বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি এখনো অপরিবর্তিত

indexএম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তে দু’পক্ষই মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে। সীমান্ত অধিবাসিরা চরম আতংকের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে পুরো সীমান্ত জুড়ে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করে কঠোর সতর্কাবস্থায় রয়েছে। সেন্টমার্টিন ও শাহপরীরদ্বীপের মাঝামাঝি জল সীমানায় মিয়ানমার নৌ-বাহিনীর তিনটি জাহাজ অবস্থান নেওয়ায় বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীও মুখোমুখি অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে। গত বুধবার নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তের দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় নিয়মিত টহলদানকালে পাইনছড়ি বিজিবির নায়েক সুবেদার মিজানুর রহমান মিয়ানমারের বিজিপির গুলিতে নিহত হওয়ার পর থেকে এ অবস্থা বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার বিকাল ৩টায় সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনকালে বান্দরবান জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম ঘুমধুম সীমান্ত এলাকা পরির্দশন করেন।

এসময় জেলা প্রশাসক কেএম তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মিয়ানমার বেশি বাড়াবাড়ি করে গায়ে পরে কিছু করার চেষ্টা করলে আমরাও তার প্রতি কড়া জবাব জানাতে প্রস্তুত রয়েছি। তিনি বলেন, সীমান্ত এলাকায় যে পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে সে জন্য মিয়ানমার সরকার দায়ী। এ মুহুর্তে কুটনৈতিক পর্যায়ে ঢাকা ও মিয়ানমারে পৃথক বৈঠকের মাধ্যমে একটি সুষ্ট সমাধানের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে সরকার।

মিয়ানমার মংডু শহরে সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে আগামী ৫ জুন বৃহস্পতিবার সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও উক্ত বৈঠকে সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত এপার-ওপারে সীমান্ত এলাকায় পরিস্থিতি নজরদারীতে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী অনড় থাকবে বলে সীমান্তের বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

সীমান্তে নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্রে জানা গেছে, বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি, কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তের বিপরীতে বিজিপির পাশাপাশি মিয়ানমার অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে। তারা সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশও দিয়েছে। ফলে  মংডু শহরে সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী ওয়ালিদং, ফকিরাবাজার, সাহাব বাজার, তুমব্রু, ঢেকিবনিয়া, নাইচাদং, পেডানপুরো, বলিবাজারসহ প্রভৃতি গ্রামের রোহিঙ্গা মুসলমানদের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা ও আতংক বিরাজ করছে।

নাইক্ষ্যংছড়ি ৩১ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল শফিকুর রহমান জানান, সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি গভীর পর্যবেক্ষণ করে সীমান্ত জুড়ে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্যদের কঠোর নজরদারীতে রাখা হয়েছে। মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সেনা মোতায়েনের কথা তিনি স্বীকার করে বলেন, তারা এখনো সীমান্ত এলাকায় সেনা শক্তি বৃদ্ধি করে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।

কক্সবাজার ১৭ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল খন্দকার সাইফুল আলম বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আগামী ৫ জুন বৃহস্পতিবার দুই দেশের সেক্টর কমান্ডার পর্যায়ে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ওই বৈঠকে বিজিবি কর্মকর্তা নিহত হওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার থেকে জবাব চাওয়া হবে।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহ মুজাহিদ উদ্দীন জানান, সেন্টমার্টিন ও শাহপরীরদ্বীপ এলাকার মাঝামাঝি জল সীমানায় মিয়ানমারের নৌ-বাহিনীর জাহাজ অবস্থান করছে। বাংলাদেশ নৌ-বাহিনীর একটি জাহাজও জল সীমানায় অবস্থান করছে।

তিনি বলেন, সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক প্রহরায় রয়েছে।