দ্বিতীয় পর্যায়ে তিস্তা সেতুর কাজ চলছে ধীর গতিতে

lalmonirhat-10এস,এম সহিদুল ইসলাম লালমনিরহাট প্রতিনিধি ঃ লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ ও রংপুরের গঙ্গাচড়ার মধ্যে তিস্তা নদীর উপর আরেকটি সড়ক সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়েই কমে আসবে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরত্ব। এতে চলাচলে যেমন সময় কমে আসবে অন্যদিকে কমবে যাতায়াত খরচ আর প্রসার ঘটবে ব্যবসা-বাণিজ্যের। কিন্তু দেশের বর্তমান পরিস্থিতি ও অর্থাভাবে ধীরে ধীরে চলছে নির্মাণাধীন এই দ্বিতীয় তিস্তাা সেতুর কাজ।

লালমনিরহাট এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ২২ এপ্রিল অনুষ্ঠিত জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তিস্তা নদীর উপর গঙ্গাচড়া-কালীগঞ্জ সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।

স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে বৃহত্তর রংপুর-দিনাজপুরে গ্রামীণ যোগাযোগ ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে এটিকে অনুমোদন দেয়া হয়। ৮৫০ মিটার দৈর্ঘ্য মূল সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৩১ কোটি টাকা। এটি নির্মাণের দায়িত্ব পেয়েছে ‘ডাব্লিউ এমসিজি-নাভানা গ্রুপ’। এছাড়া কালীগঞ্জের কাকিনা হতে গঙ্গাচড়ার মহিপুর ঘাট পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সংযোগ সড়কের ব্যায় ধরা হয়েছে ১৩ কোটি টাকা এবং ওই সংযোগ সড়কে তিনটি কালভার্ট ও দুটি ছোট সেতুর নির্মাণ ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে প্র ায় ৯ কোটি টাকা। মূল সেতু ও পুরো সড়ক জুড়ে থাকছে আলোর ব্যবস্থা। গত বছর ২০ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই দ্বিতীয় তিস্তা সেতু নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, লালমনিরহাট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের তত্ত্বাবধায়নে সেতুর ২২৪টি পাইল এর মধ্যে ৯৫টির কাজ শেষ হয়েছে। বর্তমান লোড টেস্ট ও বেজ কাস্টিং এর প্রস্তুতি চলছে। অপরদিকে লালমনিরহাট-বুড়িমারী আঞ্চলিক মহাসড়কের সাথে সেতুর সংযোগের জন্য পাঁচটি প্যাকেজের আওতায় নির্মাণ করা হচ্ছে ৫ কিলোমিটার অ্যাপ্রোচ সড়ক। কিন্তু বিরামহীনভাবে চলতে থাকা সেতুর কাজ হঠাৎ করে থমকে যাওয়ায় জনমনে হতাশা দেখা দেয়।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রবীর বিশ্বাস বলেন, এ পর্যন্ত সেতুর কাজ ৪৫ ভাগ শেষ হয়েছে। কিন্তু ফান্ড সমস্যা ও দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে কিছুদিন ধরে কাজ কিছুটা কম হচ্ছে। এতে নির্দিষ্ট সময়ে কাজ শেষ নাও হতে পারে। লালমনিরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী খলিলুর রহমান জানান, ফান্ডে কিছু সমস্যা রয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন কারণে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মালামাল সঠিক সময়ে আনতে না পারায় কাজের গতি কিছুটা কমেছে।