সুনামগঞ্জে মনোবিজ্ঞানের ব্যবহারিক খাতায় স্বাক্ষর দিতে টাকা আদায়

sunamganj-18অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি :
সুনামগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের এস.এস.সি পরীক্ষায় মনোবিজ্ঞান বিষয়ে ব্যবহারিক খাতায় সই ও আনুসাঙ্গিক খরচের কথা বলে সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫ শ’ টাকা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার দুপুরে একাধিক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক সুনামগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের মনোবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক ও কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূর নবীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ জানিয়েছেন। খবর পেয়ে শনিবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সরকারী মহিলা কলেজে গিয়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বলে এসব অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

একাধিক পরীক্ষার্থী সাংবাদিকদের কাছে জানান, মনোবিজ্ঞানের শিক্ষক কলেজের ৩ শ’ ছাত্রীর কাছ থেকে ৫’শ করে টাকা আদায় করছেন। তিনি প্রথমে সবার কাছে ২ হাজার, পরে ১ হাজার শেষে ৫ শ’ করে টাকার নীচে দস্তখত করতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন।  শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ‘টাকা না দিলে কারো ব্যবহারিক খাতায় নূর নবী স্যার সই করেন না। তাই কলেজের সব ছাত্রী বাধ্য হয়েই তাঁেক টাকা দিচ্ছে। শনিবারের মধ্যে অধিকাংশ ছাত্রীর কাছ থেকে তিনি টাকা নিয়েছেন।’

সাংবাদিকরা শনিবার সাড়ে ১১ টায় সরকারী কলেজে গিয়ে দেখতে পান নতুন পাড়ার এক যুবককে পাশের এক চেয়ারে বসিয়ে শিক্ষক নূর নবী কম্পিউটারে কাজ করছেন, ছাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিচ্ছেন ওই যুবক।  সাংবাদিকদের প্রশ্নের মাঝে হঠাৎ করে দুই ছাত্রী তাদের ব্যবহারিক খাতা নিয়ে যায় শিক্ষক নূর নবীর টেবিলের সামনে। সাংবাদিকরা এসময় ওই দুই পরীক্ষার্থীর কাছে জানতে চান, তোমাদের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছে কিনা। পরীক্ষার্থীরা সোজাসাপ্টা বলে ফেলে ‘সবাই ৫’শ করে টাকা দিয়েছে। আমাদেরকেও জানানো হয়েছে ৫’শ করে দেয়া লাগবে।’ সাংবাদিকদের সামনাসামনি এধরনের কথা বলায় বেকায়দায় পড়ে যান তিনি।

নূর নবী ৫ শ’ করে টাকা নেয়ার বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের সহযোগী সীটসহ কোচিং ও আনুসাঙ্গিক খরচের জন্য এই টাকা নেয়া হচ্ছে’। পরীক্ষার্থীদের সহযোগিতার উদ্দেশ্যেই নেয়া হয়ে দাবি করেন তিনি। ওই যুবক তাঁকে সহযোগিতা করছেন বলে জানান।

এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ সরকারী মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ পরাগ কান্তি দেব বলেন ‘ব্যবহারিক খাতায় সইয়ের জন্য কোন টাকার নেয়ার বিধান নেই। তিনি কোচিং এর জন্য কোন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে টাকা নিতে পারেন। অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ খবর নেয়া হবে।’##