বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন

indexডাঃ আওরঙ্গজেব কামাল ঃ বর্তমান সরকারের আইনি ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সারাদেশের বিআ

index1

রটিএ অফিস ও ট্রাফিক পুলিশের দুরর্নীতি ক্রমেই বেড়ে চলেছে

। বিআরটিএ অফিস ও ট্রাফিক পুলিশের হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে পরিবহন মালিক ও চালকরা। বিআরটিএ অফিস ও ট্রাফিক পুলিশের উৎকোচ এখন প্রাকাশ্যে রুপ নিয়েছে । দেখে মনে হয় এরা যেন সরকাররের কাছ থেকে এরা বন্ধবস্ত নিয়েছে । যে কারনে বর্তমানে কোন কাজেই আসছে না ট্রাফিক আইন লংঘনবিরোধী অভিযান। থেমে নেই চলন্ত যানবাহনের চালকদের মোবাইল ফোনে কথা বলা। পুলিশের সামনে দিব্যি মোবাইল ফোনে কথা বলে যাচ্ছেন চালকরা। এমনকি ট্রাফিক সার্জেন্টরাও চালকদের চেয়ে কম যাচ্ছেন না। তারা চলন্ত মোটরসাইকেলে মোবাইল ফোন ব্যবহার করছেন। মোবাইল ফোনে কথা বলার পাশাপাশি ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার, প্রাইভেট কার ও বাসচালকদের সিটবেল্ট বাঁধা, মোটরসাইকেল আরোহীদের হেলমেট ব্যবহার এবং লেন পদ্ধতিতে গাড়ি চালানোর কথা থাকলেও এর কোন কিছুই বাস্তবায়িত হচ্ছে না। এ বিষয়ে পুলিশের তদারকি নেই বললেই চলে। তবে প্রশাসনের রয়েছে সবই ফাঁকা বুলি। পুরনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযানের কথা থাকলেও রহস্যজনক করণে তা চালানো হচ্ছে না। বর্তমানে ট্রাফিক পুলিশ শুধু রাস্তায় দাড়িয়ে থাকে নির্ধারিত ইজরারা আদায়ের জন্য । নিয়মবহিরভুত যানবাহনের নিকট থেকে প্রতিনিয়ত আদায় করছে তাদের কথিত চাঁদা । যে কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে  যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সব নিয়ম-কানুন। যার প্রতিফলনে বেড়েছে সিমাহীন সড়ক দূরঘটনা। পুলিশ ও বিআরটিএ’র হুংকার আর মহাপরিকল্পনা আঁতুড়ঘরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে কিছু দূরর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য। ফলে জন মনে প্রশ্ন উঠেছে বিআরটিএ ও ট্রাফিক পুলিশের দুরর্নীতি বন্দ হবে কবে ? মাত্র দু একশ টাকায় ট্রাফিক পুলিশকে দিলে যানবহনের ত্র“টি মুক্ত হচ্ছে সহজে । প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানাযায় সারাদেশে প্রায় ২০ লক্ষধিক নামে বেনামে বিকট শব্দের ইজ্ঞিলচালিত যানবহনসহ ২০ বছরের পুরনো ১৭ হাজার ৫৮৯টি বাস-ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও নিরবিঘেœ চলছে শুধু ট্রাফিক পুলিশকে ম্যানেজ করে। অপরদিকে বিআরটিএ অফিস গুলি লিখিত, মৌখিক ও ফিল্ড টেস্টসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং আইনগত নিয়ম পালন ছাড়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স ও অনন্য স্যাটিফিকেট ইস্যু করায় যানবাহন ও যোগাযোগ ব্যাবস্থায় বর্তমানে বিশৃঙ্খলা আবস্থা বিরাজ করছে । বর্তমান সরকারের যোগাযোগমন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেন জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় বলেন প্রয়োজনীয় যোগ্যতা না থাকলে ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবে