তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটায় চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে শ্রমিকের সমাবেশ

sunamganj-18অরুন চক্রবর্তী, সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি ঃ
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার যাদুকাটা নদীর বালু-পাথর মহাল থেকে রয়্যালিটির নামে শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় বন্দের দাবিতে শ্রমিক-ব্যবসায়ীরা সমাবেশ করেছেন। সোমবার বিকেলে তাহিরপুর যাদুকাটা নদীতীরে অনুষ্ঠিত সমাবেশে শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে স্থানীয় সরকারে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিসহ সুশীল সমাজের প্রনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। শ্রমিক সমাবেশে বক্তারা জানান, যাদুকাটা নদীতে রয়্যালিটির নামে ইজারাদার সেলিম আহমদ গং বালু-পাথর আহরণে নিয়োজিত শ্রমিক ব্যবসায়ীদের জিম্মি করে কিছুদিন ধরে অতিরিক্ত টোল আদায় করছে। শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা এই চাঁদাবাজি বন্দের প্রতিবাদ করায় ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে তাদের মারধর করা হচ্ছে। এর প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে শ্রমিকরা যাদুকাটা নদীতে অনির্দিষ্টকালের নৌ ধর্মঘট পালন করছেন। এদিকে এই নদীর শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে সুনামগঞ্জ সদর-বিশ্বম্ভরপুরে অবস্থিত ধোপাজান বালু মহালেও একই চক্র টোল আদায়ের নামে চাঁদাবাজি করছে বলে সুনামগঞ্জ জেলা বালু-পাথর ব্যবসায়ী সমিতি রবিবার জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন। তারা শহরে মাইকিং করে বালু-পাথর ক্রয় বিক্রয় বন্ধ করে দিয়েছেন। শ্রমিকদের অভিযোগ জেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তা ও পুলিশকে ম্যানেজ করে ইজারাদাররা রয়্যালিটির নামে নিয়ম বহির্ভূতভাবে চাঁদা আদায় করছে। অন্যদিকে চাঁদাবাজ চক্র সোমবার আরেকটি পক্ষকে দিয়ে শ্রমিক-ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পাল্টা স্মারকলিপি দিয়েছে। সোমবার বিকেলে তাহিরপুর যাদুকটা নদীতীরে অবস্থিত সমাবেশে শ্রমিকদের প্রতি সংহতি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন তাহিরপুর উপজেলা চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান কামরুল, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সোলেমান তালুকদার, ফাজিলপুর বালিপাথর ব্যাবসায়ী সমিতির সাধারন স¤পাদক ছয়ফুল আলম, মিয়ারচর বালিপাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গনী মিয়া প্রমুখ। সুনামগঞ্জ বালি পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি কামরুজ্জামান দারা বলেন, আমরা তিনটি মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছি যতক্ষণ পর্যন্ত রয়্যালিটির নামে ধোপাজান নদীতে চাদাবাজি বন্ধ না হবে ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা বালি-পাথর কেনা বেচা বন্ধ রাখব। সুনামগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ হারুন অর রশীদ বলেন, ব্যবসায়ীদের স্মারকলিপি আমরা পেয়েছি। সোমবার আরেকটি পাল্টা স্মারকলিপি পেয়েছি। যারা অবৈধভাবে চাদাবাজিতে লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।##