বিলিনের পথে কুড়িগ্রামের মৃৎ শিল্প

Kurigram photo from sourov copyসৌরভ কুমার ঘোষ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ

কুড়িগ্রামের পাল পাড়ার মানুষদের জিনিস পত্র তৈরি করে জীবন-জিবিকা চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে। অনেক নৈপুন্যের পেশা হলেও তা আজ বিলিনের পথে। তাই অনেকে এ পেশা ছেড়ে অন্য পেশা অবলম্বন করলেও এখনো শতাধিক পরিবার পূর্ব পুরুষের পেশা নিয়ে জীবন যুদ্ধ করছেন।

জানা গেছে- সময়ের বিবর্তনে ও প্রযুক্তির উন্নয়নে  প্লাষ্টিক, মেলামাইল ও সিরামিকের জিনিসপত্রের সহজলভ্যতা এবং এসবের চাহিদা বৃদ্ধির কারণে কদর কমে গেছে মাটির তৈরী পন্য সামগ্রীর । ফলে মাটির তৈরী মৃৎ শিল্পের সামগ্রী তৈরী ও বিক্রির কাজ করে মৃৎ শিল্পীদের পরিবার সঠিকভাবে চলছে না । কিন্তু তারপরও কর্মসংস্থানের অভাব ও বাপ দাদার ঐতিহ্যকে ধরে রাখতে এই পেশার সাথে জড়িয়ে রয়েছে অনেক পরিবার। শুধু রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের মানাবাড়ী পালপাড়া গ্রামেই রয়েছে শতাধিক পাল পরিবার। আদি যুগ থেকে পাল বংশের লোকেরা এই পেশায় সম্পৃক্ত থাকায় তাদের পেশা অনুযায়ী গ্রামের নাম হয়েছে পালপাড়া। ওই গ্রামের পাল বংশের লোকদেও সাথে কথা বললে জানা যায়- পালদের নানা ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা। তারা তাদের সন্তানদের অনেককে এই পেশায় সম্পৃক্ত না করলেও জীবনের বাকী দিন গুলো তারা পূর্ব পুরুষদের পেশা নিয়েই থাকতে চান।

তবে ওই গ্রামের আরেকজন জানান ভিন্ন কথা। মৃৎ শিল্পীদের দূর্দিন চলার কথা তিনি মানতে নারাজ । তার মতে মেধা, মনোশীলতা ও পরিশ্রম করে সময় উপযোগী মাটির উপকরন তৈরী করা হলেও অভাব হয় না। মেধা খাটিয়ে পরিশ্রম করে ধৈয্য সহকারে মানসম্মত পণ্য সামগ্রী তৈরীর মাধ্যমে দূর্দিন মোকবেলা করা যায় এবং তারা তাই করছেন বলে জানান। এ সময় মাটির উপকরনাদী তৈরী করে দেখান তিনি। পরিচয় করে দেন মাটির তৈরী ঘট, ধুপাতি, কলস, ডিয়ার, খুটি, সরা স্লীম, ফুলের টপ, গাঁজার স্লীম, পাতিল এবং ব্যাংকের সাথে। বংশানুক্রমে তিনি মৃৎ শিল্প পেশার সাথে সম্পৃক্ত। অনেকে বাপ দাদা পূর্ব পুরুষদের এই পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেলেও তিনি এবং তার স্বামী তা করেননি। সে গ্রামেরই একজন জানান- তাদের বিয়ের পর থেকে প্রায় ২৫ বছরে স্বামী-স্ত্রীর নির্লস পরিশ্রমে এই পেশা দিয়েই তারা জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। অর্ধাহারে অনাহারে কখনো থাকতে হয়নি। বরং এলাকায় এক একর (১’শ শতক) জমিও ক্রয় করেছেন তারা। শুধু তাই নয় এই পেশা দিয়েই ছেলেরা উচ্চতর ডিগ্রী নেয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছেন বলে জানান।

সনাতন ধর্মাম্বলীদের বারো মাসে তের পুঁজায় ব্যবহৃত সামগ্রীর অধিকাংশই মাটির তৈরী । স্বল্প মূল্য ,সহজলভ্যতা এবং একবার ব্যবহারের ক্ষেত্রে মাটির তৈরী জিনিস পত্রেরই বেশী চাহিদা। তাছাড়াও গ্রামাঞ্চলে এখনো মাটির তৈরী কিছু সামগ্রীর চাহিদা রয়েছে।  তবে সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে ফুলের টব, খেলনা সামগ্রী ও আধুনিক মানের মাটির তৈরী জিনিস পত্র তৈরী করে বিদেশে রপ্তানীর ক্ষেত্রে সরকারী ভাবে উদ্যোগ নেয়া হলে মৃৎ শিল্প আজও প্রতিযোগীতায় এগিয়ে থাকত বলে জানান। আর্থিক দৈন্যতা মোকাবেলায় সরকারী সহায়তা দাবী করেন ওই গ্রামের মানিক পালসহ অনেকে।