দিনাজপুর জেলায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ অর্জিত, বাম্পার ফলন

dinajpur-14-150x150মো.নুরুন্নবী বাবু.দিনাজপুর প্রতিনিধি  :
চলতি বোরো মৌসুমে দিনাজপুর জেলায় ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ অর্জিত হয়েছে। অর্জিত ধান সঠিক সময়ে কর্তন করে পেরে কৃষকেরা উৎসাহ বোধ করছে। অর্জিত বোরো ধান থেকে ফলন পাওয়া গেছে ৬ লক্ষ ৯০ হাজার ৫শ মেট্রিক টন চাল।

দিনাজপুর কৃষি অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আনোয়ারুল আলম জানান, এবারে বোরো মৌসুমে জেলার ১৩টি উপজেলার ১০২টি ইউনিয়নে ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৬৭৯ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ফলন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৬ লক্ষ ৮২ হাজার ৪০ মেট্রিক টন চাল। লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ১ লক্ষ ৫৮ হাজার ৮৫৬ হেক্টরে উপশী এবং ১৬ হাজার ৮২৩ হেক্টর জমিতে হাইব্রিড জাতের ধান রোপন নির্ধারণ করা হয়েছিল। লক্ষ্যমাত্রা অতিরিক্ত ১৭৩ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ অর্জিত হয়ে মোট ১ লক্ষ ৭৫ হাজার ৮৫২ হেক্টর জমিতে আবাদ অর্জিত হয়। এর মধ্যে ১ লক্ষ ৫৯ হাজার ১৩০ হেক্টরে উপশী এবং ১৬ হাজার ৭২২ হেক্টরে হাইব্রিড জাতের বোরো আবাদ হয়েছে। প্রতি হেক্টর উপশী ধান ৩ দশমিক ৮১ এবং হাইব্রিড ৪ দশমিক ৭৭ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। অর্জিত বোরোধান ৮০ ভাগ কর্তন করে ধান কৃষকেরা তাদের ঘরে তুলেছে। অবষিষ্ঠ ২০ ভাগ ধান কর্তনের কাজ চলছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে অবশিষ্ট ধান কর্তন করে কৃষকেরা ঘরে তুলতে সক্ষম হবে। এবারে অনুকূল আবহাওয়া এবং খড়া মৌসুম থাকায় কৃষকেরা তাদের বোরোধান সুন্দরভাবে কর্তন করে ঘরে তুলেছে। প্রকৃতিক কোন দূর্যোগ না থাকায় ধানের কোন ক্ষতি হয়নি। সব মিলে জেলায় বোর বাম্পার বোরোধান উৎপাদন হয়েছে। কৃষকেরা তাদের অর্জিত ধান ঘরে তুলতে পেরে উৎসাহ বোধ করছে। ধানের বাজারমূল্য ভাল রয়েছে। ধান আবাদ করে সব কৃষক এবার লাভবান হয়েছে।

জেলার বিরল উপজেলার বাজনাহার গ্রামের আদর্শ কৃষক সুনিল চন্দ্র দেব এই নুরুন্নবী বাবু কে জানান, এবারে তিনি ৩ একর জমিতে বোরো চাষ করেছে। এর মধ্যে ১ একর জমিতে হাইব্রিড জাতের এসিআই ও জাগরণ ধান রোপন করেছে। অপর ২ একর জমিতে ব্রি ধান, ২৮, ১৬ ও মিনিকেট ধান আবাদ করেছে। গত বছরও তিনি একই পরিমাণ জমিতে বোরো ধান করেছিল। গত বছরের তুলনায় এবারে ধানের ফলন ভালো পাওয়ার গেছে। কারণ এবারে নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ পেয়ে ধান ক্ষেতে সেচের সমস্যা হয়নি। সার ও কীটনাশক সহজেই বাজারে পাওয়া গেছে। একই কথা বলেন, সদর উপজেলার ভাতগ্রামের আদর্শ কৃষক মনির হোসেন। তিনি জানান, ৫ একর জমিতে বোরো ধান চাষ করেছেন। সার, কীটনাশক সরবরাহে কোন ব্যাঘাত না থাকায় সহজেই এবারে কৃষকেরা মনের আনন্দে ধান চাষ করছে। ধানের ফলন ভাল এবং সঠিক সময়ে ধান কর্তন করে ঘরে তুলতে পেরেছি। ধানের বাজার দর এখন ৭শ থেকে ৮শ টাকা মন।