না। এছাড়া সকল নিয়ম পালন করে গাড়ীর লাইসেন্স,রুট পারমিট পাবে । কাগজ পত্র ছাড়া কোন গাড়ী রাস্তায় চলবে না । কিন্তু  এর বাস্তবতাটা কতটুকু সেটা এখন দেখার বিষয়। নীতির কথা ও আইন শুধু কাগজেপত্রে থাকবে , বাস্তবে এর যথাযথ প্রয়োগ হবে না এটা ঠিক নয়। তবে মন্ত্রীর এসব কথায় কিছু দূরর্নীতিবাজ ট্রাফিক পুলিশ ও কর্মকর্তা , কর্মচারী লাভ হয়েছে । তারা তাদের উৎকোচের পরিমানটা একটু বাড়িয়েছে । রাস্তায় দাড়ালে দেখাযাবে ফাঁকা ও নিরাপদ স্থানে একজন কনষ্টেবল নিয়ে ট্রাফিক অফিসার দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন উৎকোচ আদায়ের জন্য ।এসব হাল চিত্র দেখে মনে হয় চাঁদা আদায়ের জন্য সরকার তাদেরকে নিয়োগ করেছে । সামান্য দু একশ টাকার জন্য নিজেদের নৈতিকতাকে গলাটিপে হত্যা করে এ জাতিকে ঠেলে দিচ্ছে মৃত্যুর দিকে । আইনে ফাঁক ফোকর ও প্রশাষনিক র্দরর্নীতির করারনে পরিবহন সেক্টরে এখন নৈরাজ্য স্মৃষ্টি হয়েছে । আর এ সব কারনে সড়ক দূরঘটনা ও যানযট এখন এদেশের প্রধান সমস্যা হিসাবে রুপনিয়েছে । তথ্য অনুষন্ধানে জানাযায় , রাস্তায় নিরাপত্তাহীন অননুমোদিত গাড়ির সংখ্য প্রায় ২১ লক্ষধিক । অননুমোদিত গাড়ির বিষয়ে মোটরযান অধ্যাদেশের ১৪৯ ধারায় মামলা করার বিধান রয়েছে। অথচ এ মামলায় সর্বোচ্চ জরিমানা মাত্র ২০০ টাকা।  ফিটনেসবিহীন গাড়ি চালানোর জন্য মামলা করা হয় ১৫২ ধারায়। এ ধারায় সর্বোচ্চ অর্থদণ্ড ৭০০ টাকা। তবে লক্কও ঝক্কও গাড়ির ব্যাপারে মোটরযান অধ্যাদেশে কোন ধারা নেই। ইন্স্যুরেন্সবিহীন গাড়ি চালালে ৫০০ টাকা, হেলমেট ব্যবহার না করলে ১৪০ ধারায় ৫০০ টাকা ও ১৪৯ ধারায় ৩০০ টাকা, রং পার্কিয়ের জন্য ২০০ টাকা, সিগন্যাল অমান্য করলে ১৪০ ধারায় ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করার বিধান রয়েছে। এছাড়া গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যাবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এত কিছু থাকতে কিভাবে রেজিস্ট্রেশনবিহীন পরিবেশ দুষনকারী হাজার হাজার অটোবাইক, নছিমন, করিমন, ভটভটি, টমটম ,বাস, ট্রাক, মাইক্রো, পিকআপ রাস্তায় বেপরোয়াভাবে চলাচল করছে । সড়ক নিরাপত্তা জোরদার এবং নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে বুয়েটের এক্সিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউট চিহ্নিত সারা দেশের ২০৯টি দুর্ঘটনাপ্রবণ স্থান নিরাপদ করতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এরই মধ্যে একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এছাড়া সরকার ইতিমধ্যে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা আরো দ্রুত এবং স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পাদনে আউটসোর্সিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যানবাহনে ওভারলোডিং, টেকিং এবং অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো বন্ধে কার্যক্রম ও তরনিত করা হয়েছে। সড়ক মেরামত, সংরক্ষণ এবং স্থায়ী মেরামতের জন্য আর্থিক সামর্থ্য অর্জনে রোড ফান্ড গঠনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সড়ক পরিবহন ও ট্রাফিক আইন প্রণয়ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।  অবৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স বন্ধে ডিজিটাল স্মার্ট কার্ড ব্যবহারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এসব করা হলেও তাতে লাভ কি ? সরিসার মধ্যে ভূত থাকলে সে ভূত তাড়াবে কে ? অভিজ্ঞজনদের মতে এত কিছু সরকার করছে ঠিকই কিন্তু তাতে কোন লাভ হবেনা যতক্ষন পর্যান্ত এসব সেক্টরের দূরর্নীতি মুক্ত করা না যাবে । দূরর্নীতিবাজরা সব সময় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ কওে চলে। ফলে অপরাধ মুলক কর্মকাণ্ড হরহামেশায় করে রেহাই পেয়ে যায় । বিভিন্ন সুত্রে  জানাযায়, গত এক বছরে সিটবেল্ট বাঁধাসহ নানা কারণে তিন সহস্রাধিক যানবাহনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে । গত বছর ১ নভেম্বর থেকে আটঘাট বেঁধে মাঠে নেমে পড়ে ট্রাফিক পুলিশ। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। প্রথম কয়েকদিন লোক দেখানো অভিযান চালানো হলেও রহস্যজনক কারণে ওই অভিযান থেমে যায়।এ অভিযানে জনসাধারনের কোন লাভ না হলেও ট্রাফিক পুলিশের পকেট ভরেছে । ভুক্ত ভোগীরা জানায়,নিরাপদ সড়ক ব্যাবস্থা বাস্তবায়ন না হওয়ার পিছনে  ট্রাফিক জনবল সংকট, অপরিকল্পিত ভাবে যানবাহন তীব্র আকারে চলাচল , ফিটনেস গাড়ির অভাব,লক্কর ঝক্কর যানবহনের যান্ত্রিক ত্র“টি, অদক্ষ ও মাদক আসক্ত চালক, ট্রাফিক পুলিশের চাঁদাবাজী ও বিআরটিএ অফিসের দূরর্নীতি এর জন্য দায়ী । এর পর রয়েছ সয়ং মন্ত্রলয়ের মধ্যে দ্বিধাদন্ধ । যারফলে পরীক্ষা ছাড়াই বাস-ট্রাকের জন্য ২৪ হাজার পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদান করা বিষয়ে হয়েছে তুলকালাম কান্ড ঘটেছে । এক প্রতিবেদনে দেখাগেছে ঢাকায় চলাচলকারী প্রায় ৫ লাখ যানবাহন ও বহিরাগত ৩ লাখ যানবহন নিয়ন্ত্রণ করছে মাত্র ২ হাজার ১৭৫ জন ট্রাফিক পুলিশ। এ বিষয়ে বিআরটিএ’র চেয়ারম্যান  জানান, ট্রাফিক আইনবিরোধী অভিযান অব্যাহত আছে। এবং মোবাইল ফোনে কথা বলায় তাৎক্ষণিক শাস্তি দেয়া হচ্ছে। তবে ট্রাফিক আইন মানার ব্যাপারে আরও জনসচেতনাতার প্রয়োজন । কোন চালক চলন্ত গাড়িতে মোবাইলে কথা বললে তাকে নিষেধ করার পাশাপাশি কঠোর শাস্তির আওতায় আনার জন্য জনসাধারনের মধ্যে সচেনতা স্মৃষ্টি একান্ত প্রয়োজন। সরকারের নির্দেশে এ নিয়ম আইন প্রয়োগকারী সংস্থাসহ সবাইকে পালন করতে হবে। এর ব্যতিক্রম হলে কাউকে ছাড় পাবেনা। ২০০৭ সালের মোটরযান আইনের ১৪০ ধারা অনুযায়ী এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে চলন্ত অবস্তায় মোবাইল ফোনে কথাবলা নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সরকার। এ আইন অমান্য করলে চালকের এক মাসের কারাদণ্ড বা ৫০০ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া বিধান রয়েছে । কিন্তু নতুন কোন আইন না হওয়ায় পুলিশকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে মোবাইল ফোনে কথা বলেই যাচ্ছে চালকরা। কিন্তু এসবের জন্য দায়ী কে অবশ্যই প্রাশানিক কর্মকর্তা । সচেতনজনরা মতে বিআরটিএ অফিস ও ট্রাফিক পুলিশের দুরর্নীতি মুক্ত হলে দূরর্ঘটনা ও যানযট নিরাশন করা সম্ভাব ।