কপোতক্ষের মানবেতর জীবনযাপন

khulna-001ডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল ঃ বিশ্বজুড়ে কপোতাক্ষ নদের পরিচয় কারও অজনা নয়। যার বুকে ঘুমিয়ে আছে মাইকেল মধুসুদন দত্ত,স্যার পিসিরায়,জাফর আউলিয়ার মত অসংক্ষ মহামানব। যে  নদের পানিকে কবি মাইকেল মধুসুদন দত্ত দুধের সাথে তুলনা করেছেন। কাজী জফির আউলিয়ার পূর্ণভুমি,স্যার পিসিরাইয়ের মাতৃভুমি, বিনোদবিহারীর বুকচিরে সর্বকালের ঐতিহ্যবাহি কপতাক্ষ নদ ,আজ সেই নদের প্রায় মৃত হয়েছে। এই নদের মানবতার জীবন যাপন দেখে মনে হয় কপোতাক্ষ কতই না অসহায়। শুধুকি কপোতাক্ষ নদের মানবেতর জীবন যাপন তাই নয় বর্তমানে এই নদ এখন কপোতাক্ষবাসীদের চরম দূরভোগের কারন হিসাবে দাড়িয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় প্রভাব শালীরা নদী দখল করে চাষাবাদ শুরুকরায় নদীর সংকীর্ন হয়ে পড়েছে। তা ছাড়া ড্রেজিং স্পুর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়ায় নদীর বুকে পরি জমে নব্যতা হারিয়েছে। নদী বলতে মাঝখানে সরু খাল তাও আবার খনন করে তৈরী করা হয়েছে । ফলে নদীর দু কুলে কয়েকশ একর ভূমিবর্ধিত হয়েছে । যা বর্তমানে চলে যাচ্ছে ভূমিদস্যুদের দখলে । অনতি বিলম্বে ভূমি দস্যুদের উচ্ছেদ না করলে কপোতাক্ষ নদী অচিরেই বেদখল হয়ে যাবে। ফলে আশে পাশের মাঠ গুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে বন্যায় ফসল ও ঘরবাড়ির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে বলে এলাকা বাসিরা জানিয়েছে। হাজার হাজার বছর ধরে কপোতাক্ষ নদ দিয়ে মালামাল কলকাতা সহ বিভিন্ন দেশে পাঠানো হতো । নদীর গভিরতা ও নব্যতা থাকায় কখনো এ এলাকায় বন্যার সৃষ্টি হতোনা। এক সময় এলাকার মানুষের যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম ছিল এই কপোতাক্ষ  নদ।দেশ ভাগের পর থেকে এ নদ খনন না করায় নদীর বুকে পলি জমে ক্রমশঃসরু হয়ে পড়ে। এসময় সুযোগ বুঝে স্থানীভূমি দস্যুরা নদী দখল করে নিয়ে শুরু করে চাষাবাদ।বিভিন্ন জায়গা থেকে মাটি কেটে নদীর বুকেদিয়ে ভরাট করে স্থাপনা গড়ে তুলে। বর্তমানে এখন এ নদীটি মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে এখন আর পানির দেখা মেলেনা। শুধু দেখাযায় মরুভূমি। এ কারনে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি প্রবাহমান আপন গতিতে চলতে না পারায়। ফলে যশোর,সাতক্ষীরা,খুলনা জেলার অনেক উপজেলাসহ আশপাশের কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল হানি হচ্ছে প্রতি বছর। এনদীর উৎপত্তি স্থল থেকে শুরু করে পুরো নদীটায় এখন কিছু নেই। শুধু খনননের মাধ্যমে একটি সরু খাল কেটে হয়ত কিছুটা হলেও এখনো কপোতাক্ষ নামটা বিলিন হতে দেয়নি বর্তমান মহাজোট সরকার। এলাকাবাসী আরও জানায় স্থানী প্রভাব শালীরা বিনা প্রয়োজনেই নদী দখল করে আছে।এরা অনেক জমি জোর দখল করে অন্যের কাছে বিক্রি করে দিয়েছে। কপোতাক্ষ নদীর  দু পাড়ের হাজার একরের ও বেশি জমি ইতি মধ্যে গ্রাস করেছে ভূমি দস্যুরা।এসব জমি উদ্ধার করা একান্ত জরুরী। কিন্তু কর্তৃপক্ষ আজও সে দিকে কোন খোজ নেইনি। এছাড়া বর্ষাা মৌসুমে ভারত থেকে আসা পানির তোড়ে আশপাশের গ্রামের ঘর বাড়ি ডুবে জায়।পানি নিস্কাশনের একমাত্র মাধ্যম এই নদী বেদখল হয়ে যাওয়ার হাজার হাজার হেক্টর জমি বর্ষা মৌসুমে অনাবাদি থেকে যায়। যার কারনে প্রতিবছর জলবদ্ধতায় প্রায় ৫ লক্ষ মানুষ মানবতার জীবন যাপন করছে। প্রায় এক হাজার হেক্টর জমিতে চাষাবাদ প্রায় বন্দ। প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবি পরিবার (জেলে) করছে মানবেতর জীবনযাপন । বিকল্প কাজের অভাবে একযুগ ধরে তাদের বেকার জীবন কাটছে। এতে করে তারা দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। এসব কারণে জেলে পরিবারগুলোর প্রধান পেশা মাছ শিকারের পথ রুদ্ধ হয়ে গেছে। ফলে মাছ ধরার উপকরণসহ পুঁজি হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে