পীরগঞ্জ সহঃ সেটেলমেন্ট অফিসে জনবল সংকট ও অর্থ বাণিজ্য চলছে

Rangpurবখতিয়ার রহমান, পীরগঞ্জ ( রংপুর) ঃ

জনবল সংকট ও অর্থ বানিজ্যের কারনে পীরগঞ্জে ভূমি বেকর্ড জরিপের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সুত্রিতা লেগেই আছে । মাঠ পর্যায়ে জরিপ কার্য সম্পন্যের ১৮ বছর পরেও ভুমি মালিকেরা পায়নি তাদের জমির অনুকুলে খতিয়ান ও ম্যাপ । কবে পাবে তাও অনিশ্চিত । ফলে ভুমি মালিকদের বিড়ম্বনা লেগেই আছে । সে সঙ্গে জমি ভোগ দখল ও ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে তারা বেশ হয়রানীর সম্মুখিন হচ্ছেন ।

একাধিক সুত্রে জানা গেছে, বিগত ১৯৯৫-৯৬ ইং সনে পীরগঞ্জের ৩০৮ টি  মৌজার মাঠ পর্যায়ের জরিপ কাজ সম্পন্ন হয় । এ জরিপ সম্পন্নের পর সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে শুরু হয় ভুল ক্রটি সংশোধনের জন্য ৩০/৩১ ধারা । আর এ প্রক্রিয়া আজও সম্পন্ন হয়নি । মাঠ পর্যায়ে জরিপ সম্পন্যের পর কিছু সংখ্যক মৌজার ৩০/৩১ ধারা শেষে ১৮ বছরে ৩০৮ টি মৌজার মধ্যে মাত্র ২০ টি মৌজার ভুমি মালিকদের কাছে মৌজা গুলির ছাপানো খতিয়ান ও ম্যাপ সরবরাহ করা হয়েছে । সম্প্রতি আরও ৫৮ টি মৌজার ছাপানো খতিয়ান ও ম্যাপ অত্র অফিসে এসে পৌছিলেও সে গুলো অজ্ঞাত কারনে এখনও ভুমি মালিকদের কাছে বিতরন করা হয়নি ।

অপর দিকে সংশ্লিষ্ট অফিস সুত্রে জানা গেছে পীরগঞ্জ সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে জনবল সংকটও বিরাজ করছে । অত্র অফিসে বর্তমানে পদ সংখ্যা ১২ হলেও মাত্র ৪ জন দিয়েই চলছে অফিসের নাম মাত্র কার্যক্রম । অফিসে ১ জন সহকারী সেটেলমেন্ট পদ পুরন থাকলেও  উপ-সহকারী ২ পদই শুন্য রয়েছে । সার্ভেয়ার ২ টি পদের বিপরিদে কর্মরত রয়েছে ১ জন । পেশকারের ১ টি পদ থাকলেও সেটিও শুন্য রয়েছে । রেকর্ড কিপারের ১টি পদের বিপরিদে ১জন কর্মরত থাকলেও খারিজ সহকারীর ২টি পদই শুন্য রয়েছে । শুন্য রয়েছে বেঞ্চ ক্লার্ক এর ২টি পদই এবং এক মাত্র ড্রাফ্ট ম্যান পদটিও ।

সর্বপরি সার্বিক এ পরিস্থিতিতে গত ১৮ বছরে পীরগঞ্জের ৩০৮ টি মৌজার মধ্যে মাত্র ২০ টি মৌজার ভুমি মালিকদের কাছে মৌজা গুলির ছাপানো খতিয়ান ও ম্যাপ সরবরাহ করা হয়েছে । যা ভুমি মালিকদের কাছে ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে ।

এদিকে এ জরিপ কার্যক্রমের ধীরগতির ব্যাপারে বেশ কিছু সংখ্যক ভুমি মালিক ও সংশিষ্ঠ অফিসের একাধিক কর্মচারির সঙ্গে কথা বলে জানা উর্ধতন কর্তৃপক্ষ অত্র অফিসের  জনবল বাড়ানোর কোন উদ্যেগ গ্রহন করছেন না । আর এ অজুহাতে চলছে অর্থ বাণিজ্য । আর যে কারনেও স্বাভাবিক কার্যক্রমে চলছে ধীরগতি । ভূমি মালিকদের অনেকের মতে জরিপকালীন সময়ে অনেক মৌজার ভুমি মালিকদের কাছে খসড়া খতিয়ান সরবরাহ করা হয়নি । আর তারা তা সংগ্রহের জন্য সহকারী সেটেলমেন্ট অফিসে আসছেন এবং ২/৩ শত টাকার বিনিময়ে খসড়া খতিয়ান সংগ্রহ করছে । আর এতে করে সেটেলমেন্ট অফিসের বেশ ক’জন কর্মকর্তা কর্মচারীর বাড়তী টাকা রোজগারের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে । আর এখনও এ পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে । অনেকের মতে ৩০/৩১ ধারার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন ভুলক্রটি সংসশোধনের ক্ষেত্রেও চলছে অর্থ বাণিজ্য । আর এ বাণিজ্যের কারনেই কার্যক্রমে চলছে মন্থর গতি ।

এ ব্যাপারে পীরগঞ্জ উপজেলা সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা  এম, এ ওয়াদুদ সরকার এর সঙ্গে কথা হলে তিনি জনবল সংকট ও কাজে ধীর গতির কথা স্বীকার করে বলেন, পুর্বে বেশ অনিয়ম ছিল তবে আমি আসার পর স্বচ্ছতার সঙ্গে দ্রত কাজ সম্পন্যের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি ।

অপর দিকে বেশ কিছু সংখ্যক ভুমি মালিকের সঙ্গে কথা বলে আরও জানা গেছে দীর্ঘ দিনেও তারা মুদ্রনকৃত জমির খতিয়ান ও ম্যাপ না পাওয়ার কারনে জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে খসড়া মাঠ পর্চা তেমন কাজে আসছে না । যে জন্য জমি ক্রয় বিক্রয়ের ক্ষেত্রে জমির খারিজের জন্য তাদেরকে বেশ হয়রাণী ও অতিরিক্ত অর্থ খরচ করতে হচ্ছে । বড় আকারের জমি একাধিক প্লটে বিভক্ত হওয়ার কারনে ভুমি মালিকেরা জমি ভোগ দখলের ক্ষেত্রে বেশ বিড়ম্বনায় পড়েছে । তারা জানেন না আরও কত যুগ পরে এ পরি্িস্থতির অবসান হবে । কবে পাবেন তারা মুদ্রনকৃত খতিয়ান ও ম্যাপ ?