পার্বতীপুরে শালিস বৈঠকে এক নারীকে শারিরিক নির্যাতন ইউপি চেয়ারম্যানসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা

dinajpur-14-150x150মো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি :
পার্বতীপুরে বিচার চাইতে গিয়ে শালিস বৈঠকে পুত্র ও অন্তসত্ত্বা কন্যার সামনে ছায়মা খাতুন(৩৪) নামে এক গৃহবধুকে নষ্টা উপাধি দিয়ে লাথি মেরে কাচারী ঘরের বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দিয়েছেন পলাশবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলাম ফারুক। পরে তাকে চর থাপ্পড় মেরে চুলের মুঠি ধরে টেনে ঁেহচড়ে শালিস বৈঠক থেকে বের করে দেওয়া হয়। রক্ষা পান গৃহবধুর অন্তসত্ত্বা মেয়ে জাহানারা খাতুন। ঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে। গতকাল রোববার রাতে চেয়ারম্যান সহ ৭ জনের বিরুদ্ধে এজাহার দাখিল করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধু সায়মা খাতুন।

জানা যায়, উপজেলা পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে আটরাই গ্রামের গৃহবধু সায়মা খাতুন প্রতিবেশী মোঃ নুর আলমের পুত্র মুদি দোকানদার মোঃসাগরকে (২৮) চার দফায় ৬৭ হাজার টাকা ধার দেয়। পরবর্তীতে ওই গৃহবধু টাকা ফেরত চাইতে গেলে সাগর তাল-বাহানা করতে থাকে। নিরুপায় গৃহবধু বিষয়টি থানা ও চেয়ারম্যানকে লিখিতভাবে অভিযোগ দেয়। চেয়ারম্যান গত বুধবার ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে উভয়পক্ষকে শালিসে ডাকলেও সাগর না আসায় গত শুক্রবার চেয়ারম্যানের নিজ বাড়ি চকবোয়ালি ধোবাকল গ্রামে শালিস বৈঠকের ডাক দেয়। গৃহবধু নির্দিষ্ট দিনে বৈঠকে উপস্থিত হলেও রহস্য জনক কারনে চেয়ারম্যান পূনরায় শনিবার  বৈঠকের দিন ধার্য করেন।

গৃহবধু সায়মা খাতুন জানান, চেয়ারম্যান বিবাদী পক্ষের লোকজনের কাছ থেকে প্রায় আধা ঘন্টা ঘটনার আদ্যপান্ত শুনেন। পরে সায়মা ঘটনার বর্ণনা করতে গেলে চেয়ারম্যান মাত্র ২ মিনিট সময় বেধে দেয়। এবং সাক্ষী উপস্থাপন করতে চাইলেও চেয়ারম্যান বলেন তুমি ৫০ জন সাক্ষী আনলেও তোমার কথা আমি বিশ্বাস করি না। তোমার মতো নষ্টা ও পতিতা মেয়ের বিচার আমি করব না। প্রতিবাদ করলে এক পর্যায়ে চেয়ারম্যান আমাকে লাথি মেরে বারান্দা থেকে নিচে ফেলে দেয়। চওর থাপ্পর মেরে চুলের মুঠি ধরে টেনে হেঁচড়ে শালিস থেকে বের করে দেয়। চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিবাদী পক্ষের সাগর, সুলতান, মনছার, বক্কর সহ বেশ কয়েকজন আমার ছেলে সায়মুন (২৪), ভাই ফজলু (৬৭) ও রওশন আলী (৪৩) কে মারধর করে। এর আগেও তিনি মহুবার নামের এক ব্যাক্তিকে সালিশ বৈঠকে মারধর করেছিলেন।

এব্যাপারে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান মোফাখখারুল ইসলাম ফারুক বলেন, শালিস বৈঠকে তিনি কাউকে মারধর করেননি। তাকে রাজনৈতিক ভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

পার্বতীপুর মডেল থানা অফিসার্স ইনর্চাজ নাছির উদ্দিন মন্ডল গতকাল রবিবার রাত সাড়ে ১১টায় বলেন, নির্যাতীত গৃহবধুর লিখিত এজাহার পেয়েছি। মামলা দায়ের হয়েছে।