ছিটমহল হস্তান্তর নিয়ে সুর বদল মমতার

26357_momবিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের ছিটমহল বিনিময় নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুর নরম করেছেন। অবশ্য লোকসভা নির্বাচনের আগেই তিনি সুরবদলের ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। সোমবার উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে  মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, যে ছিটমহলগুলি বিনিময় করলে সমস্যা হবে না, তা নিয়ে আলোচনা হবে। আলোচনার পরে সেই ছিটমহলগুলি বিনিময় করা যেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রীর ওই ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটি। ভারত-বাংলাদেশ ছিটমহল বিনিময় সমন্বয় কমিটির সহ-সম্পাদক দীপ্তিমান সেনগুপ্ত বলেছেন, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে একটি সরকারের মানবিক রূপ দেখা যাচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্তে দুই বাংলার সম্পর্কেরও উন্নতি হবে বলে তিনি আশাপ্রকাশ করেছেন। ছিটমহল ঐক্য পরিষদের উপদেষ্টা দেবব্রত চাকী জানিয়েছেন, ছিটমহলের বাসিন্দাদের সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া উচিত।  তৃণমূল সূত্রে দাবি, মানবিকতার খাতিরেই মুখ্যমন্ত্রী ছিটমহল নিয়ে সুর নরম করেছেন। অথচ গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে কোচবিহারে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘এক ছটাক’ জমিও হস্তান্তরের প্রশ্ন নেই বলে  ঘোষণা করেছিলেন । ওই সময় রাজ্যসভায় ইউপিএ সরকারের আনা স্থল সীমান্ত চুক্তি বিলেরও বিরোধিতা করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদরা। নিজের ফেসবুক ‘পেজে’ও ছিটমহল বিনিময় নিয়ে আপত্তির কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তা নিয়ে ছিটমহলের বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়াও হয়েছিল। তৃণমূলের কোচবিহার জেলা সভাপতি রবীন্দ্রনাথ ঘোষ তখনই বিষয়টি নিয়ে দলনেত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর পরেই ছিটমহল নিয়ে কট্টর অবস্থান থেকে মুখ্যমন্ত্রীর  সরে আসার ইঙ্গিত মিলেছিল লোকসভা নির্বাচনের আগে। নির্বাচনী প্রচারে দিনহাটার সভায় মুখ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেছিলেন, ছিটমহলের বাসিন্দাদের উপর তিনি  জোর করে কিছু চাপিয়ে দিতে চান না। বাসিন্দাদের যেভাবে সুবিধা হবে, আলোচনার মাধ্যমে তাই করা হবে। বিরোধী  ফরওয়ার্ড ব্লকের  কোচবিহার জেলা সম্পাদক উদয়ন গুহর দাবি, বিজেপি’র মোকাবিলা করতেই মুখ্যমন্ত্রী এখন ছিটমহল নিয়ে নরম মনোভাব দেখাচ্ছেন। ভারত ও বাংলাদেশের েেমাট ছিটমহলের সংখ্যা ১৬২টি। তার মধ্যে ভারত ভূখ- ঘেরা বাংলাদেশের ৫১টি ও বাংলাদেশ ভূখন্ড ঘেরা ভারতের ১১১টি ছিটমহল রয়েছে। ওই ছিটমহলগুলিতে বসবাস করেন ৫০ হাজারেরও বেশি মানুষ। তাদের কোন দেশের নাগরিকত্ব, সচিত্র ভোটার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড কিছুই নেই। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, পানীয় জল, বিদ্যুতের মতো পরিসেবা থেকেও তারা বঞ্চিত। ছিটমহলে কোন দেশের আইনই বলবৎ নেই।
নেপাল-ভুটান ও বাংলাদেশের সঙ্গে সংযোগ সড়ক: পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শিলিগুড়ি হয়ে নেপাল-ভুটানের সঙ্গে বাংলাদেশের সরাসরি সংযোগের জন্য একটি সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা ঘোষণা  করেছেন। অনেকদিন ধরেই এই সড়ক নির্মাণের ব্যাপারে কথাবার্তা চলছিল। বাংলাদেশ ও এ ব্যাপারে আগ্রহী ছিল। সোমবার উত্তরবঙ্গের সচিবালয় উত্তরকন্যায় এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, সার্ক দেশগুলির সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই এই সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, প্রকল্পটির সঙ্গে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রতিবেশি দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক এবং উন্নয়নের বিষয়টি গভীরভাবে যুক্ত। এজন্য ১৪০০ কোটি রুপি ব্যয় করা হবে। জানা গেছে, প্রকল্পটি নিয়ে ইতিমধ্যেই ভারত সরকারের সঙ্গে রাজ্য সরকার আলোচনা করেছেন। এই ধরনের প্রকল্পে কেন্দ্রীয় সরকারের পাশাপাশি রাজ্য সরকারকেও অর্থ মঞ্জুর করতে হয়।