টেকনাফ থেকে অপহৃত সরকার দলীয় দু’নেতার সন্ধান এক মাসেও মেলেনি

cox-01এম.শাহজাহান চৌধুরী শাহীন, কক্সবাজার :
কক্সবাজারের সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ থেকে অপহৃত আওয়ামীলীগনেতা নুরমোহাম্মদ ও যুবলীগনেতা সালমানের সন্ধান দীর্ঘ এক মাসেও না পাওয়া পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। গত ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর পরিচয় দিয়ে এ দুই নেতাকে মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে র‌্যাব ও পুলিশ এ পর্যন্ত ঘটনার কথা স্বীকার করেনি। অপহৃত যদি মৃত হয়ে থাকে তবে তাদের স্বামীর লাশটা যেন তারা পান।

জানা যায়, টেকনাফ পৌর আওয়ামীলীগ সাত নম্বর ওয়ার্ড সাধারন সম্পাদক মৃত ছৈয়দ আহমদের ছেলে নুর মোহাম্মদ লাসটিপ ও তার শ্যালক ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা মৃত দলিলুর রহমানের ছেলে সালমানকে গত গত ২৬ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে টেকনাফ পৌরসভার লামার বাজার এলাকা থেকে আইন-শৃঙ্খলার বাহিনীর পরিচয় দিয়ে অপহরণ করা হয়। কিন্তু তাদেরকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর আর কোন খদিস পাওয়া যাচ্ছে না। । নিখোঁজ দুইজনই বিবাহিত এবং তাদের দুজনের দেড় বছর ও এক বছরের দু্িট সন্তান রয়েছে।

পরিবারের অভিযোগ, আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা তাদেরকে তুলে নিয়ে গেছে। ওই দিন একটি কালো রঙ্গের কার ও একটি মাইক্রোবাস যোগে ১০/১২ জনের স্বশস্ত্র একদল দুর্বৃত্ত নিজেদের আইন-শংৃঙ্খলার বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে তাদের জোর পূর্বক গাড়ীতে তুলে নিয়ে যায়। তাদেরকে বিভিন্ন স্থানে সন্ধান করেও না পেয়ে ওইদিন রাতে অপহƒত নুর মোহাম্মদের শ্বাশুরী ও সালমানের মা গোল মেহের বাদী হয়ে টেকনাফ মডেল থানায় একটি ডায়েরি (নং-১২১০) দায়ের করেন।

তারা বলছেন, টেকনাফ-কক্সবাজার সড়কে বিজিবি ও যৌথ বাহিনীর ৩টি চেকপোষ্টে প্রত্যেক যানবাহন তল্লাশী করা হয় । সেই কারণে দুই নেতাকে আইন শংখলা বাহিনী ছাড়া অন্য কেউ ধরে কোন অবস্থাতেই নিয়ে যেতে পারে না।

এদিকে, সরকার দলীয় দুই নেতাকে মুক্তি দেওয়ার নামে একটি চক্র পরিবারের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সময় গত ২ মে কক্সবাজার গোয়েন্দা (ডিবি ) পুলিশের হাতে সেলিম ও জাকারিয়া নামে প্রতারক আটক হন।

অপহৃত সালমানের বড় বোন দিল আরা বেগম বলেন, আটক উক্ত দুই প্রতারক আমার মোবাইলে ফোনে জানান যে,নুর মোহাম্মদ ও সালমান র‌্যাবের কাছে আছে। মোটা অঙ্কের টাকা দিলে তারা তাদেরকে ছাড়িয়ে নিতে পারবে। র‌্যাবের অফিসারের সঙ্গে তাদের ভাল সুসস্পক রয়েছে বলেও জানানো হয়। তবে, তাদের খোঁজ নিতে তিন হাজার টাকার বিকাশ করতে বলেন। এরপর দিল আরা বেগমের সন্দেহ হয়।

কক্সবাজার জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি মনজুর বলেন, অপহৃত দুই জনকে ছাড়িয়ে নেওয়ার কথা বলে টাকা আদায়ের চেষ্টা করে ওই দুই যুবক। টাকানেওয়ার জন্য লিংকরোড এলাকায় আসলে গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল লিংক রোড থেকে তাদের আটক করে এবং পরে টেকনাফ থানা পুলিশে সোর্পদ করা হয়।

আটককৃত দুই প্রতারক হচ্ছে, কক্সবাজার শহরের ঘোনাপাড়ার নূরুল ইসলাম মাঝির ছেলে হাফেজ সেলিম (২৭) ও একই এলাকার মৃত মোকতার আহাম্মদের ছেলে জাকারিয়া (৩৫)। এ ঘটনায় ৩ মে নুর মোহাম্মদের শ্বাশুরী ও সালমানের মা গোল মেহের বাদী হয়ে এরা দুই জনের বিরুদ্ধেটেকনাফ থানায় ( মামলানং-০২) দায়ের করেন। এদেরকে আদালতেসোর্পদ করা হলে আদালত তাদেরকে কারাগারে প্রেরণ করেন বলে জানান তিনি।

গোল মেহের তাদের ছবি নিয়ে বিলাপ করতে করতে বললেন, আমার জামাই ও ছেলে আওয়ামীলীগ করতো, এমপি বদির সাথে থাকতো সেটাই কি তাদের অপরাধ। আমি আমার ছেলে ও জামাতাকে জীবিত ফেরত পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য চাই।

অপহৃতদের স্ত্রী রাশেদা আকতার ও সাবিনা আকতার বললেন, আমরা অন্তত এটুকু জানতে চাই, আমাদের স্বামী জীবিত আছে- নাকি মারা গেছে।

তারা বলেন, যদি মৃত হয়ে থাকে তবে তাদের স্বামীর লাশটা যেন তারা পান।

ঘটনার পর থেকে নুর মোহাম্মদ ও সালমানের পরিবারে কান্না থামছে না। পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর শোক ভূলতে পারছেনা কেউই।

টেকনাফ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মোক্তার হোসেন জানান, এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে ।