সড়ক দূর্ঘটনায় মেয়রের স্ত্রীর মৃত্যুতে আক্কেলপুরে শোকের মাতম

Joypurhat Picএস এম শফিকুল ইসলাম,জয়পুরহাট:
সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত জয়পুরহাটের আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধূরী বাদশা’র স্ত্রী সামিনা চৌধূরী রীপা ও গৃহকর্মী রজনির লাশ মঙ্গলবার বেলা ১১টায় আক্কেলপুর গ্রামের বাড়ি পৌছিলে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। নৈশ্য কোচে ঢাকা যাবার পথে ভোর চারটার দিকে সিরাজগঞ্জের ষোল মাইল নামক স্থানে সড়ক দূর্ঘটনায় তারা নিহত হন।

পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে, মেয়র আলমগীর স্ব-পরিবারে আক্কেলপুর থেকে ছেড়ে যাওয়া নৈশ্য কোচ হানিফ পরিবহনে ঢাকায় বড় ছেলের কাছে যাচ্ছিলেন। পথে সিরাজগঞ্জের ষোল মাইল এলাকায় বাসটি বিকল হলে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পড়ে। এ সময় পেছন থেকে দ্রুতগতির একটি ট্রাক বাসকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন। আর প্রাণে রক্ষা পান আলমগীর ও ছেলে পাপাই। মৃত্যুর সময় রিপা ছেলে পাপাই এর হাত ধরেই ছিল। এ দৃশ্য কিছুতেই ভুলতে পারছে না ছোট্ট পাপাই। ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে বসে কাঁদছিল। ওইদিন বেলা ১১টায় তাদের মরদেহ আক্কেলপুর পৌর এলাকার হাস্তাবসন্তপুর গ্রামের বাড়ি পৌঁছিলে শোকাচ্ছন্ন হয়ে পড়ে পৌরবাসী। এখন সেখানে চলছে স্বজনদের শোকের মাতম। শোকাতুর পরিবারকে শান্তনা দিতে ছুটে আসে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ। খবর পেয়ে ঢাকা থেকে ছুটে আসেন বড় ছেলে প্রান্ত। মাকে দেখেই ক্ষণে ক্ষণে মুর্ছা যাচ্ছিলেন। তার আহাজারিতে সমবেদনা জানাতে আসা হিতাকাঙ্খিদের চোখও এ সময় ঝাপসা হয়ে ওঠে। কেউই মেনে নিতে পারছেন না রিপার এই অকাল মৃত্যু।

আক্কেলপুর পৌরসভার মেয়র আলমগীর চৌধূরী, স্ত্রীর এই মর্মান্তিক মৃত্যুতে দুই ছেলের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত। তিনি বলেন, ট্রেনে ঢাকায় যেতে চেয়েছিলাম। ট্রেনে গেলে হয়তো এমন মর্মান্তিক দৃশ্য দেখতে হতো না’।