লীগ সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে না ধরে নিরাপরাধ মেধাবী ছাত্রদের গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে : শিবির

cpবাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার বলেন, ক্ষুধা ও দূর্ণীতিমুক্ত একটি সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষেই ছাত্রশিবিরের প্রতিষ্ঠা। খোলাফায়ে রাশেদার মত সেই সোনালী সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে ছাত্রসমাজসহ সাধারণ মানুষের কাছে ইসলামের সুমহান আদর্শ পৌঁছে দিতে হবে। সর্বস্তরের মানুষকে ইসলামের আলোয় আলোকিত করার মাধ্যমে সমাজকে নিরাপদ, সুখী ও সুন্দর করে গড়ে তুলতে হবে। নিজেরা ইসলামী আন্দোলনের পথে অবিচল থেকে সামগ্রিক জীবন পরিচালিত করতে হবে।
তিনি আজ ছাত্রশিবির ঢাকা ঢাকা অঞ্চল দক্ষিণের সদস্য শিক্ষাশিবিরে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। শুক্রবার সকাল ১০টায় রাজধানীর এক মিলনায়তনে এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রআন্দোলন সম্পাদক জাকির হোসেন সেলিমের পরিচালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগরী জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী সেলিম উদ্দীন, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ও ঢাকা মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ এ সময় সাবেক অফিস সম্পাদক শেখ নিয়ামুল করিম নায়নগঞ্জ মহানগরী সভাপতি খোরশেদ আল, ঢাকা জেলা দক্ষিণ সভাপতি আব্দুর রহিম মজুমদার, নারায়নগঞ্জ জেলা সভাপতি শফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
শিবির সভাপতি বলেন, স্বাধীনতার পক্ষের কথা বলে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠন টেন্ডারবাজি, খুন, সন্ত্রাস, হত্যা, অপহরণে লিপ্ত রয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ছাত্রলীগ আরও বেপরোয়াভাবে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। কিছুৃ দিন আগে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজে মধ্যযুগীয় বর্বর কায়দায় প্রতিপক্ষ ছাত্রসংগঠনের নেতা তাওহীদকে হত্যা করেছে। এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কৃষি বিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন নারকীয় বর্বতার পরিচয় দিয়েছে তারা। এরপরও নির্যাতক ছাত্রলীগ সন্ত্রাসীদের লাগাম টেনে ধরা হচ্ছেনা। বরং নিরাপরাধ মেধাবী ছাত্রদের অন্যায়ভাবে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হচ্ছে। আওয়ামীলীগ নেতাদের মধ্যে অন্তর্কোন্দলে নারায়নগঞ্জ, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক নৃশংস হত্যকান্ড ঘটছে। এবং এ কাজে নিজেদের ক্যাডার বাহিনীর সাথে প্রাশাসনিক কর্মকর্তাদেরও জড়িয়ে ফেলা হয়েছে। ফলে আওয়ামী সরকার এখন জনবিচ্ছিন্ন একটি দলে পরিণত হয়েছে।
শিবির সভাপতি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের পক্ষে কোন জনভিত্তি না থাকলেও গায়ের জোরে তারা টিকে থাকতে চাইছে। নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে অন্যের উপর দোষ চাপাতে তারা ব্যস্ত। কিন্তু শত চেষ্টা করেও জনসমর্থন শূন্য এ সরকার বেশী দিন ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় আসার পর থেকে এই সরকার বিশ্ববিখ্যাত আলেম মাওঃ মতিউর রহমান নিজামী, আল্লামা দেলাওয়ার হোসেন সাঈদীসহ আলেমদেরকে জেলে পুরেছে। মিথ্যা মামলায় সাজানো রায়ের মাধ্যমে জননেতা আবদুল কাদের মোল্লাকে ফাঁসীর কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে। ইসলামী আন্দোলনকে নিঃশেষ করার জন্য একের পর এক ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে। কিন্তু সরকারের এই ষড়যন্ত্র কখনও সফল হবে না। বাংলার ইসলাম প্রিয় জনতা সরকারের ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে তাদের প্রিয় ইসলামী নেতৃবৃন্দকে মুক্ত করে আনবে। ইনশাল্লাহ।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সেলিম উদ্দীন বলেন, সরকারের জনবিরোধী কাজের ফলে জনমনে যে ক্ষোভ জমেছে, তা দমন-নির্যাতন চালিয়ে বন্ধ করা যাবে না। নির্যাতক শাসকের পরিণাম অতীতে কখনোই ভালো হয়নি, আওয়ামীলীগেরও হবে না। নির্যাতন চালানোর কারণে জনগণ আওয়ামেলীগের দিক থেকে মুখ ফিরায়ে নিয়েছে। আর জামায়াত-শিবির জনগণের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, সঠিক নেতৃত্বের অভাবে স্বাধীনতার এত বছর পরও বাংলাদেশ একটি সুখী সমৃদ্ধশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে পারে নি। সারা বিশ্বে আজকে নির্যাতিত মানুষের আর্তচিৎকারে আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠছে। অশান্ত দুনিয়াতে এখন প্রয়োজন সৎ, দক্ষ ও খোদাভীরু নেতৃত্ব।এক্ষেত্রে ইসলামী আন্দোলনের জনশক্তিদের সেই আলোকে তৈরী হতে হবে।