খুলনায় গুরুত্বপূর্ণ ৪ প্রকল্পে বাজেটে বরাদ্দ নেই

khulnaডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল ঃ সদ্য ঘোষিত ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের জাতীয় বাজেট নিয়ে চাওয়া-পাওয়ার হিসেবে কষছে খুলনাবাসী। বিভিন্ন প্রকল্পে অর্থবরাদ্দ পেলেও মংলা বন্দর, বিমান বন্দর, নিউজপ্রিন্ট মিল ও দাদা ম্যাচ চালু, আইটি ভিলেজ, টেক্সটাইল পলী খাতে বাজেটে অর্থ বরাদ্দ না থাকায় দারুণ হতাশ খুলনার মানুষ। সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন শিল্প, পাইপলাইনেগ্যাস সরবরাহ এবং খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রকল্পগুলোয় অর্থ বরাদ্দের অপ্রতুলতা ব্যথিত করেছে খুলনার মানুষকে। তাই পাশের আগেই বাজেটে প্রকল্পগুলো অন্তর্ভুক্ত করে পর্যাপ্ত অর্থবরাদ্দের দাবি জানিয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ। একই সাথে বিষয়গুলো জাতীয় সংসদ এবং অর্থমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরতে খুলনার ৬ জন সংসদ সদস্য এবং মৎস্য প্রতিমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন তারা। বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৩-১৪ অর্থ বছরের বাজেটে খুলনার জন্য বরাদ্দ ছিল প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। সংশোধিত আকারে তা’ দাঁড়ায় প্রায় ২ হাজার ৩০০ কোটি টাকায়। আর ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের বাজেটে খুলনার জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে ৩ হাজার ২৯২ কোটি টাকা। আগের অর্থ বছর থেকে যা’ প্রায় ৯০০ কোটি টাকা বেশী।কিন্তু এবারের বাজেটে মংলা বন্দরের আধুনিকায়নে কোনো অর্থ বরাদ্দ নেই। রামপালে নির্মাণ কাজ বন্ধ থাকা বিমান বন্দরের জন্যও নেই বরাদ্দ। আইটি ভিলেজ নির্মাণের জন্য ইতোপূর্বে ভিত্তিপ্রস্তুর স্থাপন করা হলেও এই খাতে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। বরাদ্দ নেই টেক্সটাইল পলীতেও।সুন্দরবনের ইকো ট্যুরিজম খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৪০ লাখ টাকা। নামমাত্র এই বরাদ্দ দিয়ে প্রকল্প তৈরি তো দূরের কথা, পর্যটনের কোনো কাজ করাই সম্ভব নয়। খুলনা রেলওয়ে স্টেশন ও ইয়ার্ড রিমডেলিং এবং বেনাপোল রেলওয়ে স্টেশনের অপারেশনাল সুবিধাদির উন্নয়নে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৩০ কোটি টাকা। এর মধ্যে খুলনার জন্য কত টাকা বাজেটে তার কোনো উলেখ নেই।এছাড়া বন্ধ থাকা নিউজপ্রিন্ট মিল, হার্ডবোর্ড মিল ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরি চালু করার জন্য এবং টেক্সটাইল ভিলেজ স্থাপনেও অর্থ বরাদ্দ পায়নি খুলনাবাসী। অবশ্য ভেড়ামারা থেকে খুলনা গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন প্রকল্পে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর গ্যাস বিতরণ প্রকল্পে বরাদ্দ ১৭০ কোটি টাকা। ফিজিবিলিটি স্টাডিসহ খুলনা থেকে মংলা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৬৩৩ কোটি টাকা।পর্যালোচনায় দেখা গেছে, বরাদ্দের ক্ষেত্রে চরম বৈষ্যমের শিকার হয়েছে খুলনা সিটি কপোরেশন (কেসিসি)। কেসিসির চলমান প্রধান প্রধান সড়ক ও ফুটপাত উন্নয়ন প্রকল্প, হাদিস পার্ক ও লিনিয়ার পার্ক প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ দেয়া হয়নি। ২২ খাল খননে নেয়া নগর অঞ্চল উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মাত্র ৫৪ কোটি। অথচ প্রকল্পের আওতায় ৬৫ কোটি টাকার কাজ এখন চলছে। আগামী বছর ২০০ কোটি টাকার কাজের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে কেসিসি। সলিড ওয়েস্ট অপসারণে যানবাহন ও যন্ত্রপাতি ক্রয়, অ্যাসফল্ট পান্ট ক্রয় ও স্থাপন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৫ কোটি টাকা। গত বছর যা’ ছিল ১৩ কোটি টাকা। খুলনা ওয়াসার আড়াই হাজার কোটি টাকার মেগা প্রকল্পেও কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি জাতীয় বাজেটে।বাজেটে দেখা গেছে, খুলনার শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালের জন্য ১০ কোটি ৮৫ লাখ বরাদ্দ রাখা হলেও খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে এক হাজার শয্যায় উন্নীত করার জন্য কোনো বরাদ্দ নেই। খুলনা শিশু হাসপাতালকে বাজেটে দেয়া হয়েছে ৫৫ লাখ। খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়নে ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে কেডিএ। জেলা স্টেডিয়ামের জন্য ২৩ লাখ ৫৮ হাজার টাকা এবং সোলার স্ট্রিট লাইটিং প্রোগ্রাম ইন সিটি কপোরেশন প্রকল্পে বরাদ্দ রাখা হয়েছে সাড়ে ৬ কোটি টাকা।এছাড়া জেলা কারাগার স্থানান্তর, পাইকগাছায় কৃষি কলেজ, গলামারী-নলিয়ান সড়ক, সার্কিট হাউজ ভবন সম্প্রসারণ, ভূতিয়ার বিলে জলাবদ্ধতা নিরসনে বরাদ্দ রাখা হয়েছে।এ ব্যাপারে বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, মংলা বন্দর, বিমান বন্দর, আইটি ভিলেজ, টেক্সটাইল ভিলেজ ও মিল কারখানা চালুর খাতে কোনো অর্থ বরাদ্দ না রাখার বিষয়টি খুলনার মানুষকে হতাশ করেছে। সুন্দরবনের পর্যটন, গ্যাস সরবরাহ ও রেল স্টেশন নির্মাণ প্রকল্পে যে বরাদ্দ রাখা হয়েছে তা’ অপ্রতুল। তিনি বলেন, দাবি আদায়ে তারা রাজপথে আন্দোলনে নামার চিন্তাভাবনা করছেন।খুলনা চেম্বার অব কমার্সের সহ-সভাপতি মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, বেশ কয়েকটি খাতে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি খাতে অর্থ বরাদ্দ নেই।ঞ্চ  সে কারণে দশম জাতীয় সংসদের প্রথম বাজেট নিয়ে খুলনাবাসীর প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে কিছুটা ফারাক রয়েই গেছে। সম্পূরক বাজেটে মংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও বিমান বন্দর নির্মাণের জন্য অর্থ বরাদ্দের দাবি জানান তিনি। এছাড়া গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ প্রকল্পে বরাদ্দ বাড়ানোরও দাবি তার।