‘আমরাই বিএনপিকে ফরমালিন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছি’ : শেখ হাসিনা

25902_as52বিডি রিপোর্ট 24 ডটকম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কাদের মোল্লার ফাঁসি ঠেকাতে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি ও জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন ফোন করেছিলেন। বাংলাদেশের কোন লোকটা আছে এ ধরনের ফোন পাওয়ার পরেও নিজের সিদ্ধান্তে কাজ করে। প্রভাবশালী অনেকেই চাপ দিয়েছেন। কয়জনের এমন সাহস থাকে। থাকে শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যার। আমাকে প্রশ্ন করে লাভ নেই। যেটা করার সেটা আমি করবোই। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেই না। বিচার চলছে, বিচার হবেই। আমার সময় মতো আমাকে কাজ করতে দিন। বৃহস্পতিবার বিকালে গণভবনে জাপান সফরের ওপর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। বিএনপির নির্বাচনে অংশ না নেয়া তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত দাবি করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কোন দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করলে সেটা তাদের দলের সিদ্ধান্ত। ভুল সিদ্ধান্ত নিলে তাদের ভুলের খেসারত দিতে হবে। তারা আন্দোলন করে নির্বাচন ঠেকাতে চেয়েছিল। জনগণ তাদের ডাকে সাড়া দেয়নি। সরকারকে পচতে সময় দিয়েছি খালেদা জিয়ার এমন বক্তব্যের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে  শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচনে অংশ না নিয়ে বিএনপিই পচে গেছে। এখন ফরমালিন দিয়ে আমরাই বিএনপিকে তাজা রাখছি।  নারায়ণগঞ্জ ও ফেনীর ঘটনার সম্পর্কে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘটনা ঘটার সঙ্গে সঙ্গে আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। এ ঘটনার যারাই জড়িত তাদের বিচারের আওতায় আনা হবে। ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান হত্যাকা-ে সরকারের দলের লোক জড়িত বলে স্বীকার করেন প্রধানমন্ত্রী।  র‌্যাব বিলুপ্ত করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৪ সালে র‌্যাব  গঠনের পর ৫ বছরে অন্তত ১ হাজার লোক হত্যা করেছে। তখন আমরা প্রতিবাদ করেছিলাম। বিএনপি তখন প্রশংসা করেছিল। কিন্তু ধীরে ধীরে এটি একটি প্রতিষ্ঠানে রূপান্তুরিত হয়েছে। তাই এখনই ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব নয়। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার অবৈধ কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, সরকারের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন করছে কে, কারা? তাদের  বৈধতা কি? বৈধতার প্রশ্ন যাদের জন্মে, তারা অবৈধ বলে কিভাবে?  শেখ হাসিনা বলেন, ৪০ ভাগ ভোটার ভোট দেয়ার পর কেন নির্বাচন বৈধ হবে না? বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সংবিধানেই রয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে তিনি বলেন, উনারা এলেই তো হতো। ইলেকশন না করার সিদ্ধান্ত তার দলের। কোনো রাজনীতিক যদি ভুল সিদ্ধান্ত নেয়, সে ভুলের খেসারত তাকে দিতে হবে। যারা বৈধতার প্রশ্ন আনে, তাদের জন্ম অবৈধভাবে। যাদের জন্ম অবৈধভাবে, তারা সব অবৈধ দেখে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের কোন পরিকল্পনা আছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আপনারা কি চান? আবারও জ্বালাও-পোড়াও, খুন-খারাবি চান? চাইলে দিয়ে দিব। আমার কোন সমস্যা নাই। জামায়াত নিয়ে সম্প্রতি আইনমন্ত্রীর বক্তব্য প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জামায়াত থাকবে কি থাকবে না এটা উচ্চ আদালতের বিষয়। আর এ নিয়ে আইনমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা সঠিক। বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নাই। এর আগে সংবাদ সম্মেলনে ৪ দিনের জাপান সফরকে সফল বলে দাবি করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, জাপান সফর সফল হয়েছে। এ সফরের মধ্য দিয়ে জাপানের সঙ্গে সম্পর্কের নতুন মাত্রা যোগ হলো। সফরকালে ২ দেশ যৌথ ইশতেহারে সই করেছি। জাপানের দেওয়া ৬’শ কোটি ডলার উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশকে উন্নয়নের মডেল হিসেবে দেখছে। জাপানের বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের আমন্ত্রণে ২৪শে মে রাতে জাপান সফরে যান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার তিনি দেশে ফেরেন। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর  শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে প্রথম জাপান সফরে যান।