তারা। পূর্ব পুরুষের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চাইলেও বিকল্প কর্মসংস্থানের কোন সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্বিসহ জীবন কাটছে তাদের। শুধু জেলে পরিবার নয় এ এলাকার সর্বসাধারন চরম দূরভোগের শিকার হচ্ছে। ভুক্তভোগী পরিমাল জেলে জানায় কপোতাক্ষ নদের নাব্যতা হ্রাসে বর্ষা মৌসুমের জলাবদ্ধতা আর শুস্ক মৌসুমের পানি শূন্যতায় তালা,পাইকগাছা ,পাটকেলঘাটা ও কেশবপুর উপজেলার প্রায় ৫ হাজার মৎস্যজীবি পরিবার (জেলে) মানবেতর জীবনযাপন করছে। এরা বিকল্প কাজের অভাবে একযুগ ধরে তাদের বেকার জীবন কাটছে। এতে করে তারা দিন দিন নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। পূর্ব পুরুষের এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে যেতে চাইলেও বিকল্প কর্মসংস্থানের কোন সুযোগ সৃষ্টি না হওয়ায় পরিবার পরিজন নিয়ে দূর্বিসহ জীবন কাটছে তাদের। ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর দাবি কপোতাক্ষ খনন, ব্যাংক ঋণ ব্যবস্থা, সুষ্ঠু মৎস্য আহরণ ও সংরক্ষণ, নীতিমালা প্রণয়ন, প্রয়োজনীয় অর্থ সাহায্য প্রদান অব্যহত রেখে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সুদীন ফিরিয়ে আনা সম্ভব। কপোতাক্ষ তীরবর্তী ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলো এসব সুযোগ সুবিধা পেলে আর্ত সামাজিক উন্নয়ন, পুষ্টি চাহিদা পুরণ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানের মাধ্যমে সুন্দর জীবন যাপন করতে সক্ষম হবে। এসব উপজেলার মৎস্যজীবি জেলেরা এমনিতেই গরীব। পৈত্রিক ভিটেবাড়ী আর জাল নৌকা ছাড়া অনেকের আর কোন সম্বল নেই। কপোতাক্ষ নদই তাদের আশির্বাদ। নদটির নাব্যতা হ্রাসে প্রতিবছর জীবনের ঝুকি নিয়ে সাগরে মাছ শিকারে যেতে হয়। সেখানেও নানা প্রতিকুলতা। জলদস্যুর ভয় আর জাটকা নিধন অভিযানের ফলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়। সরকারের জাটকা নিধন অভিযান সফল হলেও বিকল্প কর্ম সংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না করায় জেলে পরিবারের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। মৎস্যজীবি একাধিক পরিবার জানায়, সাগরে মাছ শিকারে যেতে বিভিন্ন এনজিও বা মহাজনদের নিকট থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে নৌকা জাল সহ অন্যান্য উপকরণ কিনতে হয়। জাটকা নিধন অভিযানে পড়ে তাদের জাল পুড়িয়ে ফেলায় বাড়ী ফিরে আসতে হয় শূন্য হাতে। এরপর মহাজনদের ঋণের টাকা পরিশোধ করতে বিক্রী করতে হয় নৌকা, গরু, ছাগল এমনকি ঘরের আসবাবপত্র। এদিকে বর্ষা মৌসুম শুরুতেই জলাবদ্ধতায় তারা আষ্ট্পেৃষ্টে বাধা পড়ে যায় বছরের অর্ধেক সময়। মৎস্যজীবিদের সকল সমস্যা নিয়ে জানান,ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারকে বিভিন্ন সমস্যা তাদেরকে পুনর্বাসনের জন্য সমবায় সমিতির মাধ্যমে মৎস্য চাষ, সময়মত ব্যাংক ঋণ প্রদান, সরকারি খাল বিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের মধ্যে ইজারা বন্দোবস্ত প্রদানের জোর দাবি জানান। এবিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান রশিদুজ্জামান মোড়ল বলেন ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবি (জেলে) পরিবারদের পুনর্বাসিত করার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে বিভিন্ন সরকারী ও সামাজিক সংগঠনের সাথে কথা বলা হয়েছে । খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড.সোরাব আলী সানা জানান কপোতাক্ষ পুনরায় খনন করা হয়েছে এছাড়া জলবদ্ধতার বিষয়টি নিরশনের জন্য উদ্ধতন কতৃপক্ষের দৃষ্ঠি আকার্শন করা হয়েছে। এলাকাবাসী জানায় পানি নিস্কান ব্যাবস্থা না হলে এ মৌসুমে এবার এলাকা তলিয়ে যাবে নেমে আসবে কঠিন দূর্যগ । বরর্ষার মৌসুমে এ এলাকা তলিয়ে যাবে আবার শীতের মৌসুমে এ এলাকায় পানি পাওয়া যাবেনা। ফলে এ এলাকায় অর্থনৈতিক চরম বিপর্যয় ঘটবে ।###