। বাধঁ নির্মানের প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য ইতি মধ্যে কাজ শুরু করেছেন।জনগনের দাবীর সাথে একমত পোষন করে বাঁধটি নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সূদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

এব্যাপারে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব বলেন, উপজেলার উন্নয়নের অনেকগুলো পরিকল্পনার মধ্যে কলাতলীর চরের বাঁধও রয়েছে। এবাঁধ নির্মানের জন্য  প্রয়োজনীয় ব্যাবস্থার উদ্যোগ গ্রহন করেছেন বলে তিনি জানান।