গাইবান্ধার গুচ্ছ গ্রামের বেহাল অবস্থা

gaibandha-01গাইবান্ধা থেকে আঃ খালেক মন্ডলঃ গাইবান্ধা সদর উপজেলার বলমঝাড় গুচ্ছগ্রামের বেশিরভাগ ঘরে এখন তালা ঝুলছে। জরাজীর্ণ ঘরের কারণে সেগুলোর অধিকাংশই বসবাসের অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। এছাড়া এলাকায় কর্মসংস্থানের সুযোগ না থাকায় লোকজন কাজের সন্ধানে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। এছাড়া ভূমিহীনদের মধ্যে ঘর বরাদ্দ দেয়ার কথা থাকলেও ঘর এবং জমি আছে এমন কিছু পরিবারকে শুরুতে সেখানে স্থান দেয়ায় বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়ে পরবর্তীতে নিজ বাড়িতে তারা ফিরে গেছে। ফলে গুচ্ছ গ্রামটিতে এখন বসবাসকারি লোকের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে যারা ওই গুচ্ছ গ্রামে এখনও অবস্থান করছে অভাব অনটনের পড়ে তারা চরম দুদর্শার মধ্যে এখন দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।

২০০৩ সালে গুচ্ছগ্রামটি গাইবান্ধা-পলাশবাড়ি সড়কের ধারে নির্মাণ করা হয়। সড়কের পাশের মাটি কেটে সেখানে গুচ্ছ গ্রাম তৈরী করায় এর পাশে বড় বড় খাদের সৃষ্টি হয়। ফলে পরবর্তীতে বেশ কিছু শিশু ওই খাদের পানিতে ডুবে মারাও যায়। গুচ্ছ গ্রাম প্রতিষ্ঠার শুরুতে ১শ ২০টি পরিবারকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নেয়া হয় । পরবর্তীতে গুচ্ছগ্রামটিকে আশ্রয়ন প্রকল্পের আওতায় নেয়া হয়। পার্শ্ববর্তী এলাকার দরিদ্র পরিবারগুলোর পুনর্বাসনে গুচ্ছগ্রামের ঘরগুলো বরাদ্দ দেয়ার কথা ছিল।

অভিযোগ রয়েছে সেসময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের পক্ষপাতিত্বের কারণে গরীবের পরিবারের পাশাপাশি ঘর এবং জমি আছে এমন পরিবারও সেখানে ঘরের বরাদ্দ পায়। প্রথম অবস্থায় কয়েক বছর ধরে ওইসব পরিবারগুলোকে ভিজিডির চাল বরাদ্দ দেয়া হয়। ফলে স্বচ্ছল পরিবারগুলো সেখানেই থেকে যায়। কিন্তু পরবর্তীতে ভিজিডির চাল বরাদ্দ বন্ধ হলে স্বচ্ছল পরিবারগুলো ঘরে তালা লাগিয়ে নিজ বাড়িতে ফিরে যায়। এরপরও যারা সেখানে অবস্থান করে তারা কর্মসংস্থানের অভাবে অসহায় অবস্থার মধ্যে পড়ে। এ কারণে অনেক পরিবার গুচ্ছ গ্রামের ঘরে তালা ঝুলিয়ে কাজের সন্ধানে বাইরে চলে যায়। এদিকে ওই গুচ্ছগ্রামের ব্যারাকগুলোর পাশেই বড় বড় খাদ থাকায় বর্ষাকালে সেগুলোতে প্রচুর পানি জমে। ফলে শিশুরা ঘরের সিঁড়ি বেয়ে খেলতে খেলতে ওই খাদে পড়ে গেলে এ প্রর্যন্ত ৭ জনের মৃত্যু হয়।

এদিকে দীর্ঘদিন গুচ্ছগ্রামের ব্যারাকগুলো সংস্কার না করায় সেগুলোর এখন জরাজীর্ণ অবস্থা। মাথার উপর ঘরের ভেঙ্গে যাওয়া ছাদ দিয়ে যেমন সূর্যের কিরণ ভেতরে প্রবেশ করছে, পাশাপাশি বর্ষাকালে ভাঙ্গা ছাদ দিয়ে পানি ঝরতে থাকে। অপরদিকে শীতকালে কুয়াশার আস্তর ঘরের ভেতরে হিমেল পরিবেশের সৃষ্টি করে। অর্থাভাবে আশ্রিত পরিবারগুলো ঘরের সংস্কার করতে পারছে না। ফলে সারা বছরই ওই ঘরের নিচে চরম দুর্ভোগের মধ্যে তাদের থাকতে হয়। শুরুর দিকে ওই গুচ্ছ গ্রামে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হলেও এখন তা আর নেই। গরীব গুচ্ছগ্রামবাসি বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে না পারায় তাদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে।

এদিকে স্বচ্ছল পরিবারকে ওই গুচ্ছ গ্রামে থাকবার সুযোগ দেবার কথা অস্বীকার করেছেন তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান মোজাম্মেল হক মন্ডল। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই বাস্তুহারা পরিবারদের সেখানে থাকার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু বলমঝাড় ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান এমারুল ইসলাম সাবিন আজ রোববার বিকেলে ’প্রেস বিডি ২৪ ডট কম’ কে জানান, বাড়িভিটে থাকা অনেক পরিবারকে এখানে জায়গা দেয়া হয়েছে- বিষয়টি তিনি জানেন। ওইসব পরিবার এখন এখানে অবস্থান না করলেও ঘরগুলো তাদের দখলে আছে বলে স্বীকার করেন। বর্তমানে গুচ্ছগ্রামে বসবাসকারি পরিবারগুলোর জীবন মান উন্নয়নে তিনি পদক্ষেপ গ্রহনের চেষ্টা করছেন বলে জানান।

এব্যাপারে গাইবান্ধার জেলা প্রশাসক মোঃ এহছানে এলাহীর সাথে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, গুচ্ছগ্রামে ঘরবাড়ি সংস্কারের কোন বরাদ্দ নেই। তবে ভিন্ন খাত থেকে এগুলো মেরামতের উদ্যোগ গ্রহন করা হবে। সেইসাথে সেখানে নিয়ম বহির্ভুতভাবে যাদের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত বাস্তুহারাদের পুনর্বাসন করা হবে তিনি জানান।